ঢাকা – ১৩তম জাতীয় সংসদীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি চলাকালীন, ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশ (আইএবি) জামায়াত‑ই‑ইসলামি‑নেতৃত্বাধীন জোট থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত জানায়। জামায়াতের সহকারী সচিব জেনারেল আহসানুল মাহবুব জুবায়ের এই ঘটনার তৎক্ষণাৎ মন্তব্যে তিনি “এইসব ঘটনা রাজনীতিতে স্বাভাবিক” বলে প্রকাশ করেন।
আইএবি তার কেন্দ্রীয় অফিসে বিকেলবেলায় একটি সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করে জোট ত্যাগের কারণ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরে। পার্টির মুখপাত্র গাজি আতাউর রহমান জানান, আইএবি স্বাধীনভাবে ২৬৮টি নির্বাচনী এলাকায় প্রার্থী দায়ের করবে এবং অবশিষ্ট ৩০০টি আসন থেকে তাদের নীতি-সিদ্ধান্তের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ প্রার্থীদের সমর্থন করবে।
আতাউর আরও উল্লেখ করেন, আইএবি মোট ২৭০টি আসনে নামাবলীর আবেদন জমা দিয়েছে, যার মধ্যে দুইটি আপিলের মাধ্যমে বাতিল হয়েছে; বাকি ২৬৮টি আবেদন এখনও কার্যকর এবং কোনো প্রার্থী তাদের নাম প্রত্যাহার করবে না। তিনি জোটের আসন ভাগাভাগি আলোচনায় জামায়াতের “অধিকারের” আচরণকে আঘাতজনক বলে সমালোচনা করেন এবং এই আচরণই তাদের আত্মসম্মান ক্ষতিগ্রস্ত করার প্রধান কারণ বলে উল্লেখ করেন।
জামায়াতের কেন্দ্রীয় প্রচার প্রধান জুবায়ের মতে, জোটের ভাঙ্গন ঘটেনি; এটি কোনো আনুষ্ঠানিক জোট নয়, বরং পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে কাজ করা একটি সমিতি ছিল। তিনি বলেন, আইএবি সমঝোতা অর্জনে ব্যর্থ হওয়ায় এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে এবং জোটের কাঠামো ভেঙে গিয়েছে এমন কোনো প্রমাণ নেই।
আলাপের সময় জুবায়ে উল্লেখ করেন, “আমরা তাদের জন্য যথাযথ সংখ্যক আসন রাখার ব্যবস্থা করেছিলাম। লিয়াজন কমিটি সভায় সকল দল একসাথে সিদ্ধান্ত নেয়, তবে আইএবি উপস্থিত হয়নি।” তিনি এই পরিস্থিতি নিয়ে মন্তব্য করে বলেন, “এইসব ঘটনা রাজনীতিতে স্বাভাবিক।” এই কথা রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জোটের অভ্যন্তরীণ সমন্বয় ও যোগাযোগের ঘাটতি প্রকাশ করে।
আতাউর জোট ত্যাগের আরেকটি কারণ হিসেবে আসন ভাগের প্রক্রিয়ায় আত্মসম্মানের আঘাতকে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, “আসন বাড়তে পারে বা কমতে পারে, তবে আমাদের আত্মসম্মান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তাই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।” এই বক্তব্যের পর জুবায়ে জোটের কাঠামো ভাঙা নয়, বরং সমঝোতার অভাবের কারণে পারস্পরিক সম্পর্কের পরিবর্তন ঘটেছে বলে জোর দেন।
প্রতিপক্ষের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা যায়, আইএবির স্বাধীনভাবে ২৬৮টি আসনে প্রার্থী দায়েরের পরিকল্পনা নির্বাচনী পরিসরে তার প্রভাব বাড়াতে পারে। তবে জামায়াতের সঙ্গে সমঝোতা না হওয়ায় উভয় পার্টির ভোট ভাগাভাগি ও জোটের শক্তি হ্রাস পেতে পারে। বিশেষ করে, নির্বাচনের শেষ পর্যায়ে আসন ভাগের আলোচনায় উভয় দলের অবস্থান পুনর্মূল্যায়ন করা হতে পারে।
বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত দেন, এই জোটবিচ্ছেদ নির্বাচনী কৌশলে নতুন গতিবিধি সৃষ্টি করবে। জামায়াতের সঙ্গে সমঝোতা না হওয়ায় আইএবি তার নিজস্ব ভোটভিত্তি গড়ে তুলতে এবং অন্যান্য ছোট পার্টির সঙ্গে সম্ভাব্য জোট গঠনে মনোযোগ দিতে পারে। অন্যদিকে, জামায়াতের জন্য আইএবির প্রস্থান তার ভোটভিত্তি সংকুচিত করতে পারে, তবে অন্যান্য জোটের সঙ্গে নতুন সমঝোতার সম্ভাবনা উন্মুক্ত হতে পারে।
নির্বাচনের সময়সূচি অনুযায়ী, ১৩তম জাতীয় সংসদীয় নির্বাচন শীঘ্রই অনুষ্ঠিত হবে এবং উভয় পার্টি এই পরিবর্তনকে তাদের নির্বাচনী কৌশলে অন্তর্ভুক্ত করবে। জোটের পুনর্গঠন, আসন ভাগের পুনর্বিবেচনা এবং নতুন সমঝোতার সম্ভাবনা আগামী সপ্তাহে রাজনৈতিক আলোচনার মূল বিষয় হয়ে দাঁড়াবে।
সারসংক্ষেপে, ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশ জামায়াত‑ই‑ইসলামি জোট ত্যাগের সিদ্ধান্ত নেয় এবং স্বাধীনভাবে ২৬৮টি আসনে প্রার্থী দায়ের করবে। জামায়াতের সহকারী সচিব জুবায়ের মন্তব্যে তিনি এই ঘটনাকে রাজনীতির স্বাভাবিক অংশ হিসেবে উল্লেখ করেন। উভয় পক্ষের সমঝোতার অভাব এবং আসন ভাগের প্রক্রিয়ায় আত্মসম্মানের ক্ষতি এই সিদ্ধান্তের মূল কারণ হিসেবে উঠে এসেছে। ভবিষ্যতে এই জোটবিচ্ছেদ নির্বাচনী গতিবিধি ও ভোট ভাগাভাগিতে কী প্রভাব ফেলবে তা রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের নজরে থাকবে।



