দিল্লি ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে রাত্রি ভোরে এয়ার ইন্ডিয়ার নিউ ইয়র্ক গন্তব্যে যাত্রা করা একটি A350 বিমান ট্যাক্সি করার সময় ডান ইঞ্জিনে একটি কার্গো কন্টেনার ঢুকে গিয়েছে। ঘটনাটি স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার ৫:২৫ এ ঘটেছে, যখন বিমানটি পার্কিং বে-র দিকে এগোচ্ছিল। ইঞ্জিনে কন্টেনার প্রবেশের ফলে ইঞ্জিনের বাহ্যিক অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং বিমানটি মেরামতের জন্য গ্রাউন্ডেড করা হয়েছে। কোনো যাত্রী বা ক্রু সদস্যের ক্ষতি রিপোর্ট করা হয়নি।
বিমানটি ইরানের আকাশসীমা বন্ধ থাকার কারণে রুট পরিবর্তন করে দিল্লিতে ফিরে এসেছিল। নিউ ইয়র্কের জন্য নির্ধারিত ফ্লাইটটি দিল্লিতে অবতরণ করার পর ট্যাক্সি পথে কুয়াশার কারণে দৃশ্যমানতা কম ছিল, ফলে ট্যাক্সি ওয়ে-তে চলমান একটি মালবাহী গাড়ির চাকা খুলে গিয়ে কন্টেনারটি ট্যাক্সি সংযোগস্থলে পড়ে যায়। গাড়ির চালক কন্টেনারটি পড়ে যাওয়া লক্ষ্য করে দ্রুত গাড়ি সরিয়ে নেয়, তবে কন্টেনারটি ট্যাক্সি পথে থেকে যায় এবং ডানদিকের ইঞ্জিনের শক্তিশালী টানে তা ভেতরে টেনে নেওয়া হয়।
বিমানটির মধ্যে প্রায় ২৪০ জন যাত্রী এবং ছয় থেকে আটজন ক্রু সদস্য ছিলেন। কন্টেনারটি ধাতব ধ্বংসাবশেষের মতো গঠনযুক্ত হওয়ায় ইঞ্জিনের রোটর ব্লেডে আঘাত হানায়, ফলে ইঞ্জিনের কার্যক্ষমতা হ্রাস পায়। দুর্ঘটনার পর ট্যাক্সি ওয়ে থেকে ধাতব অবশিষ্টাংশ সরিয়ে বিমানটি নির্ধারিত স্ট্যান্ডে নিয়ে যাওয়া হয়। এয়ার ইন্ডিয়া দ্রুত মেরামতের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের ঘোষণা দেয়।
ভারতের বেসামরিক বিমান পরিবহন নিয়ন্ত্রক সংস্থা (DGCA) ঘটনাটির কারণ বিশ্লেষণ এবং দায়িত্ব নির্ধারণের জন্য পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু করেছে। তদন্তের মধ্যে ট্যাক্সি ওয়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা, গুদাম গাড়ির রক্ষণাবেক্ষণ রেকর্ড এবং কন্টেনার স্থাপনের পদ্ধতি অন্তর্ভুক্ত থাকবে। এ পর্যন্ত কোনো প্রাথমিক ত্রুটি প্রকাশিত হয়নি, তবে DGCA বিমানবন্দরের ভূমি নিরাপত্তা প্রোটোকল পুনর্বিবেচনার সম্ভাবনা নির্দেশ করেছে।
এই অনন্য ঘটনা এয়ার ইন্ডিয়ার A350 ফ্লিটের অপারেশনাল শিডিউলে প্রভাব ফেলতে পারে। বর্তমানে এয়ার ইন্ডিয়া লন্ডন এবং নিউ ইয়র্কসহ বহু আন্তর্জাতিক রুটে ছয়টি A350 পরিচালনা করে; গ্রাউন্ডেড হওয়া বিমানটি এই রুটগুলোর মধ্যে একটি বা একাধিকের ফ্লাইটে বিলম্ব সৃষ্টি করতে পারে। ফ্লাইট বাতিল বা পুনর্নিয়োগের ফলে যাত্রীদের পুনর্বিন্যাস, অতিরিক্ত খরচ এবং সম্ভাব্য ক্ষতিপূরণ দাবি বাড়তে পারে। এছাড়া, এয়ার ইন্ডিয়ার স্লট ব্যবহার এবং আয়েও স্বল্পমেয়াদে প্রভাব পড়বে।
বিমানবন্দরের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং সেবা প্রদানকারী সংস্থাগুলোর জন্যও এই ঘটনা সতর্কতা স্বরূপ। কন্টেনারটি গাড়ির চাকা খুলে যাওয়ার ফলে ঘটেছে বলে, গুদাম গাড়ির রক্ষণাবেক্ষণ ও চাকার সুরক্ষা মানদণ্ডের পুনঃমূল্যায়ন প্রয়োজন হতে পারে। ভবিষ্যতে ট্যাক্সি ওয়ে-তে অতিরিক্ত সিগন্যালিং বা ক্যামেরা সিস্টেম স্থাপন করে অনধিকৃত বস্তু সনাক্তকরণে সহায়তা করা যেতে পারে।
বাণিজ্যিক দৃষ্টিকোণ থেকে, এয়ার ইন্ডিয়ার জন্য এই ধরণের দুর্ঘটনা বিমানের রক্ষণাবেক্ষণ ও বীমা খরচ বাড়াতে পারে। ইঞ্জিনের মেরামত এবং ডাউনটাইমের জন্য অতিরিক্ত ব্যয় কোম্পানির আর্থিক ফলাফলে প্রভাব ফেলবে। একই সঙ্গে, গ্রাহক বিশ্বাসের ক্ষতি দীর্ঘমেয়াদে রিজার্ভেশন হ্রাসের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে, বিশেষ করে আন্তর্জাতিক ব্যবসা ও পর্যটন সেক্টরে।
বাজার বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন, এয়ার ইন্ডিয়ার শেয়ার মূল্যে স্বল্পমেয়াদে অস্থিরতা দেখা দিতে পারে, যদিও সরাসরি শেয়ার মূল্যের পরিবর্তন ঘটেছে কিনা তা নির্ভর করবে কোম্পানির ক্ষতিপূরণ নীতি এবং পুনরুদ্ধার পরিকল্পনার উপর। এছাড়া, এয়ারলাইন শিল্পে গ্রাউন্ড সেফটি মানদণ্ডের কঠোরতা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা সকল ক্যারিয়ারের জন্য অতিরিক্ত অপারেশনাল ব্যয় সৃষ্টি করতে পারে।
দিল্লি বিমানবন্দরের অন্যান্য এয়ারলাইন ও সেবা প্রদানকারী সংস্থাগুলোর জন্যও এই ঘটনা সতর্কতা স্বরূপ। ট্যাক্সি ওয়ে-তে কন্টেনার বা অন্যান্য বড় বস্তু পড়ে যাওয়া রোধে নতুন চেকলিস্ট এবং রিয়েল-টাইম মনিটরিং সিস্টেম প্রয়োগের প্রয়োজনীয়তা বাড়বে। নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নতি না হলে ভবিষ্যতে অনুরূপ ঘটনা পুনরাবৃত্তি হওয়ার ঝুঁকি থাকবে, যা বিমানবন্দরের সামগ্রিক কার্যকারিতা ও সুনামকে প্রভাবিত করতে পারে।
সারসংক্ষেপে, দিল্লি ইন্দিরা গান্ধী বিমানবন্দরে এয়ার ইন্ডিয়া A350 এর ইঞ্জিনে কার্গো কন্টেনার ঢোকার ঘটনা কোনো মানবিক ক্ষতি না ঘটলেও, এয়ারলাইন ও বিমানবন্দরের ব্যবসায়িক কার্যক্রমে উল্লেখযোগ্য বিঘ্ন সৃষ্টি করেছে। DGCA এর তদন্ত ফলাফল এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থার নিরাপত্তা উন্নয়ন পরিকল্পনা শিল্পের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা নীতি গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



