মেটা কোম্পানি ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ থেকে তার স্বতন্ত্র VR মিটিং অ্যাপ ওয়ার্করুমস বন্ধ করার ঘোষণা দিয়েছে। এই সিদ্ধান্তের পেছনে হরাইজন প্ল্যাটফর্মের উন্নয়ন এবং উৎপাদনশীলতা টুলের বিস্তৃত সমন্বয় রয়েছে। ব্যবহারকারীরা এই তারিখের পরে অ্যাপটি আর চালু করতে পারবে না।
ওয়ার্করুমস প্রথম প্রকাশের সময় ভার্চুয়াল রিয়েলিটি পরিবেশে দলীয় মিটিং ও সহযোগিতার জন্য একটি স্বতন্ত্র স্থান হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছিল। তবে মেটা এখন জানিয়েছে যে হরাইজনের সাম্প্রতিক আপডেটগুলো ইতিমধ্যে বিভিন্ন উৎপাদনশীলতা অ্যাপ ও টুলকে সমর্থন করে, ফলে আলাদা অ্যাপের প্রয়োজনীয়তা কমে গেছে।
হরাইজন প্ল্যাটফর্মের নতুন সংস্করণে মিটিং রুম, ফাইল শেয়ারিং, রিয়েল-টাইম কো-ডিজাইন ইত্যাদি ফিচার একত্রে সংযুক্ত হয়েছে। এই একীভূত পরিবেশ ব্যবহারকারীদের একাধিক টুল একসাথে ব্যবহার করার সুবিধা দেয়, যা পূর্বে ওয়ার্করুমসের একক ফাংশনের তুলনায় বেশি নমনীয়।
ওয়ার্করুমসের বন্ধের পাশাপাশি মেটা মেটাভার্সে ব্যয় কমানোর ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছে। সম্প্রতি কোম্পানি রিয়েলিটি ল্যাবস বিভাগে ১,০০০-এর বেশি কর্মী ছাঁটাই করার পরিকল্পনা প্রকাশ করে। এই পদক্ষেপের অংশ হিসেবে তিনটি VR স্টুডিও বন্ধ করা হয়েছে।
রিয়েলিটি ল্যাবস ২০২১ সাল থেকে মোট ৭০ বিলিয়ন ডলারের বেশি ক্ষতি করেছে। এই আর্থিক অবনতি মেটাকে মেটাভার্সের ওপরের বিনিয়োগ পুনর্বিবেচনা করতে বাধ্য করেছে। ফলে কোম্পানি এখন নতুন দিকনির্দেশে সম্পদ স্থানান্তর করছে।
মেটা এখন ওয়্যারেবল ডিভাইসের উন্নয়নে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে, বিশেষ করে এআই-চালিত রে-বেন স্মার্ট গ্লাসের দিকে। এই গ্লাসগুলো ব্যবহারকারীর চোখের মাধ্যমে তথ্য প্রদর্শন এবং ভয়েস কমান্ডের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণের সুবিধা দেয়, যা ভবিষ্যতে দৈনন্দিন কাজের ধরণে পরিবর্তন আনতে পারে।
অতিরিক্তভাবে, মেটা ফেব্রুয়ারি মাসে হরাইজন ম্যানেজড সার্ভিসেস নামক সাবস্ক্রিপশন সেবাটিও বন্ধ করবে। এই সেবা প্রতিষ্ঠানগুলোকে কুয়েস্ট হেডসেটের পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণে সহায়তা করত। সেবার বন্ধের ফলে গ্রাহকদের নিজস্বভাবে ডিভাইস পরিচালনা করতে হবে।
ওয়ার্করুমস অ্যাপের ব্যবহারকারীরা ১৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তাদের ডেটা ডাউনলোড করতে পারবেন। ডেটা এক্সপোর্টের সময়সীমা শেষ হলে অ্যাপের সব তথ্য মুছে ফেলা হবে এবং পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হবে না। ব্যবহারকারীদের এই শেষ তারিখের আগে প্রয়োজনীয় ফাইল সংরক্ষণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
মেটার এই ধারাবাহিক পরিবর্তনগুলো কোম্পানির দীর্ঘমেয়াদী কৌশলকে প্রতিফলিত করে। মেটাভার্সের ওপরের ব্যয় কমিয়ে ওয়্যারেবল ও উৎপাদনশীলতা টুলে বিনিয়োগ বাড়িয়ে কোম্পানি নতুন আয় উৎস তৈরি করার লক্ষ্য রাখছে। ভবিষ্যতে এই পরিবর্তনগুলো ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতা ও কাজের পদ্ধতিতে কী প্রভাব ফেলবে তা সময়ই বলবে।



