প্রযুক্তি জগতে নতুন প্রবণতা দেখা দিচ্ছে: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা টুল ব্যবহার করে কোডিং জ্ঞান না থাকা মানুষগুলোও স্বল্প সময়ের মধ্যে নিজেরাই অ্যাপ তৈরি করে ব্যবহার করছেন। এই ধরনের অ্যাপগুলোকে প্রায়শই মাইক্রো, পার্সোনাল বা ফ্লিটিং অ্যাপ বলা হয়, কারণ সেগুলো শুধুমাত্র সৃষ্টিকর্তা বা তার সীমিত বন্ধুরা ব্যবহার করে এবং দীর্ঘমেয়াদে প্রকাশের উদ্দেশ্য থাকে না।
একটি উদাহরণে দেখা যায় রেবেকা ইউ, যিনি এক সপ্তাহের ছুটি ব্যবহার করে নিজের জন্য একটি ডাইনিং অ্যাপ তৈরি করেন। গ্রুপ চ্যাটে খাবারের সিদ্ধান্ত নিতে না পারার ফলে সৃষ্ট ক্লান্তি দূর করতে তিনি ক্লদ এবং চ্যাটজিপিটি ব্যবহার করে কোড লিখে “Where2Eat” নামে একটি ওয়েব অ্যাপ তৈরি করেন। পুরো প্রক্রিয়ায় তাকে মাত্র সাত দিন লেগে যায়, এবং অ্যাপটি তার ও বন্ধুরা একসাথে রেস্টুরেন্ট বাছাই করতে সাহায্য করে।
রেবেকা ইউ’র উদ্যোগটি দেখিয়ে দিল কিভাবে AI‑সক্ষম কোড জেনারেটরগুলো সাধারণ ব্যবহারকারীর জন্য নতুন সৃজনশীল সম্ভাবনা উন্মোচন করছে। তিনি উল্লেখ করেন যে, সপ্তাহের শেষের আগে সময়ের ফাঁকা ব্যবহার করে নিজের প্রয়োজনের জন্য অ্যাপ তৈরি করা তার জন্য আদর্শ সময় ছিল। ফলে তিনি নিজের এবং বন্ধুদের জন্য একটি সহজ, স্বয়ংক্রিয় রেস্টুরেন্ট সুপারিশ সিস্টেম গড়ে তুলতে সক্ষম হন।
এই ধরণের ব্যক্তিগত অ্যাপগুলোকে মাইক্রো অ্যাপ বলা হয়, কারণ সেগুলো সাধারণত ছোট স্কেলে, স্বল্প সময়ের জন্য এবং সীমিত ব্যবহারকারীর জন্য তৈরি হয়। প্রচলিত অ্যাপ স্টোরে প্রকাশ না করে, সৃষ্টিকর্তা নিজের ফোন বা ডিভাইসে সরাসরি চালাতে পারে, অথবা টেস্টফ্লাইটের মতো প্ল্যাটফর্মে বেটা পর্যায়ে রাখতে পারে। ফলে ডেভেলপারদের জন্য বড় বাজারে প্রবেশের ঝুঁকি ও খরচ কমে যায়, আর ব্যবহারকারীর জন্য দ্রুত সমাধান পাওয়া যায়।
অন্যান্য উদাহরণে দেখা যায় জর্ডি আমাট, যিনি পরিবারিক ছুটির সময় একটী গেমিং ওয়েব অ্যাপ তৈরি করে শেষের পর তা বন্ধ করে দেন। শামিল্লাহ ব্যাংকিয়া, ডন ক্যাপিটালের পার্টনার, নিজের জন্য একটি পডকাস্ট অনুবাদ ওয়েব অ্যাপ তৈরি করছেন, যাতে তিনি বিভিন্ন ভাষার পডকাস্ট সহজে শুনতে পারেন। একইভাবে, ডারেল ইথারিংটন, যিনি আগে টেকক্রাঞ্চের লেখক ছিলেন, এখন নিজের পডকাস্ট অনুবাদ অ্যাপের উপর কাজ করছেন।
এই প্রকল্পগুলোতে ব্যবহার করা টুলগুলোতে রয়েছে ক্লদ কোড, রেপ্লিট, বোল্ট এবং লাভেবল। এসব প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারকারীকে প্রাকৃতিক ভাষা ইনপুটের মাধ্যমে কোড জেনারেট করতে সাহায্য করে, ফলে প্রচলিত কোডিং দক্ষতা ছাড়াই কার্যকরী অ্যাপ তৈরি সম্ভব হয়। ব্যবহারকারীরা শুধু অ্যাপের কাঠামো ও চাহিদা বর্ণনা করেন, আর AI সিস্টেম তা বাস্তব কোডে রূপান্তর করে দেয়।
বেশিরভাগ মাইক্রো অ্যাপ এখনো ওয়েব ভিত্তিক, তবে মোবাইল অ্যাপের চাহিদাও বাড়ছে। কিছু ব্যবহারকারী অ্যাপল ডেভেলপার হিসেবে নিবন্ধন করে তাদের ব্যক্তিগত অ্যাপ টেস্টফ্লাইটে আপলোড করেন, যাতে শুধুমাত্র নির্দিষ্ট ডিভাইসে পরীক্ষা করা যায়। এই পদ্ধতি অ্যাপের গোপনীয়তা বজায় রাখে এবং ব্যবহারকারীর নিয়ন্ত্রণে রাখে।
AI‑চালিত কোডিং টুলের দ্রুত অগ্রগতি ব্যক্তিগত সমস্যার সমাধানে নতুন দৃষ্টিকোণ এনে দিচ্ছে। এখন কোনো ব্যক্তি তার দৈনন্দিন কাজের জন্য প্রয়োজনীয় ফিচারগুলো নিজেই ডিজাইন করে তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবহার করতে পারে, যা আগে কেবল বড় সফটওয়্যার কোম্পানিগুলোরই ক্ষমতা ছিল। ফলে প্রযুক্তি ব্যবহারকারী ও সৃষ্টিকর্তার মধ্যে ফাঁক কমে যাচ্ছে।
ভবিষ্যতে এই প্রবণতা আরও বিস্তৃত হতে পারে, বিশেষত যখন AI মডেলগুলো আরো নির্ভুল ও ব্যবহারবান্ধব হবে। ব্যক্তিগত অ্যাপের সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ডেটা নিরাপত্তা, গোপনীয়তা এবং লাইসেন্সিং সংক্রান্ত নতুন চ্যালেঞ্জও উদ্ভব হতে পারে। তবুও, স্বল্প সময়ে নিজস্ব সমাধান তৈরি করার ক্ষমতা ব্যবহারকারীর উৎপাদনশীলতা ও সৃজনশীলতাকে উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াবে, যা ডিজিটাল জীবনের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।



