বিগ ব্যাশ লিগের সাম্প্রতিক ম্যাচে সিডনি থান্ডার ২০ ওভারে ১৮৯ রান সংগ্রহ করে জয়লাভের পথে এগিয়ে যায়। ডেভিড ওয়ার্নার ৬৫ রান করে দলের স্কোরে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন, তবে ম্যাচের প্রধান আলোয় ছিলেন সিডনি সিক্সারের ক্যাপ্টেন স্টিভেন স্মিথ।
ডেভিড ওয়ার্নার ১১০ ball-এ ৬৫ রান তৈরি করেন, যা থান্ডারের মোট ১৮৯ রানের মধ্যে একটি স্থিতিশীল ভিত্তি গড়ে দেয়। তার আক্রমণাত্মক শটগুলো দলকে দ্রুত রেট বাড়াতে সাহায্য করে, যদিও শেষ পর্যন্ত তিনি নিজেরই পারফরম্যান্সে সেরা খেলোয়াড়ের শিরোপা জিততে পারেননি।
সিক্সার ব্যাটিং ইনিংসের সময় স্মিথের পারফরম্যান্স দর্শকদের মুগ্ধ করে। তিনি ৪২ ball-এ ঠিক ১০০ রান করে সেঞ্চুরি সম্পন্ন করেন এবং আউট হন। তার আক্রমণাত্মক শৈলীতে ৯টি চতুর্থ এবং ৫টি ছয়টি মারার মাধ্যমে স্কোর দ্রুত বাড়িয়ে তোলেন। এই শটগুলো সিক্সারের মোট স্কোরে বড় ভূমিকা রাখে।
বাটিংয়ের পাশাপাশি স্মিথের বোলিংও ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। তিনি মাত্র ১৬ ball-এ পাঁচটি উইকেট নেন, যা সিক্সারের পেশাদারী দিককে আরও শক্তিশালী করে। তার দ্রুত গতি ও সঠিক লাইন-লেংথের সমন্বয় ব্যাটসম্যানদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করে।
স্মিথের একটি ওভারে সর্বোচ্চ রান সংগ্রহের রেকর্ডও ভেঙে যায়। পূর্বে রায়ান হ্যাডলির ১২তম ওভারে ৩২ রান ছিল রেকর্ড, কিন্তু স্মিথ চারটি ছয় এবং একটি চার মারার পাশাপাশি একটি নো-বল ও একটি ওয়াইডের মাধ্যমে ঐ রেকর্ডকে অতিক্রম করেন। এই ওভারটি তার আক্রমণাত্মক শক্তি ও সৃজনশীলতা প্রদর্শন করে।
যদিও স্মিথের শতক চমকপ্রদ ছিল, তবু তিনি বিগ ব্যাশের দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ডে নাম লেখাতে পারেননি। এই রেকর্ডটি ক্রেগ সিমন্স (২০১৪) এবং মিচেল ওয়েইন (গত বছর) যৌথভাবে ধারণ করেন, উভয়ই ৩৯ ball-এ শতক অর্জন করেছেন। স্মিথ ৩৮ রান পর্যন্ত পৌঁছানোর পর দুই রান দরকার ছিল, তবে তিনি মাত্র একটি রানই যোগ করতে পেরেছিলেন এবং শেষ পর্যন্ত ৪১ ball-এ শতক সম্পন্ন করেন। ফলে তিনি দ্রুততম সেঞ্চুরির শিরোপা থেকে দূরে থাকেন।
সামগ্রিকভাবে, এই ম্যাচে সিডনি থান্ডার এবং সিক্সার উভয়েরই শক্তিশালী পারফরম্যান্স দেখা যায়। থান্ডার ১৮৯ রানের উচ্চ স্কোরে প্রতিপক্ষকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে, আর সিক্সার স্মিথের ব্যাটিং ও বোলিং উভয় দিকের উজ্জ্বল প্রদর্শন দলকে জয়ের পথে এগিয়ে নিয়ে যায়। ভবিষ্যতে উভয় দলই এই ধরনের পারফরম্যান্স বজায় রাখলে লিগের শীর্ষে পৌঁছানোর সম্ভাবনা বাড়বে।
বিগ ব্যাশের এই রেকর্ডময় দিনটি ক্রিকেট প্রেমিকদের জন্য স্মরণীয় হয়ে থাকবে, যেখানে একদিকে থান্ডারের শক্তিশালী ব্যাটিং এবং অন্যদিকে সিক্সারের ক্যাপ্টেনের বহুমুখী দক্ষতা উভয়ই আলাদা আলাদা দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।



