আর্জেন্টিনার ডিফেন্ডার লিওনার্দো মার্টিনেজ, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের হয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবলে খেলা চালিয়ে গেছেন, তবে সাম্প্রতিক চোটের পর তিনি ফুটবল ছেড়ে দেওয়ার কথা ভাবার স্বীকারোক্তি দিয়েছেন।
ক্যারিয়ারের শুরুর দিন থেকেই মার্টিনেজ ধারাবাহিকভাবে আঘাতের সঙ্গে লড়াই করে আসছেন, বিশেষ করে গত কয়েক বছরে পা ও হাঁটুতে আঘাত তার পারফরম্যান্সে বড় প্রভাব ফেলেছে।
২০২২-২৩ মৌসুমের শেষের দিকে পায়ে আঘাত তার সমস্যার সূচনা চিহ্নিত করে। সেই চোটের পর পুনর্বাসনের প্রক্রিয়া শুরু হলেও সম্পূর্ণ সুস্থ হতে সময় লেগে যায়।
পরবর্তী মৌসুমে তিনি প্রিমিয়ার লিগে মাত্র এগারোটি ম্যাচই খেলতে সক্ষম হন, যা তার দলের জন্য প্রত্যাশিত অবদানকে সীমাবদ্ধ করে দেয়।
২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে মার্টিনেজের হাঁটুর এনকোয়ি লিগামেন্টে গুরুতর টিয়ার হয়, যা তাকে তৎক্ষণাৎ অস্ত্রোপচারের দরকারি করে তোলে।
অস্ত্রোপচারের পর প্রায় দশ মাসের দীর্ঘ বিরতি তাকে মাঠের বাইরে রাখে, এবং এই সময়ে শারীরিক ও মানসিক দু’ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়।
মার্টিনেজ জানান, চোটের প্রথম কয়েক সপ্তাহে তিনি সম্পূর্ণভাবে ভেঙে পড়েছিলেন; ব্যথা এতটাই তীব্র ছিল যে তিনি নিজের ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেছিলেন।
সেই সময় তিনি বাড়ি ফিরে পরিবারসহ আর্জেন্টিনায় ফিরে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন, কারণ তিনি আর কষ্ট সহ্য করতে পারছিলেন না এবং জীবনের আনন্দ উপভোগ করতে চেয়েছিলেন।
তিন সপ্তাহের শোককাল তাকে নিজের থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেয়, ফলে তিনি নিজের অস্তিত্বের সঙ্গে সংযোগ হারিয়ে ফেলেছিলেন।
পুনর্বাসন প্রক্রিয়ায় শারীরিক শক্তি পুনর্গঠন ছাড়াও মানসিক ও ব্যক্তিগত দিক থেকে নিজেকে পুনরায় গড়ে তুলতে হয়।
মার্টিনেজের মতে, এই সময়ে তিনি বুঝতে পারেন যে তিনি শুধুমাত্র ফুটবলার নন; তার পরিচয়কে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করতে হয়।
নতুন রুটিন, থেরাপি ও প্রশিক্ষণ তাকে নিজের সীমা পুনরায় নির্ধারণে সাহায্য করে, এবং একই সঙ্গে তার আত্মবিশ্বাসকে পুনরুজ্জীবিত করে।
সম্প্রতি তিনি পুনর্বাসনের শেষ পর্যায়ে পৌঁছে, এবং ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের প্রশিক্ষণ শিবিরে ফিরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
ক্লাবের সঙ্গে তার চুক্তি এখনও সক্রিয়, এবং তিনি পুরোপুরি সুস্থ হয়ে আবার মাঠে নামার লক্ষ্য রাখছেন, যাতে দলকে তার অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা দিয়ে সমর্থন করতে পারেন।



