সিআইএ পরিচালক জন রাটক্লিফ এবং ভেনেজুয়েলার ইন্টারিম প্রেসিডেন্ট ডেলসি রড্রিগেজ বৃহস্পতিবার ক্যারাকাসে দুই ঘণ্টা দীর্ঘ বৈঠক করেন, যা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে অনুষ্ঠিত হয়। এই সাক্ষাৎকারের মূল উদ্দেশ্য ছিল যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক মাদ্রো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসের গ্রেফতারের পর দু’পাশের সম্পর্ক পুনর্গঠন।
বৈঠকের সময় উভয় পক্ষ ভেনেজুয়েলার অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা স্বার্থের দৃষ্টিকোণ থেকে ভেনেজুয়েলা আর আমেরিকান বিরোধীর নিরাপদ আশ্রয়স্থল হতে পারবে না, এ বিষয়ে মত প্রকাশ করেন।
একই দিনে রড্রিগেজ তার প্রথম রাষ্ট্রীয় সংবাদের ভাষণ দেন, যেখানে তেল শিল্পে সংস্কার আনার পরিকল্পনা ঘোষণা করা হয়। নতুন নীতি অনুসারে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য তেল খাতে প্রবেশের সুযোগ বাড়ানো হবে, যা মাদ্রোর পূর্বের নীতি থেকে একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন।
তার ভাষণে রড্রিগেজ উল্লেখ করেন যে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে রাজনৈতিক সংলাপের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করতে ভয় পান না এবং দেশের গৌরব ও মর্যাদা রক্ষার জন্য দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের পক্ষ থেকে তেল কোম্পানিগুলোকে ভেনেজুয়েলায় প্রবেশের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে উভয় দেশের নাগরিকের জন্য আয় বৃদ্ধি পায় এবং যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞাাধীন তেল বিক্রয়ের উপর নিয়ন্ত্রণ স্থায়ীভাবে বজায় থাকে।
ট্রাম্পের আদেশে তেল সংস্থাগুলোকে কমপক্ষে ১০০ বিলিয়ন ডলার (প্রায় ৭৫ বিলিয়ন পাউন্ড) বিনিয়োগের আহ্বান জানানো হয়েছে, তবে একটি তেল কোম্পানির নির্বাহী সম্প্রতি উল্লেখ করেন যে বর্তমান পরিস্থিতিতে ভেনেজুয়েলা বিনিয়োগের জন্য উপযুক্ত নয়।
ডেলসি রড্রিগেজ, যিনি পূর্বে উপ-রাষ্ট্রপতি পদে ছিলেন, ৫ জানুয়ারি ইন্টারিম প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেন, যখন যুক্তরাষ্ট্রের সশস্ত্র বাহিনী ক্যারাকাসে মাদ্রো ও তার স্ত্রীকে গ্রেফতার করে। দুজনেই নিউ ইয়র্কে আটক আছেন এবং মাদক পাচারসহ অন্যান্য অভিযোগে দোষ স্বীকার না করার অবস্থান গ্রহণ করেছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের একটি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা রাটক্লিফের ভেনেজুয়েলা সফরকে ঐতিহাসিক বলে উল্লেখ করেন এবং রাটক্লিফকে ক্যাবিনেট-স্তরের প্রথম কর্মকর্তারূপে ভেনেজুয়েলা সফরকারী হিসেবে চিহ্নিত করেন।
সেই দিনই ট্রাম্প ওয়াশিংটনে ভেনেজুয়েলার বিরোধী নেতা মারিয়া করিনা মাচাদোর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন, যেখানে মাচাদো ট্রাম্পকে তার নোবেল শান্তি পুরস্কারের মেডেল উপস্থাপন করেন।
রড্রিগেজের সংবাদের ভাষণে তিনি দেশের বর্তমান পরিস্থিতি ‘খুব কঠিন’ বলে উল্লেখ করেন, যা দেশের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক চ্যালেঞ্জের প্রতি ইঙ্গিত করে।
বিশ্লেষকরা আশা করেন যে এই বৈঠক এবং তেল শিল্পের সংস্কার ভেনেজুয়েলার অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিক নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। পরবর্তী সময়ে উভয় পক্ষের আরও উচ্চপর্যায়ের আলোচনার মাধ্যমে বিনিয়োগ, তেল বিক্রয় এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত চুক্তি গড়ে তোলার সম্ভাবনা রয়েছে।



