অ্যাডভান্স কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ (এসি আই) পিএলসি গত বৃহস্পতিবার পরিচালনা পর্ষদের সভায় আবাসন ও সেমিকন্ডাক্টর ক্ষেত্রের নতুন উদ্যোগ অনুমোদন করে। পর্ষদ সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে কোম্পানি দুটি পৃথক সংস্থা গঠন করবে, যাদের নাম হবে এসি আই প্রপার্টিজ লিমিটেড এবং এসি আই সেমিকন্ডাক্টর লিমিটেড।
নতুন সংস্থাগুলোর অনুমোদিত মূলধন প্রত্যেকটি ১০০ কোটি টাকা নির্ধারিত, যার মধ্যে ১০ কোটি টাকা ইতিমধ্যে পরিশোধিত হবে। এধরনের মূলধন কাঠামো এসি আইকে ভবিষ্যৎ বিনিয়োগের জন্য যথেষ্ট আর্থিক স্বচ্ছতা প্রদান করবে।
শেয়ারহোল্ডিং কাঠামোতে এসি আই ৮৫ শতাংশ শেয়ার সরাসরি ধারণ করবে, অবশিষ্ট ১৫ শতাংশ অন্যান্য অংশীদারদের মধ্যে ভাগ হবে। এই ব্যবস্থা মূল কোম্পানির নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখে নতুন ব্যবসার স্বতন্ত্র পরিচালনা নিশ্চিত করবে।
কোম্পানি বিজ্ঞাপন মাধ্যমে নতুন বিনিয়োগ পরিকল্পনা জনসাধারণের জানাতে উদ্যোগ নিয়েছে। বিজ্ঞাপনে এসি আই প্রপার্টিজের অনুমোদিত ও পরিশোধিত মূলধনের তথ্য স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, যা বিনিয়োগকারীদের আস্থা জোগাতে সহায়ক।
আবাসন খাতের বাজার সম্প্রসারণের পটভূমিতে দেশের ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধি একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। ঢাকার কেন্দ্র ও উপশহরসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে প্রায় দুই হাজারের বেশি আবাসন সংস্থা সক্রিয়। এদের মধ্যে দুই থেকে তিন ডজন প্রতিষ্ঠান ব্র্যান্ড হিসেবে স্বীকৃত।
এসি আই প্রপার্টিজের প্রবেশের ফলে এই বাজারে নতুন প্রতিযোগিতামূলক শক্তি যোগ হবে, যা গৃহ নির্মাণের গুণমান ও সেবা মান উন্নত করার সম্ভাবনা তৈরি করবে। একই সঙ্গে নতুন প্রকল্পের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টির প্রত্যাশা রয়েছে।
বিশ্বব্যাপী সেমিকন্ডাক্টর বাজারের মূল্য প্রায় ৭৭২ বিলিয়ন ডলার, যা প্রযুক্তি-নির্ভর অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি হিসেবে বিবেচিত। এই বিশাল বাজারে বাংলাদেশ এখনও ধীরগতিতে প্রবেশ করছে, তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিনিয়োগের প্রবাহ বাড়ছে।
দেশীয় সেমিকন্ডাক্টর শিল্পে ইতিমধ্যে সোলারিক, নিউরাল সেমিকন্ডাক্টর, উল্কা সেমি, প্রাইম সিলিকন, টেট্রন ইলেকট্রনিকস, ডিবিএল ডিজিটাল ইত্যাদি প্রতিষ্ঠান সক্রিয়। এদের কাজ মূলত মাইক্রোপ্রসেসর, আইসি এবং ইন্টিগ্রেটেড সার্কিটের উৎপাদন ও সমাবেশে কেন্দ্রীভূত।
এসি আই সেমিকন্ডাক্টর লিমিটেডের সূচনা দেশের এই সেক্টরে একটি নতুন মাত্রা যোগ করবে। এসি আইয়ের আর্থিক শক্তি ও গবেষণা সক্ষমতা সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদনের স্কেল বাড়াতে সহায়তা করবে, যা স্থানীয় সরবরাহ শৃঙ্খলকে শক্তিশালী করবে।
এসি আইয়ের ইতিহাস ১৯৭৩ সালে ইম্পেরিয়াল কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ (আইসিআই) বাংলাদেশ ম্যানুফ্যাকচারিং নামে শুরু হয়। ১৯৮৭ সালে আনিস উদ দৌলা কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে যোগ দেন এবং দুই বছরের মধ্যে ক্ষতি থেকে মুনাফা অর্জনে সফল হন। পাঁচ বছরের মধ্যে তিনি কোম্পানির ছোট ব্যবসা বন্ধের পরিকল্পনা ঘোষণা করেন, যা তার কৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করে।
আজ এসি আই নতুন ব্যবসা শাখা গড়ে তোলার মাধ্যমে তার বহুমুখী শিল্প পোর্টফোলিওকে আরও বিস্তৃত করছে। আবাসন ও সেমিকন্ডাক্টর উভয় ক্ষেত্রেই প্রবেশের মাধ্যমে কোম্পানি দেশের অর্থনৈতিক বিকাশে সরাসরি অবদান রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ভবিষ্যৎ দৃষ্টিতে, এসি আই প্রপার্টিজের গৃহ নির্মাণ প্রকল্পগুলো শহর ও গ্রামাঞ্চলে আধুনিক বাসস্থান সরবরাহে ভূমিকা রাখবে, আর এসি আই সেমিকন্ডাক্টর লিমিটেড স্থানীয় প্রযুক্তি উৎপাদনের ভিত্তি গড়ে তুলবে। উভয় সংস্থার সাফল্য দেশের শিল্প কাঠামোকে বৈচিত্র্যময় করে তুলবে এবং নতুন বিনিয়োগের আকর্ষণ বাড়াবে।



