28 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধবিহার সীতামার্চিতে ট্রাকের ধাক্কায় ১৩‑বছরীয় শিশুর মৃত্যু, ঘটনার পর মাছ লুটের ঘটনা

বিহার সীতামার্চিতে ট্রাকের ধাক্কায় ১৩‑বছরীয় শিশুর মৃত্যু, ঘটনার পর মাছ লুটের ঘটনা

বিহার রাজ্যের সীতামার্চি জেলার পাপরি থানার অধীনে অবস্থিত জাঝিহাট গ্রামে শুক্রবার সন্ধ্যায় একটি ট্রাকের ধাক্কায় ১৩ বছর বয়সী রিতেশ কুমার গুলো নামের শিশুর মৃত্যু ঘটেছে। রিতেশ স্থানীয় একটি সরকারি বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন। ট্রাকটি দ্রুতগতিতে চলার সময় রাস্তায় পা দিয়ে পার হওয়ার সময় শিশুটিকে আঘাত করে, ঘটনাস্থলেই তার প্রাণ ত্যাগ করে।

রিতেশের পরিবার জানায়, তিনি দৈনন্দিন স্কুলে যাওয়ার পথে ছিল এবং কোনো সিগন্যাল বা বাধা সত্ত্বেও ট্রাকটি হঠাৎ তার দিকে এগিয়ে আসে। শিশুর দেহ রাস্তায় মাটিতে নেমে থাকা অবস্থায় পাওয়া যায়, কোনো সুরক্ষামূলক গিয়ার বা সিটবেল্টের ব্যবহার ছিল না। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ট্রাকটি মাছ পরিবহনের জন্য ব্যবহার করা হচ্ছিল এবং দুর্ঘটনার সময় ট্রাকের পেছন দিক থেকে তাজা মাছের বাক্সগুলো ছিটকে পড়ে গিয়েছিল।

দুর্ঘটনা ঘটার সঙ্গে সঙ্গেই রিতেশের পরিবার এবং গ্রামবাসীরা ঘটনাস্থলে তৎক্ষণাৎ সমবেত হয়। কাঁদা কান্না এবং শোকের পরিবেশে, কিছু লোকের মনোযোগ দেহের পরিবর্তে ট্রাক থেকে ছড়িয়ে পড়া মাছের দিকে যায়। কয়েকজন লোক দ্রুতই মাছের বাক্সগুলো তুলে নিয়ে গিয়ে বস্তা ভরে নেয়, যা পরে পুলিশ উপস্থিত হওয়ার আগে ঘটেছে।

পরে স্থানীয় পুলিশ দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং লুটপাটকারী ব্যক্তিদেরকে বাধা দেয়। অফিসাররা দ্রুতই লুটপাটকারী দলকে স্থান থেকে সরিয়ে নেয় এবং ট্রাকের অবশিষ্ট মাছগুলোকে সুরক্ষিত করে। একই সঙ্গে, রিতেশের দেহকে নিরাপদে তুলে নিয়ে নিকটস্থ হাসপাতালে পাঠানোর জন্য অ্যাম্বুলেন্সকে জানানো হয়।

অ্যাম্বুলেন্সের আগমনের সঙ্গে সঙ্গে রিতেশের দেহকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে চিকিৎসক দল দ্রুতই নিশ্চিত করে যে শিশুটি ঘটনাস্থলেই মারা গিয়েছে। মৃতদেহের প্রাথমিক পরীক্ষা অনুযায়ী, আঘাতটি সরাসরি ট্রাকের ধাক্কা থেকে হওয়া শারীরিক ক্ষতির ফলে। রিতেশের পরিবারকে হাসপাতালে জানানো হয় এবং তারা শোকের মধ্যে দেহটি গ্রহণ করে।

পুলিশের মতে, ট্রাকের চালককে সঙ্গে সঙ্গে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং ঘটনাস্থলে একটি FIR (প্রথম তথ্য প্রতিবেদন) দাখিল করা হয়েছে। তদন্তের অংশ হিসেবে, ট্রাকের গতি, চালকের লাইসেন্স, এবং মাছের লোডের নথি যাচাই করা হবে। এছাড়া, স্থানীয় রোড সেফটি অফিসের সঙ্গে সমন্বয় করে দুর্ঘটনার মূল কারণ নির্ণয়ের জন্য প্রাথমিক তদন্ত শুরু করা হয়েছে।

আইনি দিক থেকে, চালককে অযথা গতি, অযৌক্তিক চালনা এবং মানবিক দায়িত্ব লঙ্ঘনের অভিযোগে গৃহীত করা হতে পারে। প্রাথমিক তদন্তে প্রমাণিত হলে, ট্রাকের মালিক এবং লোডিং কোম্পানির বিরুদ্ধে রাস্তায় নিরাপদ লোডিং-আনলোডিং না করা, এবং অপ্রয়োজনীয় লুটপাটের জন্যও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আদালতে মামলার শোনার তারিখ নির্ধারণের জন্য স্থানীয় আদালতকে জানানো হয়েছে।

স্থানীয় প্রশাসন দুর্ঘটনা ঘটার পরই গ্রামবাসীদেরকে সতর্ক করে জানিয়েছে যে, রাস্তায় লোডেড ট্রাকের কাছাকাছি থাকা সময়ে কোনো লুটপাট বা অপ্রয়োজনীয় কাজ করা উচিত নয়, কারণ তা জরুরি সেবা কর্মীদের কাজকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে। এছাড়া, রাস্তায় মাছের মতো পণ্য লোড করা ট্রাকের জন্য বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

এই ঘটনা স্থানীয় সম্প্রদায়ে রোড সেফটি এবং ট্রাক লোডিং নিয়মের প্রতি নতুন করে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। সীতামার্চি জেলার পুলিশ বিভাগ ইতিমধ্যে একই রকম ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে ট্রাক চালকদের জন্য গতি সীমা এবং লোড সুরক্ষা সম্পর্কে সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন চালু করার পরিকল্পনা জানিয়েছে।

রিতেশের পরিবার এবং গ্রামবাসীরা শোকের মধ্যে এই দুঃখজনক ঘটনার ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করছেন। তদন্তের অগ্রগতি এবং আদালতের রায়ের ভিত্তিতে, সংশ্লিষ্ট সকলকে আইনের শাস্ত

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডি প্রতিদিন
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments