শুক্রবার বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় বেগম খালেদা জিয়ার স্মরণে নাগরিক শোকসভা অনুষ্ঠিত হয়। এই অনুষ্ঠানে interim সরকারের আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল উপস্থিত থেকে তার কথা রাখেন।
ড. আসিফ নজরুল উল্লেখ করেন, জিয়া যখন কারাগারে ছিলেন এবং অসুস্থতায় ভুগছিলেন, তখন তার পক্ষে কোনো প্রতিনিধি বা সমর্থনকারী ছিলেন না। তিনি বলেন, জিয়ার অবস্থার সময়ে তার স্বর শোনার সুযোগ পায়নি।
তিনি আরও যোগ করেন, জুলাই মাসের গণঅভ্যুত্থানকারীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জিয়ার মাধ্যমে জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে, এবং আরেকজনকে দেশ থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে। দেশের উন্নতির জন্য জিয়ার আদর্শকে দেশের মধ্যে গেঁথে থাকা প্রয়োজন, এটাই তার মূল বার্তা।
শোকসভায় উপস্থিত গবেষক ও লেখক অধ্যাপক ড. মাহবুবউল্লাহও তার মতামত প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, জিয়ার ত্যাগ, সততা ও অত্যাচার সহ্য করার ক্ষমতা তাকে ইতিহাসের পাতায় অমলিন করে রেখেছে।
অধ্যাপক ড. মাহবুবউল্লাহ জোর দিয়ে বলেন, জিয়ার শিক্ষাগুলো যদি অনুসরণ করা হয়, তবে তার দল ও দেশ উভয়ই সুরক্ষিত থাকবে; অন্যথায় বিপদে পড়বে। তিনি উল্লেখ করেন, জিয়ার মৃত্যু কোনো সময়ের সমাপ্তি নয়, বরং তার আদর্শই ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের চালিকাশক্তি হবে।
শোকসভায় উপস্থিত নাগরিকদের মধ্যে জিয়ার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও স্মরণ দেখা যায়। অংশগ্রহণকারীরা তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ার ও দেশের জন্য করা অবদানের কথা স্মরণ করে একসাথে শোক প্রকাশ করেন।
ড. আসিফ নজরুলের মন্তব্যের পর, উপস্থিতদের মধ্যে জিয়ার রাজনৈতিক উত্তরাধিকার নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। কিছু অংশগ্রহণকারী তার নেতৃত্বের সময়কালে গৃহীত নীতি ও সংস্কারকে স্মরণ করে, আবার অন্যরা বর্তমান রাজনৈতিক পরিবেশে তার প্রভাবের প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেন।
অধ্যাপক ড. মাহবুবউল্লাহের বক্তব্যের সঙ্গে সঙ্গে তিনি জিয়ার নৈতিক গুণাবলী ও রাজনৈতিক দৃঢ়তা তুলে ধরেন, যা ভবিষ্যৎ নেতাদের জন্য মডেল হতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
শোকসভার সমাপ্তিতে উপস্থিত সবাই একসাথে জিয়ার স্মৃতিতে ফুল অর্পণ করেন এবং দেশের শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন। অনুষ্ঠানটি সংক্ষিপ্ত হলেও রাজনৈতিক বিশ্লেষণ ও ভবিষ্যৎ দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে সমৃদ্ধ ছিল।
এই শোকসভা বাংলাদেশের রাজনৈতিক দৃশ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যেখানে একদিকে জিয়ার অতীতের অবদানকে স্বীকৃতি দেওয়া হচ্ছে, অন্যদিকে তার আদর্শকে বর্তমান ও ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কৌশলে অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানানো হচ্ছে।
ড. আসিফ নজরুলের মন্তব্যের ভিত্তিতে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন, জিয়ার আদর্শকে ‘ইন্টারালাইজ’ করার প্রচেষ্টা ভবিষ্যৎ নির্বাচনী কৌশল ও পার্টি গঠনকে প্রভাবিত করতে পারে।
অবশেষে, শোকসভা শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা জিয়ার মৃত্যুর পরবর্তী রাজনৈতিক ধাপ ও তার পার্টির পুনর্গঠন প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত দেন।



