ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আজ বিকেল ৪টায় বামপন্থী রাজনৈতিক গোষ্ঠী নেটওয়ার্ক ফর পিপলস অ্যাকশন (NPA) আনুষ্ঠানিকভাবে সূচনা করেছে। অনুষ্ঠানে সংগঠকরা প্রাথমিক কমিটি গঠন ও একটি খসড়া রাজনৈতিক ম্যানিফেস্টো উপস্থাপন করেন। এই উদ্যোগের লক্ষ্য সামাজিক গণতান্ত্রিক আন্দোলনকে একত্রিত করা এবং দেশের রাজনীতিতে নতুন বিকল্প তৈরি করা।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিতদের সামনে প্রথমে প্রাথমিক কমিটির সদস্যদের তালিকা জানানো হয় এবং ম্যানিফেস্টোর মূল দিকনির্দেশনা তুলে ধরা হয়। কমিটিতে বিভিন্ন সামাজিক ও ছাত্র সংগঠনের প্রতিনিধিরা অন্তর্ভুক্ত, যা NPA-কে বহুমুখী ভিত্তি প্রদান করবে বলে আশা করা হচ্ছে। ম্যানিফেস্টোতে শ্রমিক অধিকার, শিক্ষার সমতা, এবং পরিবেশ সংরক্ষণকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
অনুষ্ঠানের মূল বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অনিক রায়, যিনি বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক এবং এনসিপির প্রাক্তন যৌথ সমন্বয়কারী। তিনি বলেন, “NPA has been established to unite those committed to building a social democratic movement.” তার এই বক্তব্যের মাধ্যমে দলটি নিজেকে সামাজিক গণতান্ত্রিক আদর্শের অধীনে সংহত করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে।
অনুষ্ঠানটি তিনজন কমিটি মুখপাত্রের বক্তব্য দিয়ে সমাপ্ত হয়। প্রথমে তুহিন খান মঞ্চে এসে NPA-র গঠন প্রক্রিয়া ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা দেন। এরপর ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় ইউনিটের উপ-সভাপতি নাজিফা জান্নাত উপস্থিত হয়ে ছাত্র আন্দোলনের সঙ্গে প্ল্যাটফর্মের সমন্বয় ও যৌথ কাজের সম্ভাবনা তুলে ধরেন। শেষমেশ কবি ও কর্মী ফারদৌস আরা, যিনি দীর্ঘদিন সামাজিক ন্যায়বিচার আন্দোলনে সক্রিয়, প্ল্যাটফর্মের সাংস্কৃতিক দিক ও জনমত গঠনে তার ভূমিকা সম্পর্কে কথা বলেন।
NPA-কে বামপন্থী গোষ্ঠী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং এটি দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে নতুন বিকল্প হিসেবে আত্মপ্রকাশ করছে। দলের গঠন প্রক্রিয়ায় ছাত্র, শ্রমিক ও বুদ্ধিজীবী গোষ্ঠীর সমন্বয় দেখা যায়, যা ঐতিহ্যবাহী বামপন্থী শক্তিগুলোর তুলনায় আরও বিস্তৃত ভিত্তি গড়ে তুলতে পারে। এই দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা যায়, NPA ভবিষ্যতে নির্বাচনী জোট গঠন বা নীতি প্রণয়নে প্রভাবশালী ভূমিকা পালন করতে পারে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন, বর্তমান সময়ে বামপন্থী শক্তির পুনর্গঠন ও নতুন নেতৃত্বের প্রয়োজনীয়তা বাড়ছে। NPA-র এই সূচনা সম্ভবত বামপন্থী ভোটারগোষ্ঠীর মধ্যে পুনরায় সংহতি গড়ে তুলতে সহায়ক হবে এবং বিদ্যমান দলগুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতা তীব্র করবে। তবে, এখনো পর্যন্ত বিরোধী দলগুলোর কাছ থেকে কোনো স্পষ্ট মন্তব্য পাওয়া যায়নি, যা ভবিষ্যতে কিভাবে এই প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে মিথস্ক্রিয়া হবে তা অনিশ্চিত রাখে।
সারসংক্ষেপে, NPA-র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটি রাজনৈতিক মঞ্চে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা নির্দেশ করে। প্রাথমিক কমিটি গঠন, ম্যানিফেস্টো প্রকাশ এবং বিভিন্ন সামাজিক গোষ্ঠীর সমন্বয়ের মাধ্যমে দলটি দেশের সামাজিক গণতান্ত্রিক আন্দোলনে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে চায়। পরবর্তী সময়ে এই গোষ্ঠীর কার্যক্রম, নির্বাচনী কৌশল এবং অন্যান্য রাজনৈতিক শক্তির সঙ্গে মিথস্ক্রিয়া দেশের রাজনীতির দিকনির্দেশনা নির্ধারণে মূল ভূমিকা রাখবে।



