রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষের সি ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় একটি এআই অ্যাপ ব্যবহার করে উত্তর চুরি করার অভিযোগে একজন শিক্ষার্থীকে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ গ্রেফতার করেছে। একই সময়ে, ঐ শিক্ষার্থী চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) ভর্তি পরীক্ষায় তৃতীয় স্থান অর্জন করেছেন, যা সামাজিক মাধ্যমে প্রশ্নের সৃষ্টি করেছে।
গ্রেফতারকৃত শিক্ষার্থী ডিব্যো জ্যোতি সাহা, যিনি রাবির সি ইউনিটের প্রথম শিফটে অংশগ্রহণ করছিলেন, তিনি পরীক্ষার সময় ‘ডিপসিক’ নামের একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ভিত্তিক অ্যাপের মাধ্যমে উত্তর সংগ্রহের চেষ্টা করছিলেন বলে অভিযোগে ধরা পড়েন। রাবি প্রশাসন জানায়, পরীক্ষার সময় মোবাইল ফোন ব্যবহার নিষিদ্ধ এবং এআই সহায়তা গ্রহণের ক্ষেত্রে কঠোর শাস্তি নির্ধারিত আছে।
শিক্ষার্থীর ফেসবুক আইডি থেকে জানা যায়, তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় তৃতীয় স্থান অর্জন করেছেন। এই তথ্যটি তার ফেসবুক টাইমলাইনে শেয়ার করা ফলাফল শিট থেকে প্রকাশ পেয়েছে, যেখানে তিনি ফলাফল পেয়ে বিস্মিত হওয়ার কথা উল্লেখ করেছেন।
ডিব্যো জ্যোতি সাহা ৭ জানুয়ারি তার ফেসবুক পেজে চবি ভর্তি পরীক্ষার ফলাফল শিট পোস্ট করে মন্তব্য করেন, “পুরাই আনএক্সপেক্টেড এটা। চিটাগং ঘুরতে গিয়ে এক্সাম দিয়ে থার্ড হয়ে যাওয়ার যে ব্যাপারটা।” তার এই পোস্টটি দ্রুতই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং বিভিন্ন ব্যবহারকারী তার ফলাফল নিয়ে প্রশ্ন তুলতে থাকে।
গ্রেফতার ঘটনার পর সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। অনেক ব্যবহারকারী রাবিতে গ্রেফতার হওয়া শিক্ষার্থীর চবি ফলাফলকে সন্দেহের দৃষ্টিতে দেখেন এবং একই পদ্ধতি ব্যবহার করে ফলাফল অর্জন করা সম্ভব কিনা তা নিয়ে তর্ক হয়। কিছু মন্তব্যে রাবি ও চবি উভয় প্রতিষ্ঠানের পরীক্ষার নিরাপত্তা ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়।
রাবি বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেকজন শিক্ষার্থী রাইসুল নাহার সিয়াম উল্লেখ করেন, “আজ রাবিতে মোবাইল ফোনসহ আটক হওয়ার পর তাঁর চবিতে তৃতীয় হওয়ার বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ তৈরি হচ্ছে। হয়তো সেখানে একই পদ্ধতি অবলম্বন করা হয়েছে, তবে ধরা পড়েনি।” তিনি একই সঙ্গে উল্লেখ করেন যে, গ্রেফতার হওয়া শিক্ষার্থীর ফলাফল নিয়ে আরও তদন্তের প্রয়োজন।
ডিব্যো জ্যোতি সাহা ঢাকার সিদ্ধেশ্বরীর বাসিন্দা হলেও তার স্থায়ী ঠিকানা খুলনা জেলায়। তার পারিবারিক পটভূমি ও শিক্ষাগত ইতিহাস সম্পর্কে অতিরিক্ত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি, তবে তার সামাজিক মিডিয়া প্রোফাইল থেকে জানা যায় যে তিনি পূর্বে রাবিতে ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।
রাবি প্রশাসন জানায়, গ্রেফতারকৃত শিক্ষার্থীকে প্রোক্টর দপ্তরে নিয়ে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে এবং তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুসারে শাস্তি আরোপ করা হবে। বর্তমানে শিক্ষার্থীকে পরীক্ষার ফলাফল থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে এবং ভবিষ্যতে কোনো একাডেমিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা হতে পারে।
এই বছর রাবি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা দ্বিতীয়বারের মতো ক্যাম্পাসের বাইরে ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা, রংপুর ও বরিশাল কেন্দ্রেও একযোগে অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার সকাল ১১ টায় সি ইউনিটের প্রথম শিফট এবং একই দিন বিকাল ৩ টায় দ্বিতীয় শিফটের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়, যা বহু প্রার্থীর জন্য একাধিক স্থানে একসাথে পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ তৈরি করেছে।
শিক্ষার্থীদের জন্য একটি ব্যবহারিক পরামর্শ: ভর্তি পরীক্ষার সময় কোনো ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহার করা নিষিদ্ধ, তাই পরীক্ষার আগে ডিভাইসগুলো নিরাপদে সংরক্ষণ করুন এবং পরীক্ষার নিয়মাবলী সতর্কতার সঙ্গে পড়ে নিন। এছাড়া, যদি কোনো সন্দেহজনক আচরণ লক্ষ্য করেন, তা সঙ্গে সঙ্গে পরীক্ষার তত্ত্বাবধায়ককে জানিয়ে নিন, যাতে সবার জন্য ন্যায়সঙ্গত ও স্বচ্ছ পরিবেশ বজায় থাকে।



