মেক্সিকোর চলচ্চিত্র নির্মাতা গুইলেরমো দেল টোরোকে ৪৬তম লন্ডন ক্রিটিক্স সার্কেল ফিল্ম অ্যাওয়ার্ডে ডিলিস পাওয়েল এক্সেলেন্স ইন ফিল্ম পুরস্কার দিয়ে সম্মানিত করা হবে। পুরস্কারটি ফেব্রুয়ারি ১ তারিখে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে প্রদান করা হবে এবং এটি ব্রিটিশ চলচ্চিত্র সমালোচক ডিলিস পাওয়েলের নামে রাখা।
লন্ডন ক্রিটিক্স সার্কেল দেল টোরোর কাজকে “বিশ্ব চলচ্চিত্রে অমোচনীয় ছাপ” হিসেবে বর্ণনা করে এবং তার সৃষ্টিশীল অবদানের জন্য এই সম্মাননা প্রদান করছে। সমিতি জানিয়েছে যে দেল টোরোর চলচ্চিত্রগুলো কল্পনাপ্রবণ জগত এবং আবেগময় কাহিনীর মাধ্যমে দর্শকদের মুগ্ধ করেছে।
দেল টোরোর ক্যারিয়ার ১৯৯৩ সালে তার প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র “ক্রোনোস” দিয়ে শুরু হয়। এরপর তিনি “দ্য ডেভিলস ব্যাকবোন”, “প্যান’স ল্যাবিরিন্থ”, “মিমিক”, “হেলবয়”, “প্যাসিফিক রিম”, “ক্রিমসন পিক” এবং “পিনোকিও” সহ বহু আন্তর্জাতিক স্বীকৃত চলচ্চিত্র রচনা করেছেন। তার কাজগুলোতে ভয়, ফ্যান্টাসি এবং মানবিক থিমের মিশ্রণ দেখা যায়।
দেল টোরো তিনটি অস্কার, তিনটি বাফ্টা এবং দুইটি গোল্ডেন গ্লোবসহ বহু পুরস্কার জিতেছেন। তিনি ভেনিস ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে গোল্ডেন লায়নও অর্জন করেছেন, যা তার শিল্পের প্রতি অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে বিবেচিত হয়।
২০২৫ সালে নেটফ্লিক্সে প্রকাশিত তার সর্বশেষ চলচ্চিত্রটি মেরি শেলির “ফ্রাঙ্কেনস্টাইন” উপন্যাসের আধুনিক ব্যাখ্যা। এতে অস্কার আইজ্যাক, জ্যাকব এলোর্ডি এবং মিয়া গথ প্রধান ভূমিকায় অভিনয় করেছেন। চলচ্চিত্রটি সমালোচকদের প্রশংসা পেয়ে আন্তর্জাতিক মঞ্চে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
দেল টোরো ফেব্রুয়ারি ১ তারিখে লন্ডন ক্রিটিক্স সার্কেল ফিল্ম অ্যাওয়ার্ডে ডিলিস পাওয়েল পুরস্কার গ্রহণের সময় তার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি এই সম্মাননাকে তার দীর্ঘদিনের অনুসরণকারী সমালোচকদের প্রতি সম্মান এবং শিল্পে কাজ করার আনন্দের প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করেন।
লন্ডন ক্রিটিক্স সার্কেলের চেয়ার জেন ক্রোথার দেল টোরোর সৃজনশীল দৃষ্টিভঙ্গি এবং জগৎ গড়ে তোলার ক্ষমতাকে প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, দেল টোরোর চলচ্চিত্রগুলো দর্শকদের জন্য এক ধরনের পালিয়ে যাওয়ার স্থান তৈরি করেছে, যেখানে কল্পনা ও বাস্তবতার সীমানা ম্লান হয়ে যায়।
দেল টোরোর কাজের বৈশ্বিক প্রভাবকে স্বীকৃতি দিয়ে, ব্রিটিশ ফিল্ম ইনস্টিটিউট (BFI) মে মাসে তাকে তার সর্বোচ্চ সম্মান, BFI ফেলোশিপ, দিয়ে সম্মানিত করবে। এই ফেলোশিপটি চলচ্চিত্র শিল্পে তার অসামান্য অবদানের জন্য প্রদান করা হয়।
ডিলিস পাওয়েল পুরস্কারটি লন্ডন ক্রিটিক্স সার্কেল ফিল্ম অ্যাওয়ার্ডের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার, যা প্রতি বছর চলচ্চিত্র জগতে অসামান্য সাফল্য অর্জনকারী ব্যক্তিকে প্রদান করা হয়। পূর্বে এই পুরস্কারটি অ্যান্টোনি গোর্ডি, পল থমাস অ্যান্ডারসন এবং রিডলি স্কটের মতো বিশিষ্ট ব্যক্তিদের দেওয়া হয়েছে।
দেল টোরোর এই সম্মাননা তার ক্যারিয়ারের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক, যা তার সৃষ্টিশীলতা, কল্পনা এবং মানবিক থিমের সমন্বয়কে আন্তর্জাতিক মঞ্চে স্বীকৃতি দেয়। তার চলচ্চিত্রগুলো বহু প্রজন্মের দর্শকের হৃদয়ে গভীর প্রভাব ফেলেছে।
লন্ডন ক্রিটিক্স সার্কেল ফিল্ম অ্যাওয়ার্ডের আয়োজকরা দেল টোরোর উপস্থিতি এবং তার কাজের প্রতি সম্মান জানাতে বিশেষ অনুষ্ঠান পরিকল্পনা করেছে। অনুষ্ঠানে শিল্প জগতের বিভিন্ন ব্যক্তিত্ব উপস্থিত থাকবেন এবং দেল টোরোর ক্যারিয়ারকে উদযাপন করা হবে।
দেল টোরোর ভবিষ্যৎ প্রকল্পের কথা এখনও গোপন, তবে তার পূর্বের কাজের ধারাবাহিকতা থেকে দেখা যায় যে তিনি নতুন গল্প এবং ভিজ্যুয়াল স্টাইল নিয়ে আসতে অবিরত কাজ করবেন। তার ফ্যানবেস এবং সমালোচকরা তার পরবর্তী সৃষ্টির জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন।



