চট্টগ্রাম রয়্যালসের দ্রুতগামী পেসার শরিফুল ইসলাম শুক্রবারের বিপিএল ঢাকা পর্বের প্রথম ম্যাচে নোয়াখালী এক্সপ্রেসের বিপক্ষে ৯ রানে ৫ উইকেট নিয়ে দলকে জয়ী করিয়ে দিলেন। এই পারফরম্যান্স তার ক্যারিয়ারের প্রথম টি‑টোয়েন্টি পাঁচ‑উইকেট এবং একই টুর্নামেন্টে বাংলাদেশি পেসারদের মধ্যে সর্বনিম্ন রানে পাঁচ‑উইকেটের রেকর্ড স্থাপন করে।
শরিফুলের বোলিং শৈলী টুর্নামেন্টের শুরুর দিন থেকেই ধারাবাহিক ছিল। প্রথম সাতটি ম্যাচের মধ্যে একটিই বাদে সব ম্যাচে তিনি কমপক্ষে একটি করে উইকেট নিয়েছেন, যা তার ধারাবাহিকতা ও দক্ষতার প্রমাণ। পূর্বে ১৫১টি টি‑টোয়েন্টি ম্যাচে তিনি চারটি ভিন্ন ইনিংসে চারটি উইকেট নেন, তবে এই ম্যাচে প্রথমবারের মতো পাঁচটি উইকেটের ছোঁয়া পেয়েছেন।
ম্যাচের প্রথম স্পেলে তিনি দুই ওভারে আট রান দিয়ে একটি উইকেট নেন। এরপর ১৬তম ওভারে তিনি ধারাবাহিকভাবে দুইটি ব্যাটসম্যানকে আউট করেন – হাসান মাহমুদ ও মেহেদি হাসান রানা – এবং কোনো রান না দিয়ে তাদের বিদায় জানান। ১৯তম ওভারে সাব্বির হোসেন (২২) এক্সট্রা কাভার সীমানায় ক্যাচে আউট হন, আর পরের বলেই ইহসানউল্লাহকে বোল্ড করে তিনি দ্রুতই তার পাঁচটি উইকেট সম্পূর্ণ করেন। শেষ দুই ওভারে তিনি মাত্র এক রানই ছাড়েন, তবু চারটি উইকেট নেন, যা প্রতিপক্ষের স্কোরকে আরও সীমাবদ্ধ রাখে।
নোয়াখালী এক্সপ্রেসের ইনিংস ১২৬ রানে শেষ হয়, যার মধ্যে প্রধান ব্যাটসম্যান হাসান ইসাখিল, যিনি পূর্বের ম্যাচে ৯২ রান করছিলেন, এইবার মাত্র ২৫ রানে আউট হন। শরিফুলের এই পারফরম্যান্সের ফলে তিনি এখন পর্যন্ত আট ম্যাচে ১৮ উইকেট নিয়ে বিপিএলের সর্বোচ্চ উইকেট সংগ্রাহক হিসেবে শীর্ষে রয়েছেন।
শরিফুলের এই রেকর্ডটি দেশের পেসারদের মধ্যে সর্বনিম্ন রানে পাঁচ‑উইকেটের নতুন মাইলফলক। ২০২৪ সালে ১২ রানে ৫ উইকেট নেয়া আবু হায়দার পূর্বে এই শিরোপা ধরে রেখেছিলেন, আর বিদেশি পেসার মোহাম্মদ সামির ৬ রানে ৫ উইকেট নিয়ে সর্বনিম্ন রানের রেকর্ড রাখেন। তবে শরিফুলের ৯ রানে ৫ উইকেটের পারফরম্যান্সটি দেশের পেসারদের মধ্যে সর্বোচ্চ অর্থনৈতিকতা প্রদর্শন করে।
কোচ ও দলীয় বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেছেন, শরিফুলের গতি, লাইন ও লেন্থের সঠিক সমন্বয় এবং ব্যাটসম্যানদের উপর ধারাবাহিক চাপই তাকে এই রেকর্ড অর্জনে সহায়তা করেছে। পরবর্তী ম্যাচে চট্টগ্রাম রয়্যালসের শিডিউল এখনও প্রকাশিত হয়নি, তবে এই জয় এবং ব্যক্তিগত সাফল্য দলকে পরবর্তী রাউন্ডে আত্মবিশ্বাসী করে তুলবে।



