সিলেটের জেলা ও বিভাগীয় স্তরের স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে ১৬ জানুয়ারি বিকেলে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভার পর স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম গণভোটের ‘হ্যাঁ’ পক্ষে প্রচারকে রাষ্ট্রের জন্য ‘ফরজে কিফায়া’ বলে জোর দিয়ে মন্তব্য করেন। তিনি জানিয়েছেন, আসন্ন জুলাই সনদ ও সংবিধান সংস্কার সংক্রান্ত গণভোটে নাগরিকদের দৈনন্দিন জীবনে কী প্রভাব পড়বে তা স্পষ্ট করে তুলে ধরে ‘হ্যাঁ’ ভোটের জন্য জনমত গঠন করা জরুরি।
উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম উল্লেখ করেন, সংবিধানের উচ্চকক্ষ ও নিম্নকক্ষের বিশদ আলোচনা নাগরিকদের জন্য তেমন গুরুত্বপূর্ণ নয়; বরং ভোটের ফলাফল কীভাবে স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও সামাজিক সেবার উন্নয়নে অবদান রাখবে, তা ব্যাখ্যা করা উচিত। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘হ্যাঁ’ ভোটের জন্য জনসচেতনতা বাড়াতে সরকারকে সক্রিয় ভূমিকা নিতে হবে।
সভায় উপস্থিত জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলমের নেতৃত্বে, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব সাইদুর রহমান এবং সিলেটের বিভিন্ন স্তরের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা অংশগ্রহণ করেন। আলোচনায় ভোটের প্রস্তুতি, তথ্যপ্রচার পরিকল্পনা এবং জনসাধারণের প্রশ্নোত্তর সেশন অন্তর্ভুক্ত ছিল।
নূরজাহান বেগম উল্লেখ করেন, ভোটের বিরোধী গোষ্ঠী ও অশুভ শক্তি ভোটের ফলাফলকে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করবে, তবে যত বেশি মানুষকে ভোটের গুরুত্বে যুক্ত করা হবে, ততই এই বিরোধী শক্তিগুলোর প্রভাব কমে যাবে। তিনি বলেন, ‘অধিকাংশ মানুষকে ভোটে অংশগ্রহণের জন্য উদ্বুদ্ধ করা হলে, নির্বাচনের বিরোধী শক্তি পরাজিত হবে।’
গণভোটের বিরোধী দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশকারী কিছু গোষ্ঠী এখনও আছে; তারা প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা, সংবিধানিক পরিবর্তনের প্রভাব এবং রাজনৈতিক স্বার্থের সম্ভাব্য সংঘাত নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে। যদিও এ গোষ্ঠীর নির্দিষ্ট নাম বা নেতৃত্বের উল্লেখ করা হয়নি, তবে তাদের মতামতকে স্বীকার করে সরকারকে তথ্যভিত্তিক ব্যাখ্যা ও সমন্বিত প্রচার চালাতে হবে বলে নূরজাহান বেগমের মতামত।
উল্লেখযোগ্য যে, এই গণভোটের ফলাফল দেশের রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা ও নীতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ‘হ্যাঁ’ ভোটের মাধ্যমে সংবিধান সংস্কার ও জুলাই সনদের কার্যকরীতা নিশ্চিত করা হলে, সরকারকে দীর্ঘমেয়াদী উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সহায়তা পাওয়া যাবে। অন্যদিকে, ‘না’ ভোটের ফলাফল হলে, সংশ্লিষ্ট সংস্কার প্রক্রিয়া পুনর্বিবেচনা করতে হবে এবং সম্ভাব্য আইনি ও রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবে।
সভা শেষে নূরজাহান বেগমের মন্তব্যের পর, উপস্থিত স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা ভোটের প্রচার কার্যক্রমে সমন্বিতভাবে কাজ করার প্রতিশ্রুতি জানান। তারা স্বাস্থ্য সেবা ক্ষেত্রের উন্নয়ন ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির জন্য বিশেষ কর্মসূচি গঠন করার পরিকল্পনা প্রকাশ করেন।
গণভোটের প্রস্তুতি ও প্রচার কার্যক্রমের পরবর্তী ধাপ হিসেবে, সরকার বিভিন্ন মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে তথ্যপ্রচার চালাবে, পাশাপাশি গ্রামীণ ও নগর এলাকায় সরাসরি জনসাধারণের সঙ্গে সংলাপের মাধ্যমে ভোটের গুরুত্ব তুলে ধরবে। নূরজাহান বেগমের মতে, এই ধরনের বিস্তৃত প্রচারই ভোটের ফলাফলকে নির্ধারিত দিকের দিকে নিয়ে যাবে।
সামগ্রিকভাবে, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা নূরজাহান বেগমের বক্তব্য সরকারকে গণভোটের ‘হ্যাঁ’ প্রচারে সক্রিয় ভূমিকা নিতে এবং বিরোধী গোষ্ঠীর প্রভাব কমাতে আহ্বান জানায়। এই প্রচেষ্টা দেশের সংবিধানিক ও নীতিগত পরিবর্তনের সাফল্য নিশ্চিত করার পাশাপাশি, জনমতকে সঠিক দিশায় পরিচালনা করার লক্ষ্য রাখে।



