পাকিস্তান এবং সুদানের সেনাবাহিনীর মধ্যে যুদ্ধবিমান ও অন্যান্য সামরিক সরঞ্জামের বিক্রয়ের চূড়ান্ত পর্যায়ে থাকা চুক্তি, প্রায় ১৫০ কোটি ডলারের মূল্যমানের, সাম্প্রতিক বিশ্লেষকদের মতে দেশের তিন বছরের চলমান গৃহযুদ্ধের গতিপথে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনতে পারে।
সুদানে ২০২৪ সালের শেষ পর্যন্ত রেজিম-সাপোর্টেড সেনাবাহিনী ও আধাসামরিক র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (RSF) এর সংঘাতে প্রায় দশ হাজারের বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন, আর লক্ষ লক্ষ মানুষ স্থানচ্যুত হয়েছে। RSF-কে নারী ও শিশুর ওপর যৌন নির্যাতনের অভিযোগও করা হয়েছে, যা মানবিক সংকটকে আরও তীব্র করেছে।
পাকিস্তান থেকে সুদানের সেনাবাহিনীর কাছে সরবরাহের কথা বলা হচ্ছে যুদ্ধবিমান, রাডার সিস্টেম এবং বিভিন্ন ধরণের ক্ষেপণাস্ত্র। চুক্তির চূড়ান্ত স্বাক্ষর হলে, সুদানের সামরিক ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে এবং যুদ্ধের ভার সামরিক বাহিনীর দিকে ঝুঁকতে পারে।
এই চুক্তি একক ঘটনা নয়; সাম্প্রতিক মাসগুলোতে পাকিস্তানের সামরিক সরঞ্জাম ও কৌশলগত সহযোগিতা আরব দেশগুলোর সঙ্গে দ্রুত বিস্তৃত হচ্ছে। ঐতিহ্যগতভাবে প্রশিক্ষক ভূমিকা পালনকারী পাকিস্তান এখন সরাসরি নিরাপত্তা সরবরাহকারী হিসেবে নিজেকে অবস্থান করছে।
সৌদি আরবের সঙ্গে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা এই পরিবর্তনের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছে। গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে দু’দেশ ‘স্ট্র্যাটেজিক মিউচুয়াল ডিফেন্স এগ্রিমেন্ট’ (SMDA) স্বাক্ষর করে, যা মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠার সময়ে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, সৌদি আরব পাকিস্তানের তৈরি জেএফ-১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমানে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। যদিও সৌদি বিমানবাহিনীর পোর্টফোলিওতে ইতিমধ্যে উন্নতমানের মার্কিন ও ইউরোপীয় যুদ্ধবিমান রয়েছে এবং তারা এফ-৩৫ সংগ্রহের প্রক্রিয়ায় আছে, তবু ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতায় বিকল্প সরবরাহকারী খোঁজার প্রয়োজন রিয়াদের জন্য বাড়ছে।
বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, পাকিস্তানের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা সৌদি আরবকে কৌশলগত বৈচিত্র্য এনে দিচ্ছে, একই সঙ্গে ইসলামিক জগতে তার প্রভাব বাড়াচ্ছে। এই ধারা সৌদি আরবের নিরাপত্তা নীতিতে নতুন দিকনির্দেশনা তৈরি করতে পারে, বিশেষত ইউরোপীয় ও আমেরিকান সরবরাহকারীর ওপর নির্ভরতা কমাতে।
জেএফ-১৭ থান্ডার, যা পাকিস্তান ও চীনের যৌথ উদ্যোগে বিকশিত, বর্তমানে পাকিস্তানের রপ্তানির প্রধান পণ্য। প্রতিটি বিমানের মূল্য প্রায় ২.৫ থেকে ৩ কোটি ডলার, যা তুলনামূলকভাবে কম। আধুনিক রাডার, দীর্ঘপরিসরের ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের সক্ষমতা এবং সাম্প্রতিক যুদ্ধের অভিজ্ঞতা এই বিমানকে অনেক দেশের জন্য আকর্ষণীয় করে তুলেছে।
পাকিস্তান-সুদান চুক্তি সম্পন্ন হলে, সুদানের সামরিক ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে এবং যুদ্ধের গতিপথে নতুন পরিবর্তন আসতে পারে। একই সঙ্গে, পাকিস্তানের আরব জগতে সামরিক উপস্থিতি বাড়ার ফলে অঞ্চলীয় নিরাপত্তা কাঠামোতে নতুন গতিশীলতা দেখা যাবে।
পরবর্তী কয়েক মাসে চুক্তির চূড়ান্ত স্বাক্ষর ও সরবরাহের সূচি নির্ধারিত হবে, যা সুদানের গৃহযুদ্ধের ভবিষ্যৎ এবং আরব দেশগুলোর সঙ্গে পাকিস্তানের কূটনৈতিক সম্পর্কের দিক নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



