দিল্লি সুপ্রিম কোর্ট শুক্রবার করিমা কাপুরের বিরুদ্ধে নোটিশ জারি করে, যেখানে প্রিয়া কাপুর ২০১৬ সালের বিবাহবিচ্ছেদ মামলার সম্পূর্ণ নথিপত্রের অনুরোধ জানিয়েছেন। নোটিশে আদালত করিমাকে দুই সপ্তাহের মধ্যে তার উত্তর দাখিল করতে নির্দেশ দিয়েছে।
নোটিশটি বিচারপতি এ.এস. চন্দুরকারের নেতৃত্বে গঠিত বেঞ্চের সিদ্ধান্ত। আদালত এই পদক্ষেপটি প্রিয়ার পিটিশনের প্রাসঙ্গিকতা যাচাইয়ের জন্য নিয়েছে এবং উভয় পক্ষকে যথাযথ সময়সীমা প্রদান করেছে।
প্রিয়া কাপুরের আবেদনটি সূর্যকাপুরের সম্পত্তি বিরোধের মাঝখানে এসেছে, যিনি জুন ২০২৫-এ মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুর পর মার্চ ২০২৫-এ একটি উইল প্রকাশিত হয়, যেখানে প্রিয়া, তার তৃতীয় স্ত্রী,কে অধিকাংশ সম্পদে উত্তরাধিকারী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
সৌর্যকাপুরের সম্পদের মোট মূল্য প্রায় ৩০,০০০ কোটি টাকার আশেপাশে অনুমান করা হয়েছে, তবে সম্পদের প্রকৃত পরিমাণ ও গঠন নিয়ে এখনও বিতর্ক চলছে। এই বিষয়টি দিল্লি হাই কোর্টে চলমান উত্তরাধিকার মামলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
প্রিয়া কাপুর ২০১৬ সালের বিবাহবিচ্ছেদ ফাইলের সার্টিফাইড কপি চাইছেন, যার মধ্যে বিবাহবিচ্ছেদ পিটিশন, সংযুক্তি, আদালতের আদেশ, নিষ্পত্তি চুক্তি এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য নথি অন্তর্ভুক্ত। তিনি উল্লেখ করেছেন যে এই নথিপত্রগুলো হাই কোর্টের উত্তরাধিকার প্রক্রিয়ায় প্রয়োজনীয়।
প্রিয়ার মতে, এই নথিপত্রগুলো না থাকলে হাই কোর্টে চলমান সম্পদ বণ্টনের মামলায় সঠিক তথ্য উপস্থাপন করা কঠিন হবে। তাই তিনি আদালতকে এই নথিপত্রের প্রমাণিত কপি সরবরাহের অনুরোধ করেছেন।
করিমা কাপুর ও সূর্যকাপুরের বিবাহবিচ্ছেদ ২০১৬ সালে চূড়ান্ত হয়, যেখানে উভয় পক্ষ আর্থিক বিষয় এবং দুই সন্তানের হেফাজত সংক্রান্ত চুক্তিতে পৌঁছায়। সেই সময়ের চুক্তি অনুযায়ী উভয় পক্ষের অধিকার ও দায়িত্ব নির্ধারিত হয়।
সৌর্যকাপুরের দুই সন্তান—সমাইরা কাপুর (২০) এবং কিয়ান রাজ কাপুর (১৫)—ও উইলকে চ্যালেঞ্জ করছেন। তারা যুক্তি দিচ্ছেন যে উইলে উল্লেখিত শর্তাবলী অসঙ্গতিপূর্ণ এবং নকলের সম্ভাবনা রয়েছে।
বাচ্চারা ডিজিটাল প্রমাণ এবং অ্যাফিডেভিটের মধ্যে পার্থক্য তুলে ধরে, যা উইলের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপন করে। তারা আদালতে এই বিষয়গুলো তুলে ধরে, যাতে সম্পদের বণ্টন ন্যায়সঙ্গত হয়।
দিল্লি হাই কোর্টে একাধিক পক্ষের অংশগ্রহণে উত্তরাধিকার মামলাটি জটিল রূপ নিচ্ছে। এখানে প্রিয়া কাপুর, করিমা কাপুর এবং সূর্যকাপুরের সন্তানদের স্বার্থের টানাপোড়েন দেখা যাচ্ছে।
সুপ্রিম কোর্টের নোটিশ এই জটিল মামলায় একটি প্রক্রিয়াগত ধাপ হিসেবে কাজ করছে, যেখানে উভয় পক্ষকে তাদের অবস্থান স্পষ্ট করতে বলা হয়েছে। দুই সপ্তাহের মধ্যে করিমা কাপুরের উত্তর আদালতে জমা দিতে হবে।
এই মামলার পরবর্তী দিকনির্দেশনা এখনও অনিশ্চিত, তবে নথিপত্রের প্রাপ্যতা এবং উইলের বৈধতা নির্ধারণের মাধ্যমে সম্পদের বণ্টন কীভাবে হবে তা নির্ধারিত হবে। সব পক্ষের জন্য এই প্রক্রিয়া দীর্ঘমেয়াদী আইনি লড়াইয়ের সূচনা হতে পারে।



