গোলান মালভূমি সংলগ্ন সিরিয়ান সীমান্তে দুই সপ্তাহেরও কম সময় আগে ইসরায়েলি সেনা একটি বড় ছাগলের পালকে জোরপূর্বক ইসরায়েলি ভূখণ্ডে নিয়ে যায়। এই ঘটনার ফলে সিরিয়ান কৃষকদের ২৫০টি ছাগল হারিয়ে যায় এবং ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষকে তদন্তের আদেশ দেয়া হয়।
প্রতিবেদন অনুসারে, গোলানি ব্রিগেডের একদল সৈন্য সীমান্ত পার হওয়ার সময় স্থানীয় কৃষকদের পাল থেকে ছাগলগুলো জোর করে তুলে নেয়। পালটি মূলত গবাদি পশুর জন্য ব্যবহৃত হয় এবং অধিকাংশই প্রাপ্তবয়স্ক ছাগল ছিল।
সেই সময়ে ইতিমধ্যে ট্রাক প্রস্তুত রাখা ছিল বলে জানা যায়, যা ছাগলগুলোকে দ্রুত পরিবহনের জন্য ব্যবহৃত হয়। ট্রাকগুলো সীমান্ত পার হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ছাগলগুলোকে লোড করে পশ্চিম তীরের বিভিন্ন অবৈধ বসতি ও খামারে পাঠানো হয়।
পরের দিন সকালে গোলান মালভূমি অঞ্চলে কিছু ছাগল স্বাধীনভাবে ঘুরে বেড়াতে দেখা যায়। স্থানীয় ইসরায়েলি কৃষকরা এই অস্বাভাবিক দৃশ্য লক্ষ্য করে তৎক্ষণাৎ সেনাবাহিনীর কাছে জানায়। এ তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনাটির সত্যতা যাচাই করা শুরু হয়।
সেনাবাহিনীর তদন্তে দেখা যায়, উদ্ধার করা ছাগলগুলোর কোনো চিহ্ন বা ট্যাগ ছিল না, ফলে সেগুলোকে মূল মালিকের সঙ্গে যুক্ত করা কঠিন হয়। যদিও বড় অংশের ছাগল পুনরুদ্ধার করা যায়, তবু কিছু ছাগল এখনও অদৃশ্য রয়ে গেছে।
আইডিএফের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই অপারেশনটি কোনো অনুমোদন পায়নি এবং তা সম্পূর্ণভাবে অবৈধ। তারা জোর দিয়ে বলেছে যে, কোনো সামরিক নির্দেশনা ছাড়া এমন কাজ করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।
অভিযুক্ত সৈন্যদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। স্কোয়াড কমান্ডারকে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং কোম্পানি কমান্ডারকে আনুষ্ঠানিক তিরস্কার জানানো হয়েছে। এই পদক্ষেপগুলো ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধের উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছে।
বর্তমানে, উচ্চতর কর্মকর্তাদের তত্ত্বাবধানে একটি বিস্তৃত তদন্ত চলছে। তদন্ত দল সীমান্ত পারাপারের রেকর্ড, ট্রাকের লোডিং ডকুমেন্ট এবং সংশ্লিষ্ট ইউনিটের কার্যক্রমের বিস্তারিত বিশ্লেষণ করছে।
আইনি দিক থেকে, ছাগল চুরি একটি অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হয় এবং সংশ্লিষ্ট সৈন্যদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি দায়ের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে, বর্তমানে কোন আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে কিনা তা স্পষ্ট নয়।
এই ঘটনার ফলে ইসরায়েলি-সিরিয়ান সীমান্তে সামরিক ও বেসামরিক সম্পর্কের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয়েছে। উভয় পক্ষই ভবিষ্যতে এমন অনধিকারী কার্যক্রম রোধে সতর্কতা বাড়ানোর আহ্বান জানাচ্ছে।
তদন্তের ফলাফল প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে আইডিএফের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা বজায় রাখতে অতিরিক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। একই সঙ্গে, হারিয়ে যাওয়া ছাগলগুলোর মালিকদের ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করার জন্যও পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে আশা করা যায়।



