কংগ্রেসের সিনিয়র আইনজীবী ও সংসদ সদস্য অভিষেক সিংহভি ১৬ জানুয়ারি ২০২৬-এ প্রকাশিত একটি সামাজিক মাধ্যমের পোস্টে বলছেন, অভিনেতা ভরুন ধোয়ান ‘বর্ডার ২’ ছবির প্রচারমূলক ভিডিওতে বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্সের (বিএসএফ) ইউনিফর্ম পরিধান করেছেন, যা তিনি ‘প্রপ’ হিসেবে ব্যবহারকে অনুপযুক্ত বলে সমালোচনা করেছেন।
প্রচার ভিডিওতে ধোয়ান ক্যামোফ্লাজ শার্ট ও টুপি পরিধান করে হালকা মেজাজে ক্যামেরার সামনে উপস্থিত হয়েছেন। এই দৃশ্যটি ‘বর্ডার ২’ ছবির রিলিজের পূর্বে দর্শকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করার উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়েছিল, যা ২৩ জানুয়ারি ২০২৬-এ থিয়েটারে প্রদর্শিত হবে।
সিংহভি একই পোস্টে জোর দিয়ে বলেছেন, ‘বিএসএফ ইউনিফর্ম কোনো প্রপ নয়’ এবং এই ধরনের ব্যবহার সৈন্য ও নারীদের সম্মানকে ক্ষুন্ন করতে পারে। তিনি উল্লেখ করেন, ইউনিফর্ম পরিধান করা সৈন্যদের শারীরিক ও মানসিক ঝুঁকি ও ত্যাগকে হালকা করে দেখানো অনুচিত।
এই মন্তব্যের পর সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। বহু নেটিজেন সিংহভির মন্তব্যের সঙ্গে একমত হয়ে বলছেন, সামরিক ইউনিফর্মের ব্যবহার বিনোদন জগতে সীমা অতিক্রম করেছে। অন্যদিকে কিছু ব্যবহারকারী যুক্তি দেন, প্রচারমূলক ভিডিওতে অভিনেতার উপস্থিতি কেবল মার্কেটিং কৌশল, তা কোনো অপমানের উদ্দেশ্য নয়।
ধোয়ান বা ছবির নির্মাণ দলের পক্ষ থেকে এখনো কোনো মন্তব্য প্রকাশিত হয়নি। চলচ্চিত্রের প্রযোজক ও পরিচালকও এই বিষয়টি নিয়ে কোনো সরকারি বিবৃতি দেননি।
‘বর্ডার ২’ ছবিটি একটি দেশপ্রেমিক অ্যাকশন নাটক হিসেবে ঘোষিত হয়েছে, যেখানে ভারতীয় সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর বিভিন্ন অভিযানের কাহিনী তুলে ধরা হবে। ছবিতে সানি দেোল, ভরুন ধোয়ান, দিলজিৎ দোসাঞ্জ এবং আহান শেট্টি প্রধান ভূমিকায় অভিনয় করছেন।
ফিল্মের গল্পটি বাস্তব সামরিক অভিযানের অনুপ্রেরণায় রচিত, যা দেশের রক্ষকদের সাহস ও ত্যাগকে তুলে ধরার লক্ষ্য রাখে। তবে প্রচারাভিযানে সামরিক ইউনিফর্মের ব্যবহার নিয়ে উত্থাপিত প্রশ্নগুলো চলচ্চিত্রের মূল বার্তাকে কীভাবে প্রভাবিত করবে তা নিয়ে মতবিরোধ দেখা দিয়েছে।
বিএসএফ ইউনিফর্ম ভারতের সীমান্ত রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এবং এর সঙ্গে যুক্ত সৈন্যদের সম্মান ও গৌরবকে রক্ষা করা সমাজের দায়িত্ব। তাই সামরিক চিহ্নের বাণিজ্যিক ব্যবহার নিয়ে নিয়মাবলী ও নৈতিকতা নিয়ে আলোচনা বাড়ছে।
বিনোদন শিল্পে সামরিক চিত্রের ব্যবহার পূর্বে বহুবার বিতর্কের বিষয় হয়েছে, তবে এইবারের ঘটনা বিশেষভাবে নজরে এসেছে কারণ এতে সরাসরি একটি সক্রিয় সশস্ত্র বাহিনীর ইউনিফর্ম অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।
অভিষেক সিংহভির মন্তব্যের পর কিছু রাজনৈতিক বিশ্লেষকও বলছেন, সামরিক ইউনিফর্মের অপব্যবহার না করা উচিত, কারণ তা দেশের নিরাপত্তা ও জাতীয় গর্বের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত।
অন্যদিকে, চলচ্চিত্রের প্রচার দল দাবি করে যে ভিডিওটি কোনো অপমানের উদ্দেশ্যে নয়, বরং দর্শকের মনোযোগ আকর্ষণ করার জন্য সৃজনশীল উপায় হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে।
এই বিতর্কের ফলে ‘বর্ডার ২’ ছবির প্রচার কৌশল পুনর্বিবেচনা করা হতে পারে, অথবা ভবিষ্যতে সামরিক ইউনিফর্মের ব্যবহার নিয়ে স্পষ্ট নির্দেশিকা তৈরি করা হবে।
সামগ্রিকভাবে, ভরুন ধোয়ানের বিএসএফ ইউনিফর্ম পরিধান নিয়ে উত্থাপিত সমালোচনা ও সমর্থন উভয়ই দেশের রক্ষকদের প্রতি সম্মান ও বিনোদন শিল্পের সৃজনশীল স্বাধীনতার মধ্যে সূক্ষ্ম সমতা বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে।
এই বিষয়টি নিয়ে আরও আলোচনা এবং সম্ভাব্য নীতি নির্ধারণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টিভঙ্গি প্রত্যাশিত।



