ইরানের তেহরানে নিরাপত্তা অবস্থা অবনতি হওয়ায় নিউজিল্যান্ড সরকার তার দূতাবাসের কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ করার সিদ্ধান্ত জানিয়েছে। সরকার জানায়, সব কূটনৈতিক কর্মীকে নিরাপদে দেশ থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
কূটনীতিক ও সহায়ক কর্মীরা বাণিজ্যিক বিমান ব্যবহার করে তেহরান থেকে বেরিয়ে গেছেন। দূতাবাসের সম্পূর্ণ স্টাফকে নিরাপদে পুনর্বাসন করা হয়েছে এবং কোনো নিরাপত্তা ঝুঁকি অবশিষ্ট নেই।
দূতাবাসের কাজ এখন থেকে তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় পরিচালিত হবে। আঙ্কারায় স্থাপিত অস্থায়ী কূটনৈতিক কেন্দ্রের মাধ্যমে ইরান-সম্পর্কিত সব বিষয় সমাধান করা হবে।
নিউজিল্যান্ডের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইরান ভ্রমণ সংক্রান্ত পূর্বের সতর্কতা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছে। নাগরিকদেরকে ইরানে যেকোনো ধরনের ভ্রমণ থেকে বিরত থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
যারা ইতিমধ্যে ইরানে অবস্থান করছেন, তাদের দ্রুত দেশ ত্যাগের জন্য ত্বরিত ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। কনস্যুলার সহায়তা এখন সীমিত সক্ষমতায় রয়েছে, তাই জরুরি ক্ষেত্রে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সহায়তা গ্রহণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
দেশের অভ্যন্তরে তীব্র যোগাযোগ সমস্যার কারণে কনস্যুলার কর্মীদের নাগরিকদের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপন কঠিন হয়ে পড়েছে। ইন্টারনেট ও টেলিফোন সেবার অস্থায়ী ব্যাঘাত এই পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে।
এমন অবস্থায় ইরানে থাকা নিউজিল্যান্ডের নাগরিকদের পরিবার ও আত্মীয়দের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখতে সরকার বিশেষভাবে জোর দিয়েছে। জরুরি তথ্য ও সহায়তার জন্য নির্ধারিত হটলাইন ব্যবহার করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
ইরানে নিরাপত্তা অবনতির ফলে সাম্প্রতিক সপ্তাহে বেশ কয়েকটি দেশ তাদের কূটনৈতিক উপস্থিতি হ্রাস করেছে। যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র এবং অস্ট্রেলিয়া সহ অন্যান্য দেশও একই ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণের কথা জানিয়েছে।
একজন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক মন্তব্য করেন, “নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়লে দেশগুলো সাধারণত দূতাবাস বন্ধ বা কর্মী প্রত্যাহার করে, যাতে নাগরিক ও কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়”। এই ধরনের সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক নীতির স্বাভাবিক অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়।
ইরানের অভ্যন্তরীণ অশান্তি ও প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেলে মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিবেশে প্রভাব পড়তে পারে। নিউজিল্যান্ডের এই পদক্ষেপকে অঞ্চলের স্থিতিশীলতা রক্ষার জন্য একটি সতর্কতা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইরানের নিরাপত্তা পরিস্থিতি উন্নত হলে দূতাবাসের পুনরায় কার্যক্রমের সম্ভাবনা বিবেচনা করা হবে। আঙ্কারায় স্থাপিত অস্থায়ী কূটনৈতিক দল পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেবে।
সর্বোপরি, নিরাপত্তা ঝুঁকি মোকাবিলায় নেওয়া এই সাময়িক বন্ধের মাধ্যমে নিউজিল্যান্ড তার নাগরিক ও কর্মীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে চায়, পাশাপাশি ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক সংলাপ বজায় রাখতে আঙ্কারাকে কেন্দ্র করে কাজ চালিয়ে যাবে।



