মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ গাজা উপত্যকা থেকে হামাসকে সম্পূর্ণভাবে নির্মূল করার লক্ষ্যে একটি নতুন প্রশাসনিক সিস্টেমের পরিকল্পনা প্রকাশ করেছেন। তিনি এই উদ্যোগকে “বোর্ড অফ পিস” নামে অভিহিত করে, যা গাজায় টেকনোক্র্যাটিক শাসন ব্যবস্থা গড়ে তোলার ভিত্তি হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, গাজার অবরুদ্ধ অবস্থা শেষ করে সেখানে স্থায়ী নিরাপত্তা ও পুনর্গঠন নিশ্চিত করা হবে।
উইটকফের মতে, ট্রাম্প প্রশাসন গাজার বর্তমান পরিস্থিতি পরিবর্তনের জন্য প্রযুক্তি‑নির্ভর পদ্ধতি গ্রহণ করবে এবং হামাসের সামরিক ও রাজনৈতিক কাঠামোকে ধ্বংস করার জন্য বিশেষ পদক্ষেপ নেবে। তিনি উল্লেখ করেন যে, এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হল গাজার জনগণকে দীর্ঘমেয়াদী শাসনব্যবস্থা প্রদান করা, যেখানে নিরাপত্তা, অবকাঠামো ও মৌলিক সেবা পুনর্গঠন করা হবে।
গাজা থেকে জিম্মি মুক্তির বিষয়েও বিশেষ দূত ট্রাম্পের ব্যক্তিগত গুরুত্ব তুলে ধরেছেন। তিনি জানিয়েছেন, হোয়াইট হাউসে জিম্মিদের মুক্তি ট্রাম্পের জীবনের অন্যতম সেরা দিন হিসেবে বিবেচিত হয় এবং এই বিষয়টি তার প্রশাসনের অগ্রাধিকার তালিকায় শীর্ষে রয়েছে। জিম্মি মুক্তির প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক ও সামরিক প্রচেষ্টা বাড়ানো হবে বলে তিনি জানান।
ইসরায়েলি সরকারও এই পরিকল্পনাকে স্বাগত জানিয়ে বলেছে, যে যুক্তরাষ্ট্রের সক্রিয় অংশগ্রহণ গাজার নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্থিতিশীল করতে সহায়ক হবে। ইসরায়েলি নিরাপত্তা কর্মকর্তারা উল্লেখ করেন, গাজার ওপর টেকনোক্র্যাটিক শাসন ব্যবস্থা গড়ে তোলার মাধ্যমে হামাসের অস্ত্র সরবরাহ ও তহবিলের প্রবাহ বন্ধ করা সম্ভব হবে। অন্যদিকে, হামাসের মুখপাত্র গাজার উপর কোনো বহিরাগত শাসন আরোপকে আক্রমণাত্মক পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচনা করে, এবং তারা যুক্তরাষ্ট্রের এই উদ্যোগকে গাজার স্বাধীনতা ও স্বায়ত্তশাসনের প্রতি হুমকি হিসেবে দেখছে।
উইটকফের বক্তব্যে ট্রাম্পের নেতৃত্বে গাজার জটিল সমস্যার সমাধানে যুক্তরাষ্ট্রই সবচেয়ে উপযুক্ত দেশ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের অভিজ্ঞতা ও সম্পদকে গাজার পুনর্গঠন ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার মূল ভিত্তি হিসেবে উপস্থাপন করেন। ট্রাম্পের প্রশাসন গাজার ভবিষ্যৎ নির্ধারণে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমর্থন চাইছে এবং গাজার পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়ায় অন্যান্য দেশকে অংশগ্রহণের আহ্বান জানাচ্ছে।
এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য যুক্তরাষ্ট্র গাজার সীমান্তে সামরিক উপস্থিতি বাড়ানোর সম্ভাবনা উন্মুক্ত রেখেছে। এছাড়া, গাজার অবকাঠামো পুনর্নির্মাণ, বিদ্যুৎ সরবরাহ, পানির ব্যবস্থা এবং স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়নের জন্য বিশাল আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হবে বলে জানানো হয়েছে। বিশেষ দূত উল্লেখ করেন, এই সব পদক্ষেপের লক্ষ্য গাজার নাগরিকদের মৌলিক চাহিদা পূরণ করা এবং দীর্ঘমেয়াদী শান্তি প্রতিষ্ঠা করা।
বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত করছেন, গাজার ওপর এই নতুন শাসন কাঠামো গঠন হলে মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিবেশে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসতে পারে। যদি পরিকল্পনা সফল হয়, তবে গাজার অবরোধের শেষ এবং অঞ্চলে নতুন রাজনৈতিক গতিপথের সূচনা হতে পারে। তবে, গাজার অভ্যন্তরীণ গোষ্ঠী ও প্রতিবেশী দেশগুলোর প্রতিক্রিয়া কী হবে তা এখনও অনিশ্চিত, এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এই উদ্যোগের সমর্থন ও বিরোধিতা উভয়ই প্রত্যাশিত।
গাজা পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং মানবাধিকার গোষ্ঠীও যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপের প্রতি সতর্ক দৃষ্টিতে দেখছে। তারা জোর দিয়ে বলছে, গাজার জনগণের মানবিক অধিকার রক্ষা এবং কোনো শাসন পরিবর্তন প্রক্রিয়ায় স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা অপরিহার্য। যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সময় এই দিকগুলোকে বিবেচনা করা হবে কিনা, তা পরবর্তী পর্যায়ে স্পষ্ট হবে।
সারসংক্ষেপে, যুক্তরাষ্ট্রের নতুন প্রশাসনিক কাঠামো গাজার ভবিষ্যৎ গঠন, হামাসের নির্মূল এবং জিম্মি মুক্তির ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় নির্দেশ করে। ট্রাম্পের নেতৃত্বে গৃহীত এই কৌশল গাজার দীর্ঘমেয়াদী স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়ে গৃহীত, তবে এর বাস্তবায়ন ও ফলাফল গাজার জনগণ, প্রতিবেশী দেশ এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমন্বিত প্রতিক্রিয়ার ওপর নির্ভরশীল থাকবে।



