মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ হোলিউডে অনুষ্ঠিত এক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য কূটনৈতিক চুক্তির রূপরেখা উপস্থাপন করেন। তিনি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র সম্প্রতি ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করেছে এবং কঠোর বার্তা প্রদান করেছে। এই সংলাপের ফলে ইরানে পরিকল্পিত বিক্ষোভকারীদের গণফাঁসির পরিকল্পনা সাময়িকভাবে স্থগিত হয়েছে।
উইটকফের মতে, কোনো নতুন চুক্তি গঠনের পূর্বশর্ত হিসেবে চারটি মূল শর্ত পূরণ করা আবশ্যক। প্রথম শর্ত হল ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করা। দ্বিতীয় শর্তে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি থামিয়ে দেওয়া এবং অস্ত্রের উৎপাদন সীমিত করা অন্তর্ভুক্ত। তৃতীয় শর্তে বর্তমানে ইরানের হাতে থাকা পারমাণবিক উপাদানের মজুদ নিয়ন্ত্রণে আনা এবং আন্তর্জাতিক তদারকি নিশ্চিত করা। চতুর্থ শর্তে মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের সমর্থিত প্রক্সি নেটওয়ার্ক ও সশস্ত্র গোষ্ঠীর সক্রিয়তা বন্ধ করা।
বিশেষ করে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। যুক্তরাষ্ট্র ইরানের হাতে প্রায় দুই হাজার কিলোগ্রাম সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম রয়েছে বলে জানিয়েছে, যা আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার জন্য হুমকি স্বরূপ। এই মজুদ নিয়ন্ত্রণ না হলে কূটনৈতিক সমাধান সম্ভব না বলে সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
যদি ইরান এই শর্তগুলো পূরণে ব্যর্থ হয়, তবে যুক্তরাষ্ট্র কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের সম্ভাবনা উল্লেখ করেছে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে কূটনৈতিক সমাধানের আশাও বজায় রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের নীতি হল, শর্ত পূরণ না হলে অতিরিক্ত নিষেধাজ্ঞা ও সামরিক বিকল্প বিবেচনা করা।
ইরানের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি সম্পর্কে উইটকফ মন্তব্য করেন, দেশটি গভীর অর্থনৈতিক সংকটে রয়েছে। বিদ্যুৎ ও পানির ঘাটতি, মুদ্রাস্ফীতি এবং উচ্চ মূল্যের কারণে জনগণের জীবনযাত্রা কঠিন হয়ে পড়েছে। এই অস্থিরতা শাসনের বিরোধী গোষ্ঠীর কার্যক্রমকে তীব্রতর করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের দৃষ্টিতে, এই কঠিন সময়ে ইরানের সাধারণ জনগণই যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনের লক্ষ্য। তাই, ইরানের শাসনকে চাপ দেওয়ার পাশাপাশি জনগণের স্বার্থ রক্ষার জন্য কূটনৈতিক সহায়তা বাড়ানো হবে।
ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের ওপর একসঙ্গে চাপ ও কূটনৈতিক উদ্যোগের মিশ্র কৌশল প্রয়োগ করছে। শর্ত পূরণে ইরানকে উৎসাহিত করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমর্থন জোরদার করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে, শর্তগুলো পূরণ হলে পারস্পরিক সুবিধাজনক চুক্তি স্বাক্ষরের সম্ভাবনা উন্মুক্ত থাকবে।
পরবর্তী ধাপে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার সময়সূচি নির্ধারণের পরিকল্পনা করছে। একই সঙ্গে, আন্তর্জাতিক তদারকি সংস্থার মাধ্যমে পারমাণবিক মজুদ ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির পর্যবেক্ষণ বাড়ানো হবে। এই প্রক্রিয়ায় ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক গতি-প্রকৃতিও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সারসংক্ষেপে, যুক্তরাষ্ট্রের ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য চুক্তির জন্য নির্ধারিত চারটি শর্ত আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা, পারমাণবিক বিস্তার রোধ এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে গৃহীত হয়েছে। শর্তগুলো পূরণ না হলে কঠোর পদক্ষেপের সম্ভাবনা রয়ে যাবে, আর পূরণ হলে কূটনৈতিক সমঝোতার দরজা খুলে যাবে।



