ঢাকার রায়েরবাজারের ক্যানসার গলি এলাকায় গত রাত ১২:৩০ থেকে ৩ টা পর্যন্ত সেনাবাহিনীর এক গোপনীয় অভিযান চালানো হয়। অপারেশনে মোট ১১ জন সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং তাদের কাছ থেকে ধারালো অস্ত্র, দুইটি দেশীয় চাপাতি ও ৪৮৪ পুরিয়া হেরোইন উদ্ধার করা হয়।
গ্রেপ্তারদের মধ্যে রুবেল (বয়স ৪০), যাকে সিটি রুবেল নামেও চেনা যায়, এবং ১০টি পৃথক মামলার আসামি হিসেবে তালিকাভুক্ত অন্যান্য দশজন রয়েছে; তাদের বয়স ১৮ থেকে ২৫ বছরের মধ্যে। তালিকায় রয়েছে জয় (২২), কুদরত (২০), রতন (২২), মো. জয় হাসান (২২), সাহদুল (২৪), রাসেল (১৮), মো. আল‑আমিন (২২), মো. বেলাল হোসেন (২৫), ফারুক (২৫) ও কাউসার (২৪)।
রুবেল পূর্বে বিভিন্ন থানায় দায়ের হওয়া দশটি মামলার আসামি ছিলেন, যার মধ্যে অস্ত্র অপরাধ ও মাদক সংক্রান্ত অভিযোগ অন্তর্ভুক্ত। কয়েক দিন আগে সেনাবাহিনী একই এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের নয়জন সদস্যকে গ্রেপ্তার করার পর এই বড় অপারেশনটি পরিচালিত হয়।
সেনাবাহিনীর ৪৬ স্বতন্ত্র পদাতিক ব্রিগেডের লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাজিম আহমেদ উল্লেখ করেন, রায়েরবাজারে কিশোর গ্যাং ও সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর কার্যকলাপের কারণে দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় মানুষজন কষ্টে বসবাস করছিল। ধারাবাহিক নিরাপত্তা অভিযান শেষে বাসিন্দারা স্বস্তি প্রকাশ করে এবং সেনাবাহিনীর প্রচেষ্টাকে প্রশংসা করেছে।
অভিযানের সময় উদ্ধার করা ধারালো অস্ত্রের মধ্যে ছুরি, কাঁচি ও অন্যান্য ছোট অস্ত্র অন্তর্ভুক্ত ছিল, যা সম্ভাব্য হিংসাত্মক কার্যকলাপের ইঙ্গিত দেয়। পাশাপাশি দুইটি দেশীয় চাপাতি এবং বিশাল পরিমাণে হেরোইন মাদকও পাওয়া যায়, যা এলাকার মাদক বাজারে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
গ্রেপ্তারদের আইনগত প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করার জন্য মোহাম্মদপুর থানায় হস্তান্তর করা হবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ গ্রেপ্তারদের জিজ্ঞাসাবাদ, প্রমাণ সংগ্রহ ও আদালতে উপস্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
অধিকন্তু, নিরাপত্তা বাহিনীর পক্ষ থেকে স্থানীয় জনগণকে আহ্বান জানানো হয়েছে যে, যদি কেউ সন্ত্রাসী, কিশোর গ্যাং বা চাঁদাবাজ সংক্রান্ত কোনো তথ্য জানে, তবে নিকটস্থ সেনা ক্যাম্পে তা জানাতে। এই ধরনের তথ্য ভবিষ্যৎ অভিযানের পরিকল্পনা ও প্রতিরোধে সহায়ক হবে।
রায়েরবাজারের নিরাপত্তা পরিস্থিতি সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অবনতির মুখে ছিল, বিশেষ করে কিশোর গ্যাংয়ের হিংসা ও মাদক চোরাচালান বাড়ার ফলে। সেনাবাহিনীর ধারাবাহিক অভিযান এই সমস্যার মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
সেনাবাহিনীর সূত্র অনুযায়ী, এই অভিযানে কোনো প্রাণহানি ঘটেনি এবং গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে প্রাথমিক তদন্তে কোনো সহিংস প্রতিরোধের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। তবে, অস্ত্র ও মাদক সংগ্রহের পরিমাণ থেকে স্পষ্ট যে, এই গোষ্ঠীটি উল্লেখযোগ্য অপরাধমূলক কার্যক্রমে লিপ্ত ছিল।
স্থানীয় বাসিন্দারা নিরাপত্তা বাহিনীর উপস্থিতি ও কার্যকরী পদক্ষেপে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে, এবং ভবিষ্যতে এমন ধরনের অপরাধমূলক গোষ্ঠীর উপস্থিতি কমে যাবে বলে আশা প্রকাশ করেছে।
সামগ্রিকভাবে, রায়েরবাজারে এই রাতের অভিযান শহরের নিরাপত্তা বজায় রাখতে এবং মাদক ও অস্ত্রের অবৈধ প্রবাহ রোধে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ভবিষ্যতে অনুরূপ অভিযান চালিয়ে এলাকাটিকে আরও নিরাপদ করা হবে।



