মার্চের শেষ সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গাজার বর্তমান শাসন ব্যবস্থার জন্য নতুন একটি ফিলিস্তিনি টেকনোক্র্যাটিক কমিটির সমর্থন প্রকাশ করেন। তিনি সামাজিক মাধ্যমে জানিয়ে দেন যে, গাজার অস্থায়ী শাসনকে পরিচালনা করবে ১৫ সদস্যের একটি জাতীয় কমিটি, যার নেতৃত্বে আলি শাথ আছেন। এই ঘোষণার পেছনে রয়েছে ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে গত অক্টোবর মাসে শুরু হওয়া ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় ধাপের সূচনা।
ট্রাম্পের পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন যে, গাজার শাসনকে তত্ত্বাবধান করবে একটি আন্তর্জাতিক বোর্ডের উচ্চপদস্থ প্রতিনিধিদের সহায়তা। তিনি এই উদ্যোগকে গাজার শান্তিপূর্ণ ভবিষ্যৎ গড়ার দিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেন। পোস্টে ব্যবহৃত ভাষা সরল, তবে স্পষ্টভাবে ইঙ্গিত দেয় যে, নতুন গঠনটি আন্তর্জাতিক সমর্থন পাবে।
মিশর, কাতার ও তুরস্কের মধ্যস্থতায় গঠিত এই টেকনোক্র্যাটিক কমিটি ১৫ জন সদস্য নিয়ে গঠিত হবে বলে জানানো হয়েছে। কমিটির প্রধান হিসেবে আলি শাথের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, যিনি পূর্বে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের শিল্পাঞ্চল উন্নয়ন সহকারী মন্ত্রী পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। শাথের পটভূমি তাকে গাজার পুনর্গঠন প্রক্রিয়ায় একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে সক্ষম করে তুলেছে।
কমিটির বাকি সদস্যদের নাম এখনো প্রকাশিত হয়নি। তবে ট্রাম্পের পোস্টে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এই নতুন গঠনটি আন্তর্জাতিক বোর্ডের উচ্চপদস্থ প্রতিনিধিদের তত্ত্বাবধানে কাজ করবে, যা গাজার শাসনকে বহুপাক্ষিক সমর্থন নিশ্চিত করবে।
ট্রাম্প গাজার ফিলিস্তিনি নেতাদের শান্তিপূর্ণ সমাধানের প্রতি অটল প্রতিশ্রুতি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, গাজার শাসনকে পরিচালনা করবে এমন এই টেকনোক্র্যাটিক দলটি দীর্ঘমেয়াদী শান্তি বজায় রাখতে সক্ষম হবে। তার এই মন্তব্য গাজার ভবিষ্যৎ সম্পর্কে আশাবাদী দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করে।
একই দিনে ট্রাম্প আরেকটি পোস্টে গাজার জন্য একটি “পিস অব বোর্ড” গঠনের কথা জানান। তিনি উল্লেখ করেন যে, এই বোর্ডের চেয়ারম্যানের পদে তিনি নিজেই অধিষ্ঠিত হবেন এবং শিগগিরই বাকি সদস্যদের নাম প্রকাশ করা হবে। এই পদক্ষেপটি গাজার শাসনকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আরও স্বচ্ছতা ও দায়িত্বশীলতা প্রদান করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
গত বছর অক্টোবর মাসে ট্রাম্পের দল ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে স্বাক্ষরিত একটি যুদ্ধবিরতি পরিকল্পনা উপস্থাপন করেছিল। সেই পরিকল্পনার মূল বিষয় ছিল গাজার শাসনকে তত্ত্বাবধান করার জন্য একটি ফিলিস্তিনি টেকনোক্র্যাটিক প্যানেল গঠন এবং আন্তর্জাতিক “বোর্ড অব পিস”ের অধীনে কাজ করা। এই কাঠামোটি গাজার অস্থায়ী শাসনকে স্থিতিশীল করার লক্ষ্যে তৈরি করা হয়েছিল।
যুদ্ধবিরতি শুরু হওয়ার পর থেকে গাজায় শতাধিক শিশুসহ প্রায় চারশো ফিলিস্তিনি এবং তিনজন ইসরায়েলি সৈনিকের প্রাণহানি ঘটেছে। উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলছে, যা শীর্ষ পর্যায়ের উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলেছে।
হামাস ও ইসরায়েল উভয়ই একে অপরের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি ভঙ্গের অভিযোগে একাধিক অভিযোগ উত্থাপন করেছে। গাজার পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠেছে, কারণ উভয় পক্ষই নিজেদের নিরাপত্তা ও স্বার্থ রক্ষার জন্য কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।
বাকি থাকা এক ইসরায়েলি জিম্মির দেহাবশেষ এখনও উদ্ধার হয়নি, রাফাহ সীমান্তের খোলার বিষয়ে ইসরায়েলের দেরি এবং হামাসের নিরস্ত্রীকরণ প্রত্যাখ্যান ট্রাম্পের পরিকল্পনাকে বহুবার চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। এই সমস্যাগুলি গাজার স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত আন্তর্জাতিক হস্তক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে।
ট্রাম্প নিজেই গাজার শাসন তদারকির জন্য গঠিত বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে কাজ করছেন। এই ব্যবস্থাকে কিছু বিশেষজ্ঞ উপনিবেশবাদী কাঠামো হিসেবে সমালোচনা করছেন, কারণ এটি গাজার স্বায়ত্তশাসনকে আন্তর্জাতিক শক্তির প্রভাবের অধীনে রাখে। তবে ট্রাম্পের সমর্থন গাজার অস্থায়ী শাসনকে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি ও সম্পদ নিশ্চিত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।



