18 C
Dhaka
Friday, January 30, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিখালেদা জিয়ার স্মরণে গুলশানে আলোকচিত্র প্রদর্শনী উদ্বোধন, রিজভী বলেন স্বাধীনতা সুরক্ষিত ছিল

খালেদা জিয়ার স্মরণে গুলশানে আলোকচিত্র প্রদর্শনী উদ্বোধন, রিজভী বলেন স্বাধীনতা সুরক্ষিত ছিল

শুক্রবার সকাল গুলশানের শাহাবুদ্দিন পার্কে তিন দিনের আলোকচিত্র প্রদর্শনী উদ্বোধন করা হয়, যেখানে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় খালেদা জিয়ার ভূমিকা তুলে ধরা হয়েছে। অনুষ্ঠানটি বগুড়া মিডিয়া অ্যান্ড কালচারাল ফোরাম, ঢাকা সংগঠিত করে, এবং জাতীয় রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্বদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, তিনি উল্লেখ করেন যে একসময় খালেদা জিয়া দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের রক্ষক ছিলেন। তার এই মন্তব্যের পেছনে পার্টির ঐতিহাসিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং বর্তমান রাজনৈতিক পরিবেশের প্রতিফলন রয়েছে।

রিজভী বলেন, ভারতের ঝাড়খণ্ড থেকে বাংলাদেশে সরবরাহিত হওয়া বিদ্যুৎ প্রকল্পটি মূলত ভারত সরকারের পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় বাতিল করেছিল, তবে পূর্বের ফ্যাসিবাদী সরকারের অধীনে তা রামপালে বাস্তবায়িত হয়েছে। তিনি এই প্রকল্পকে দেশবিরোধী হিসেবে চিহ্নিত করে, তা চালু হওয়ার প্রক্রিয়ায় খালেদা জিয়ার বিরোধের ফলে তাকে জেলে আটক করা হয়েছিল, এই যুক্তি উপস্থাপন করেন।

বক্তা আরও উল্লেখ করেন, খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা সঠিকভাবে পরিচালিত না হওয়ায় তাকে যথাযথ চিকিৎসা না দিয়ে মৃত্যুর দিকে ধাক্কা দেওয়া হয়েছিল। এই অভিযোগের ভিত্তিতে তিনি পার্টির অতীতের শাসনকালে মানবাধিকার লঙ্ঘনের দিকটি তুলে ধরেন।

রিজভী দেশের প্রাকৃতিক সম্পদের ব্যাপারে সতর্কতা প্রকাশ করেন; তিনি বলেন বাংলাদেশে এখনও বিশাল পরিমাণে কয়লা ও গ্যাসের মজুদ রয়েছে। এই সম্পদগুলোকে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক শক্তিগুলো বিভিন্ন উপায়ে শোষণ করার চেষ্টা করছে, যা দেশের স্বার্থের বিপরীতে কাজ করতে পারে।

অনুষ্ঠানে বগুড়া মিডিয়া অ্যান্ড কালচারাল ফোরামের সভাপতি মারুফা রহমানের সভাপতিত্বে, সাধারণ সম্পাদক সুজন মাহমুদের সঞ্চালনা হয়। এছাড়া সংগঠনের প্রধান উপদেষ্টা আতিকুর রহমান রুমন এবং করতোয়া সম্পাদক মো. হেলালুজ্জামান লালু উপস্থিত ছিলেন। তাদের উপস্থিতি পার্টির ঐতিহাসিক স্মৃতি সংরক্ষণে একতাবদ্ধতা প্রকাশ করে।

অনুষ্ঠনের সময় সরকারী কোনো প্রতিনিধির মন্তব্য পাওয়া যায়নি, এবং সরকারী দপ্তর থেকে এই বিষয়ের উপর কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশিত হয়নি। এই নীরবতা পার্টির মধ্যে আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে, যেখানে কিছু বিশ্লেষক সরকারকে প্রকল্পের বৈধতা ও পরিবেশগত প্রভাবের দিক থেকে রক্ষা করার দায়িত্বে উল্লেখ করেন।

বিএনপি এই প্রদর্শনীকে রাজনৈতিক মঞ্চ হিসেবে ব্যবহার করে, খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক উত্তরাধিকারকে পুনরুজ্জীবিত করার লক্ষ্যে কাজ করছে। রিজভীর মন্তব্যগুলো পার্টির ভোটার ভিত্তি গড়ে তোলার পাশাপাশি, আসন্ন নির্বাচনে প্রতিপক্ষের নীতি সমালোচনার জন্য ভিত্তি সরবরাহ করতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেন, এই ধরনের স্মারক অনুষ্ঠানগুলো জনমত গঠনে প্রভাবশালী হতে পারে, বিশেষ করে যখন তা দেশের সার্বভৌমত্ব ও সম্পদ সংরক্ষণকে কেন্দ্রীয় বিষয় হিসেবে তুলে ধরে। তাই পার্টি নেতৃত্বের জন্য এটি একটি কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে দেখা যেতে পারে।

আলোচনার ধারায় রিজভী ভবিষ্যতে পার্টির নীতি নির্ধারণে এই বিষয়গুলোকে অন্তর্ভুক্ত করার ইঙ্গিত দেন, যাতে দেশের স্বায়ত্তশাসন ও সম্পদ ব্যবস্থাপনা নিয়ে একটি স্পষ্ট অবস্থান গৃহীত হয়। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই ধরনের সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক উদ্যোগগুলো দেশের সমগ্র নাগরিকের মধ্যে জাতীয় গর্ব জাগ্রত করবে।

প্রদর্শনীটি তিন দিনব্যাপী চলবে, যেখানে খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবন ও কর্মকে চিত্রের মাধ্যমে উপস্থাপন করা হবে। অংশগ্রহণকারীরা এই ছবিগুলো থেকে দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের বিভিন্ন দিক সম্পর্কে ধারণা পেতে পারেন, এবং পার্টির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি পাবে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডি প্রতিদিন
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments