রংপুর রাইডার্সের মিডিয়া ম্যানেজার মিকি আর্থার সংবাদ সম্মেলনে লিটন কুমার দাসকে দলনেতা হিসেবে ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে দলকে নতুন দিকনির্দেশনা দিলেন। কোচ আর্থার জানালেন, সোহান অধিনায়কত্ব থেকে সরে দাঁড়াতে চেয়েছেন এবং লিটনকে তার জায়গা দিতে সম্মত হয়েছেন। এই পরিবর্তনটি তিনটি ধারাবাহিক পরাজয়ের পর নেওয়া হয়েছে, যেখানে দল আট ম্যাচের মধ্যে চারটি হারিয়ে পয়েন্ট তালিকায় চতুর্থ স্থানে রয়েছে।
কোচ আর্থার উল্লেখ করেন, সোহান নিজের পারফরম্যান্সে মনোযোগ দিতে এবং ব্যক্তিগত লক্ষ্যকে দলীয় স্বার্থের আগে রাখতে চেয়েছেন। তিনি বলেন, সোহান স্বার্থপর নয়, বরং ফ্র্যাঞ্চাইজির সাফল্যের জন্য নিজের পদত্যাগকে সঠিক সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখেছেন। সোহানের ফর্মও তেমন ভাল না, তিনি বিশ্বকাপ স্কোয়াডে থাকলেও ছয়টি ইনিংসে মাত্র ত্রিশ রান করেছেন, কোনো ইনিংসে দ্বি-অঙ্কের পরিসীমা অতিক্রম করতে পারেননি, এবং তার স্ট্রাইক রেট ৯০.৯০।
লিটন কুমার দাসের ক্যাপ্টেনশিপের অভিজ্ঞতা ইতিমধ্যে জাতীয় দলের দায়িত্বে প্রমাণিত হয়েছে। তিনি পূর্বে জাতীয় দলের অধিনায়কত্বে দলকে সফলভাবে নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং আগামী বিশ্বকাপে বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে বর্তমান মুহূর্তে তিনি সম্পূর্ণ মনোযোগ বাঙালি প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল)‑এর দিকে দিতে চান, বিশ্বকাপের চিন্তা এখন তার অগ্রাধিকারে নয়।
লিটন বলেন, “এই সময়ে আমার প্রধান দায়িত্ব হলো ফ্র্যাঞ্চাইজির জন্য সর্বোচ্চ নিবেদন করা। ফ্র্যাঞ্চাইজি যখন এই দায়িত্ব আমাকে দিয়েছে, আমি তা গ্রহণ করেছি এবং সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছি।” তিনি আরও যোগ করেন, “ফ্র্যাঞ্চাইজির চাহিদা মেনে চলা এবং দলের সাফল্য নিশ্চিত করা আমার প্রধান লক্ষ্য।”
টুর্নামেন্টের দুই-তৃতীয়াংশ ইতিমধ্যে পার হয়ে যাওয়ায় লিটনের নেতৃত্বে দলকে শীর্ষে পৌঁছানোর পথ সহজ নয়। রাইডার্স বর্তমানে আট ম্যাচের মধ্যে চারটি হারিয়ে পয়েন্ট টেবিলে চতুর্থ স্থানে রয়েছে, এবং ধারাবাহিক পরাজয়ের পর দলকে পুনরুজ্জীবিত করতে নতুন ক্যাপ্টেনের কৌশল প্রয়োজন।
লিটনের টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারে ২২২ ম্যাচের মধ্যে ৪৩ বার ক্যাপ্টেন হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন, যা তাকে অভিজ্ঞতা প্রদান করেছে। কোচ আর্থার এই সংখ্যা উল্লেখ করে বলেন, “লিটনের ক্যাপ্টেনশিপের অভিজ্ঞতা আমাদের জন্য বড় সুবিধা, যদিও টুর্নামেন্টের বাকি অংশে চ্যালেঞ্জ থাকবে।”
কোচ আর্থার আরও জানান, সোহানের পদত্যাগের পেছনে তার নিজস্ব পারফরম্যান্সের প্রতি উদ্বেগ এবং ফ্র্যাঞ্চাইজির সাফল্যের জন্য সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা করার ইচ্ছা রয়েছে। তিনি যোগ করেন, “সোহান দলকে ব্যক্তিগত স্বার্থের উপরে রাখতে চেয়েছেন, এবং তার সিদ্ধান্তের মাধ্যমে তিনি দলের ভবিষ্যৎকে শক্তিশালী করতে চান।”
রাইডার্সের বর্তমান পারফরম্যান্সের বিশ্লেষণে দেখা যায়, দলটি ধারাবাহিকভাবে হারের মুখে এবং পয়েন্ট সংগ্রহে সমস্যায়। তবে লিটনের ক্যাপ্টেনশিপে নতুন কৌশল এবং খেলোয়াড়দের মনোবল বাড়ানোর আশা করা হচ্ছে। কোচ আর্থার উল্লেখ করেন, “লিটনের নেতৃত্বে আমরা আক্রমণাত্মক খেলায় ফিরে আসতে চাই এবং প্রতিপক্ষের দুর্বলতা কাজে লাগাতে চাই।”
লিটন ক্যাপ্টেনের অধীনে দলটি এখন পর্যন্ত যে পরিবর্তন দেখাবে তা টুর্নামেন্টের বাকি অংশে নির্ধারিত হবে। তিনি বলছেন, “আমি দলের প্রতিটি খেলোয়াড়ের শক্তি ব্যবহার করে একটি সুষম পরিকল্পনা গড়ে তুলব, যাতে আমরা ধারাবাহিক জয় অর্জন করতে পারি।”
রাইডার্সের পরবর্তী ম্যাচের সূচি অনুযায়ী, দলটি আগামী সপ্তাহে শীর্ষ দলে থাকা প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হবে, যা লিটনের নেতৃত্বে দলকে বড় পরীক্ষা দেবে। কোচ আর্থার আশা প্রকাশ করেন, “এই ম্যাচে আমরা যদি জয় অর্জন করতে পারি, তবে দলটির আত্মবিশ্বাস বাড়বে এবং পয়েন্ট টেবিলে উন্নতি হবে।”
সারসংক্ষেপে, লিটন কুমার দাসের ক্যাপ্টেনশিপে রংপুর রাইডার্স নতুন দিকনির্দেশনা পেয়েছে, সোহানের পদত্যাগের পেছনে ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সের উদ্বেগ এবং দলীয় স্বার্থের প্রতি অঙ্গীকার রয়েছে। লিটনের ফোকাস এখন সম্পূর্ণভাবে বিপিএল‑এর জন্য, এবং তার অভিজ্ঞতা দলকে পরবর্তী ম্যাচে সাফল্য অর্জনে সহায়তা করবে। টুর্নামেন্টের বাকি দুই-তৃতীয়াংশে দলটি কীভাবে পরিবর্তন আনবে তা সময়ই বলবে।



