ব্রাহ্মণবাড়িয়া সার্কিট হাউসে শুক্রবার সকাল ১০টায় প্রধান উপদোষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলমের মুখে আওয়ামী লীগকে দেশের সমাজে কোনো স্থান না দেওয়া হবে বলে স্পষ্ট বক্তব্য শোনা যায়। তিনি এই মন্তব্যের সঙ্গে ১৬ জানুয়ারি নির্বাচনের প্রস্তুতি ও রাজনৈতিক পরিবেশের ওপর দৃষ্টিপাত করেন।
আলমের বক্তব্যের সময় উপস্থিত সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর হিসেবে তিনি রিকনসিলিয়েশন নিয়ে কোনো আলোচনা চলছে না, এবং আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে কোনো ক্ষমা প্রার্থনা শোনা যায়নি বলে উল্লেখ করেন। তিনি বললেন, “আওয়ামী লীগের তরফ থেকে কোনো সরি শুনিনি”।
এরপর তিনি গতকাল একটি মন্ত্রীকে নিয়ে তার আচরণকে সমালোচনা করেন, যেখানে তিনি বলেন মন্ত্রী শহীদদের রক্তকে ব্যবহার করে নিজের স্বার্থসিদ্ধি করছেন। আলমের মতে, এই ধরনের আচরণে কোনো অনুতাপের লক্ষণ দেখা যায় না।
শফিকুল আলম জোর দিয়ে বলেন, “শহীদের রক্ত নিয়ে মোকারি করা, তা সমাজে তাদের কোনো স্থান না দেয়া সমান”। তিনি আরও তুলনা করে বলেন, “খুনিদেরকে জেলখানায় রাখা হয়, তেমনি তাদেরকে সমাজে স্থান দেওয়া উচিত নয়”।
গণভোটের প্রসঙ্গে তিনি ভোটারদের হ্যাঁ ভোট দিয়ে স্বৈরাচার ও গুম-খুনের রাজনীতির বিরুদ্ধে রেড কার্ড দেখানোর আহ্বান জানান। আলমের মতে, রেড কার্ডের মাধ্যমে মানুষ সুশাসনের পক্ষে সমর্থন প্রকাশ করবে।
এছাড়া তিনি উল্লেখ করেন, এই বছর যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে, তা দেশের ইতিহাসে তুলনামূলকভাবে শান্তিপূর্ণ হবে। তিনি অতীতের নির্বাচনে বিরোধী দলের নেতাদের ভিড়ের মুখে না দিয়ে, জেলে পাঠানো বা অন্য শহরে স্থানান্তর করার ঘটনা উল্লেখ করে বর্তমান নির্বাচনকে স্বচ্ছ ও সুষ্ঠু হিসেবে বর্ণনা করেন।
আলমের মতে, “এই নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ এবং উৎসবমুখর হবে”। তিনি এ কথা বলার সঙ্গে সঙ্গে দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে ইতিবাচক পরিবর্তনের সম্ভাবনা তুলে ধরেন।
বিপক্ষের দৃষ্টিকোণ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য প্রকাশিত হয়নি। তবে বিরোধী দলগুলোর মধ্যে কিছু নেতা এই ধরনের রেটোরিককে রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়ানোর প্রচেষ্টা হিসেবে দেখছেন।
বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত করছেন, শফিকুল আলমের এই ধরনের প্রকাশনা নির্বাচনের আগে দলের ভিত্তি শক্তিশালী করার পাশাপাশি বিরোধী দলের নেতাদের ওপর চাপ বাড়াতে পারে। তিনি যে রেড কার্ডের ধারণা তুলে ধরেছেন, তা ভোটারদের মধ্যে স্বচ্ছতা ও দায়িত্বশীলতার বার্তা পৌঁছাতে পারে।
অবশেষে, নির্বাচন কমিশনের প্রস্তুতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর নজর বাড়বে বলে আশা করা যায়। শফিকুল আলমের মন্তব্যের পরবর্তী ধাপ হিসেবে দলীয় কর্মীদের সংগঠন ও ভোটার সচেতনতা কর্মসূচি ত্বরান্বিত হতে পারে, যা নির্বাচনের ফলাফলকে প্রভাবিত করতে পারে।



