নওগাঁর পত্নীতলা উপজেলায় গত বৃহস্পতিবার দুপুরে ১৬ মাসের এক শিশুকে আত্রাই নদে ফেলে মা আত্মসমর্পণ করেন। ঘটনাটি জানার পর স্থানীয় পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। শিশুটি নদীর তীরে এক স্থানীয় বাসিন্দা দ্বারা উদ্ধার হয়ে পত্নীতলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
পুলিশের দল ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গেই দেখেন শিশুটি পানিতে ডুবে যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। ৬৫ বছর বয়সী খমির শেখ নামের এক বাসিন্দা পানির কাছাকাছি গিয়ে শিশুটিকে তাড়া করে তোলেন এবং তৎক্ষণাৎ প্রাথমিক শ্বাসপ্রশ্বাস পুনরুদ্ধার করেন। তার পর পুলিশ ও স্বাস্থ্যকর্মীরা শিশুর পেট থেকে পানির বাষ্প বের করে জরুরি চিকিৎসা প্রদান করেন।
শিশুটি হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর চিকিৎসক জানান, শ্বাসযন্ত্র ও ত্বকের ক্ষতি কম এবং শিশুটি শঙ্কামুক্ত অবস্থায় রয়েছে। শিশুর অবস্থা স্থিতিশীল থাকায় পরিবারকে অস্থায়ীভাবে হাসপাতালে ভর্তি রাখার প্রয়োজন হয়নি।
পত্নীতলা থানার ওসিআই মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান জানান, শিশুটিকে নদীর তীরে খমির শেখের ত্বরিত হস্তক্ষেপে উদ্ধার করা হয় এবং তৎক্ষণাৎ হাসপাতালে পাঠানো হয়। তিনি আরও উল্লেখ করেন, মা শিশুটিকে নদে ফেলে দেওয়ার পরই থানায় এসে নিজের কাজ স্বীকার করে গ্রেপ্তার না করে আইনি ব্যবস্থা চেয়েছেন।
শিশুর বাবা জানান, তার স্ত্রী সাম্প্রতিক সময়ে মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন, যা এই ঘটনার মূল কারণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তিনি বলেন, পরিবারের অন্য সদস্যরা বর্তমানে শিশুর যত্ন নিচ্ছেন এবং মানসিকভাবে অস্থির অবস্থায় থাকা স্ত্রীর সঙ্গে শিশুকে রাখছেন না।
নওগাঁর পুলিশ সুপারইনস্পেক্টর মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম জানান, সংশ্লিষ্ট নারী মানসিকভাবে অস্থির এবং তার বিরুদ্ধে এখনো কোনো আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তিনি যোগ করেন, রোগীর চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের দায়িত্ব পরিবারে অর্পণ করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় মানসিক স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করা হবে।
খমির শেখের দ্রুত পদক্ষেপের জন্য পুলিশ পক্ষ থেকে আর্থিক পুরস্কার প্রদান করা হয়েছে। পুরস্কারটি স্থানীয় নিরাপত্তা ও মানবিক সহায়তার গুরুত্ব তুলে ধরেছে।
পুলিশ বর্তমানে ঘটনাটির পূর্ণাঙ্গ তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। তদন্তের অংশ হিসেবে মা ও শিশুর পারিবারিক পটভূমি, মানসিক স্বাস্থ্য রেকর্ড এবং ঘটনার সময়ের সিকিউরিটি ক্যামেরা রেকর্ড সংগ্রহ করা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় প্রমাণ সংগ্রহের পর আইনি প্রক্রিয়া শুরু হবে।
শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য যথাযথ চিকিৎসা ও সামাজিক সহায়তা প্রদানকে গুরুত্ব দেওয়া হবে। এই ঘটনার মাধ্যমে মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা আবারও উন্মোচিত হয়েছে।



