বহুদিনের পর মুম্বাইয়ের রাস্তায় এক অপ্রত্যাশিত দৃশ্য দেখা গেল; বয়স্ক বলিউড নায়ক সঞ্জয় দত্ত টেসলা সাইবারট্রাকের ড্রাইভিং সিটে বসে গাড়ি চালাচ্ছিলেন। গাড়িটি শহরের ব্যস্ত রাস্তায় চলতে দেখতে পাওয়া যায়, যা গাড়ি প্রেমিক ও সিনেমা ভক্ত উভয়েরই দৃষ্টি আকর্ষণ করে।
সাইবারট্রাকের বৈশিষ্ট্যপূর্ণ তীক্ষ্ণ কোণ এবং স্টেইনলেস স্টিলের বডি মুম্বাইয়ের নগর দৃশ্যে এক আধুনিক চিত্র তৈরি করেছে। গাড়ির সাদা রঙের প্যানেল এবং ভবিষ্যতধর্মী ডিজাইন পার্কিং লটে দাঁড়িয়ে থাকা গাড়িগুলোর মধ্যে আলাদা স্বভাব প্রকাশ করে।
গাড়ির রেজিস্ট্রেশন নম্বর দুবাইয়ের রেজিস্ট্রেশন নির্দেশ করে, যা ইঙ্গিত করে যে গাড়িটি ভারতীয় সীমানার বাইরে থেকে আনা হয়েছে। সূত্র অনুযায়ী, গাড়িটি কার্নেট পারমিটের মাধ্যমে সাময়িকভাবে দেশে প্রবেশ করানো হয়েছে, যা কাস্টমস শুল্ক ও কর পরিশোধ না করেই গাড়ি আনার একটি স্বীকৃত পদ্ধতি।
কার্নেট পারমিটের মেয়াদ শেষ হলে গাড়িটিকে পুনরায় রপ্তানি করতে হয়, অন্যথায় আইনি বাধ্যবাধকতা লঙ্ঘন হবে। এই শর্তটি গাড়ির মালিককে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে গাড়ি ফিরিয়ে দিতে বাধ্য করে, ফলে গাড়িটি দীর্ঘমেয়াদে দেশে স্থায়ীভাবে ব্যবহার করা সম্ভব নয়।
সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করা ভিডিওতে দেখা যায় দত্ত গাড়ির বামহাতের ড্রাইভ সিট থেকে বেরিয়ে আসছেন, যা গাড়িটি বিদেশ থেকে আনা হয়েছে তা নিশ্চিত করে। গাড়ির ড্রাইভার সিটে বামহাতের স্টিয়ারিং হুইল এবং ডান পাশে গিয়ার শিফটের উপস্থিতি স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে।
ভিডিওটি প্রকাশের পর থেকে অনলাইন প্ল্যাটফর্মে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে ভক্ত ও ইভি উত্সাহী উভয়েই গাড়ির নকশা ও পারফরম্যান্স নিয়ে আলোচনা শুরু করে। মন্তব্যে গাড়ির ভবিষ্যতধর্মী চেহারা ও সঞ্জয়ের স্টাইলিশ উপস্থিতি একসাথে প্রশংসা করা হয়েছে।
টেসলা সাইবারট্রাকের উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ব্যাটারি প্যাক, শূন্য থেকে ১০০ কিমি/ঘণ্টা গতি অর্জনে তিন সেকেন্ডের কম সময় এবং শক্তিশালী টর্কের কথা বিশ্বব্যাপী পরিচিত। গাড়ির বহনক্ষমতা ও অফ-রোড পারফরম্যান্স এটিকে বিদ্যুৎচালিত পিকআপ গাড়ির মধ্যে আলাদা করে তুলেছে।
তবে বর্তমানে টেসলা ভারতের বাজারে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রবেশ করেনি; সাইবারট্রাকের মতো মডেলগুলো এখনও বিক্রয়ের জন্য অনুমোদিত নয়। তাই এই ধরনের গাড়ি দেখা যায় মূলত আমদানি বা বিশেষ পারমিটের মাধ্যমে, যা গাড়ি প্রেমিকদের জন্য এক বিরল অভিজ্ঞতা তৈরি করে।
সঞ্জয় দত্তের চলচ্চিত্রগত কর্মকাণ্ডের দিকেও দৃষ্টি দেওয়া যায়; তিনি সম্প্রতি ‘ধুরন্ধর’ ছবিতে কাজ করছেন, যা ৫ ডিসেম্বর ২০২৫-এ মুক্তি পেয়েছে, এবং সাম্প্রতিক সময়ে প্রকাশিত ‘দ্য রাজা স্যাব’ ছবিতে তার উপস্থিতি দর্শকদের নজরে এসেছে। এই দুই চলচ্চিত্রের প্রচারাভিযান চলাকালীনই গাড়িটি দেখা গিয়েছে, যা তার স্টার পাওয়ারকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
সামগ্রিকভাবে, মুম্বাইয়ের রাস্তায় সঞ্জয় দত্তের সাইবারট্রাকের উপস্থিতি গাড়ি শিল্প ও বিনোদন জগতের সংযোগকে নতুন দৃষ্টিকোণ থেকে উপস্থাপন করেছে। ভবিষ্যতে টেসলা গাড়ি যদি ভারতের বাজারে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রবেশ করে, তবে এই ধরনের দৃশ্য আরও নিয়মিত হতে পারে, যা ইলেকট্রিক গাড়ির গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে সহায়ক হবে।



