উত্তরা পশ্চিম থানা কর্তৃক জানানো হয়েছে যে, আজ প্রাতঃকালীন সময়ে সেক্টর ১১, রোড ১৮-এ অবস্থিত সাততলা বাসভবনের প্রথম তলায় অগ্নিকাণ্ড ঘটায় অন্তত পাঁচজনের প্রাণ ত্যাগ হয়। আগুনের সূত্রপাত প্রায় সকাল ৭:৫০ টার দিকে ধরা পড়ে এবং দ্রুতই পুরো তলায় ছড়িয়ে পড়ে।
থানার অফিসার‑ইন‑চার্জ রফিকুল আহমেদ জানান, মৃতদেহের তিনটি কুয়েত মিত্রি হাসপাতাল এবং দুইটি উত্তরা স্পেশালাইজড হাসপাতাল থেকে নেওয়া হয়েছে। পরিচিত শিকারের মধ্যে ৩৭ বছর বয়সী ফজলে রাব্বি, ৫২ বছর বয়সী হারে এবং তার ১৭ বছর বয়সী পুত্র রাহাব অন্তর্ভুক্ত, বাকি দুজনের পরিচয় এখনও নির্ধারণ করা বাকি।
অগ্নি সেবা ও সিভিল ডিফেন্সের নিয়ন্ত্রণ কক্ষের তথ্য অনুযায়ী, উত্তরা ফায়ার স্টেশন থেকে দুইটি ইউনিট সকাল ৭:৫৮ টায় ঘটনাস্থলে পৌঁছে দ্রুতই আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা শুরু করে। ৮:২৫ টার মধ্যে অগ্নিকাণ্ডের প্রধান অংশ দমন করা হয় এবং ১০:০০ টার দিকে সম্পূর্ণ নিভে যায়, যা ফায়ার সার্ভিস মিডিয়া উইংের তলহা বিন জাসিমের বিবরণে নিশ্চিত করা হয়েছে।
অগ্নিকাণ্ডে মোট তেরজনকে উদ্ধার করা হয় এবং কুয়েত মিত্রি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়; তাতে তিনজনের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত বাকি দশজনের অবস্থা স্থিতিশীল, তবে চিকিৎসা চলমান।
পাশের বাড়ির বাসিন্দা মাহমুদা আকতার জানান, তিনি সকালবেলায় “আগুন, আগুন” চিৎকার শোনার সঙ্গে সঙ্গে প্রথম তলায় জ্বলন্ত শিখা দেখতে পান। তিনি উল্লেখ করেন, ভিতরে একাধিক ব্যক্তি, বিশেষ করে এক নারী, সাহায্যের জন্য চিৎকার করে উঠছিল। তৎক্ষণাৎ তিনি ফায়ার সার্ভিসকে জানিয়ে দেন।
অগ্নিকাণ্ডের কারণ সম্পর্কে এখনো কোনো স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা জানান, ঘটনাস্থলে প্রাথমিক তদন্ত চলমান এবং বিশ্লেষণের পর ফলাফল প্রকাশ করা হবে।
উত্তরা পশ্চিম থানা এই ঘটনার জন্য অপরাধমূলক মামলা দায়ের করেছে এবং সংশ্লিষ্ট আইনানুগ ধারা অনুযায়ী তদন্ত চালু করেছে। ফরেনসিক দল ঘটনাস্থলে প্রবেশ করে প্রমাণ সংগ্রহ, বৈদ্যুতিক সংযোগ, গ্যাস লাইন এবং অন্যান্য সম্ভাব্য উৎস পরীক্ষা করছে। বর্তমানে কোনো সন্দেহভাজন বা দায়ী ব্যক্তি চিহ্নিত করা যায়নি; তবে সম্ভাব্য অবহেলা, বৈদ্যুতিক ত্রুটি বা অন্য কোনো কারণের দিকে দৃষ্টি দেওয়া হচ্ছে।
পরিবারিক সদস্যদের ক্ষতিপূরণ ও আইনি সহায়তার জন্য প্রয়োজনীয় নথি প্রস্তুত করা হবে এবং থানা মামলার রিপোর্ট সংশ্লিষ্ট ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে জমা দেবে। পরবর্তী শুনানি কয়েক দিনের মধ্যে নির্ধারিত হওয়ার কথা, যেখানে প্রমাণের ভিত্তিতে অতিরিক্ত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
অধিকাংশ বাসিন্দা ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের আহ্বান অনুসারে, ভবনগুলোতে অগ্নি নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী করা, অপ্রয়োজনীয় জ্বালানি সংরক্ষণ না করা এবং নিয়মিত ফায়ার অ্যালার্ম ও সিগন্যাল সিস্টেম পরীক্ষা করা জরুরি।
এই দুঃখজনক ঘটনার পর, স্থানীয় প্রশাসন ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থা একত্রে কাজ করে দায়িত্বশীলদের সনাক্ত করা এবং ভবিষ্যতে এমন দুর্যোগ রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।



