উত্তরা, সেক্টর ১১, রোড ১৮-এ অবস্থিত সাততলা বাসভবনের প্রথম তলায় আজ সকাল ৭:৫০ টার কাছাকাছি অগ্নিকাণ্ড শুরু হয়। আগুনের ফলে কমপক্ষে তিনজনের মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে, যদিও মৃতদের পরিচয় এখনো নিশ্চিত করা যায়নি।
দাহের সূত্রপাতের সঠিক কারণ এখনও নির্ধারিত হয়নি, তবে স্থানীয় ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স কন্ট্রোল রুমের তথ্য অনুযায়ী আগুনটি প্রথম তলায় ছড়িয়ে পড়ে।
উত্তরা ফায়ার স্টেশন থেকে দুইটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ৭:৫৮ টায় কাজ শুরু করে। অগ্নিনির্বাপক সরঞ্জাম ও পানির জোয়ারে তারা আগুনের বিস্তার রোধে তৎপর হয়।
প্রায় ৩৫ মিনিটের পর, ৮:২৫ টায় অগ্নি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং শেষ পর্যন্ত সকাল ১০:০০ টার দিকে সম্পূর্ণ নিভে যায়। ফায়ার সার্ভিসের মিডিয়া উইংের কর্মকর্তা তলহা বিন জাসিমের মতে, পুরো প্রক্রিয়া প্রায় দুই ঘণ্টা সময় নিয়েছে।
অগ্নিকাণ্ডে মোট তেরজন বাসিন্দা উদ্ধার হয়। উদ্ধারকৃতদের দ্রুত কুয়েত মৈত্রি হাসপাতাল নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে তিনজনের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে। বাকি দশজনের অবস্থার বিষয়ে এখনো স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।
আসন্ন বাসভবনের প্রতিবেশী এক বাসিন্দা, মুহামুদা আক্তার, জানান তিনি সকালবেলায় “আগুন, আগুন” শোনার সঙ্গে সঙ্গে দ্বিতীয় তলায় জ্বলন্ত শিখা দেখেছিলেন। তিনি তৎক্ষণাৎ ফায়ার সার্ভিসকে জানিয়ে দেন, যা দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানায়।
উত্তরা পশ্চিম থানা অফিসার-ইন-চার্জ রফিকুল আহমেদও ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে জানান, বর্তমানে অন্তত তিনজনের মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে এবং ভবিষ্যতে মৃত্যুর সংখ্যা বাড়তে পারে। তিনি জানান, মৃতের সংখ্যা যাচাই ও পরিবারকে জানাতে অতিরিক্ত তদন্ত চলছে।
অগ্নিকাণ্ডের মূল কারণ সম্পর্কে এখনো কোনো স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায়নি। ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা বলছেন, পূর্ণাঙ্গ তদন্তের পরই কারণ নির্ধারণ করা সম্ভব হবে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে ফলাফল জানানো হবে।
স্থানীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও ফায়ার সার্ভিস একত্রে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রমাণ সংগ্রহের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা রোধে নিরাপত্তা বিধি কঠোরভাবে প্রয়োগের প্রয়োজনীয়তা জোর দিয়ে বলা হয়েছে।
এই ঘটনায় প্রভাবিত পরিবার ও প্রতিবেশীদের জন্য মানসিক সহায়তা প্রদান এবং পুনর্বাসনের ব্যবস্থা নেওয়ার কথা সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো ঘোষণা করেছে। তদন্তের ফলাফল প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে আরও তথ্য জানানো হবে।



