20 C
Dhaka
Friday, January 30, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিইয়েমেনে শায়া মোহসেন জিনদানি নতুন প্রধানমন্ত্রী নিযুক্ত

ইয়েমেনে শায়া মোহসেন জিনদানি নতুন প্রধানমন্ত্রী নিযুক্ত

সৌদি আরবের সমর্থনে গঠিত প্রেসিডেন্সিয়াল লিডারশিপ কাউন্সিল (PLC) ১৫ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার সালেম বিন ব্রেইকের পদত্যাগ গ্রহণের পর শায়া মোহসেন জিনদানিকে নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ঘোষণা করেছে। জিনদানি, যিনি পূর্বে দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন, এখন সরকার পরিচালনার দায়িত্বে আসবেন।

সালেম বিন ব্রেইক তার পদত্যাগপত্র PLC‑কে জমা দিয়ে সরকার থেকে সরে গেছেন, যা কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই স্বীকৃত হয়। একই দিনে কাউন্সিলের সদস্যরা জিনদানির নাম নতুন প্রধানমন্ত্রীরূপে প্রকাশ করে, ফলে দেশের শীর্ষ নির্বাহী পদে দ্রুত পরিবর্তন ঘটেছে।

শায়া মোহসেন জিনদানি ২০১৪ সালে হুথি বিদ্রোহী গোষ্ঠীর সানা দখল করার পর সৃষ্ট রাজনৈতিক অস্থিরতার সময়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন। সেই সময়ে প্রেসিডেন্ট আব্দ রাব্বু মনসুর আল‑হাদী সৌদি আরবে আশ্রয় নেন এবং হুথি গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে একটি সামরিক জোট গঠন করা হয়।

সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং ইয়েমেনের সেনাবাহিনী ২০১৫ সাল থেকে হুথি বিদ্রোহীদের মোকাবিলায় যৌথ সামরিক অভিযান চালিয়ে আসছে। প্রায় এক দশকেরও বেশি সময় ধরে চলমান এই সংঘাতে দেশের উত্তরভাগ হুথি নিয়ন্ত্রণে, আর দক্ষিণভাগে PLC শাসন বজায় রেখেছে।

দক্ষিণে হুথি বিরোধী গোষ্ঠী হিসেবে সাউদার্ন ট্রানজেশন কাউন্সিল (STC) উদয় হয়, যা PLC‑এর ওপর চাপ সৃষ্টি করে। STC‑এর সঙ্গে সহযোগিতা নিয়ে সৌদি আরব ও আমিরাতের মধ্যে সম্পর্কের টানাপোড়েন দেখা দেয়, ফলে রিয়াদের অনুরোধে আমিরাতের সেনা দক্ষিণ ইয়েমেন থেকে প্রত্যাহার করে।

সম্প্রতি PLC‑এর নেতৃত্বাধীন জোটের দক্ষিণে সামরিক অভিযান পুনরায় শুরু হওয়ায় STC‑এর প্রেসিডেন্ট এইদারুস আল‑জুবাইদি যুক্ত আরব আমিরাতে আশ্রয় নেন। তার এই পদক্ষেপের পর থেকে দক্ষিণে বিচ্ছিন্নতাবাদী কার্যক্রম উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায় এবং অঞ্চলটি পুনরায় স্থিতিশীল হয়।

দক্ষিণের নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে PLC সরকার প্রধানমন্ত্রীর পদে পরিবর্তন আনে। জিনদানির নতুন দায়িত্ব গ্রহণের ফলে সরকারী নীতি ও কূটনৈতিক সম্পর্কের পুনর্গঠন প্রত্যাশিত।

বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন, জিনদানির অভিজ্ঞতা, বিশেষ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সময়কালে গৃহীত কূটনৈতিক পদক্ষেপ, সরকারকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে পুনরায় স্থিতিশীল করতে সহায়তা করবে। একই সঙ্গে, হুথি ও STC‑এর সঙ্গে চলমান আলোচনায় তার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

প্রেসিডেন্সিয়াল লিডারশিপ কাউন্সিলের সিদ্ধান্তের পেছনে আন্তর্জাতিক সমর্থন ও আঞ্চলিক স্বার্থের সমন্বয় রয়েছে। সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন জোটের সামরিক ও কূটনৈতিক কৌশল, বিশেষ করে আমিরাতের সামরিক প্রত্যাহার ও পুনরায় যুক্ত হওয়া, দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক গতিবিধিকে প্রভাবিত করছে।

যদিও নতুন প্রধানমন্ত্রী শায়া মোহসেন জিনদানি সরকারে যোগ দিয়েছেন, তবে হুথি নিয়ন্ত্রিত উত্তর ও STC‑এর স্বতন্ত্র দাবির মধ্যে সমঝোতা এখনও চ্যালেঞ্জের মুখে। ভবিষ্যতে কী ধরনের সমঝোতা হবে, তা দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার মূল চাবিকাঠি হবে।

গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ও আন্তর্জাতিক চাপের সমন্বয়ে ইয়েমেনের রাজনৈতিক দৃশ্যপটের পরিবর্তন অব্যাহত থাকবে বলে অনুমান করা হচ্ছে। জিনদানির নেতৃত্বে সরকার কীভাবে হুথি ও বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীর সঙ্গে সমঝোতা করবে, তা দেশের দীর্ঘমেয়াদী শান্তি ও পুনর্গঠনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

এই পরিবর্তনটি দেশের অভ্যন্তরীণ ও বহিরাগত নীতিনির্ধারকদের জন্য নতুন দিকনির্দেশনা তৈরি করবে, এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টিতে ইয়েমেনের সংকট সমাধানের সম্ভাবনা বাড়াবে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডি প্রতিদিন
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments