হ্যাপি প্যাটেল খতরনাক জাসুস নামের নতুন কমেডি‑অ্যাকশন চলচ্চিত্রটি আগামীকাল, ১৬ জানুয়ারি ২০২৬-এ বড় পর্দায় প্রকাশিত হবে। কেন্দ্রীয় চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ড (CBFC) এই ছবির জন্য ‘এ’ রেটিং প্রদান করেছে। সার্টিফিকেশন প্রক্রিয়ায় বোর্ড বেশিরভাগ গালিগালাজ ও অশ্লীল শব্দকে অনুমোদন করেছে, তবে একটি নির্দিষ্ট দৃশ্য বাদ দেওয়া হয়েছে।
ফিল্মটি একটি হালকা‑মেজাজের কৌতুকধর্মী কাহিনী, যেখানে প্রধান চরিত্র হ্যাপি প্যাটেল একটি ঝুঁকিপূর্ণ গোয়েন্দা কাজের মধ্যে জড়িয়ে পড়ে। ছবির প্রযোজক হিসেবে বলিউডের বড় নাম আমির খান যুক্ত, এবং তিনি বিশেষ উপস্থিতি দিয়ে ছবিতে রঙ যোগ করেছেন। পরিচালক বির দাসের মতে, এই প্রকল্পটি তার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বন্য এবং রঙিন কাজগুলোর একটি।
CBFC কর্তৃক প্রকাশিত কাট লিস্টে দেখা যায়, ছবির বেশিরভাগ অশ্লীল ও গালিগালাজের শব্দগুলো অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। তবে কিছু তীব্র শব্দ ও বাক্যাংশকে হালকা করা হয়েছে, যাতে রেটিং ‘এ’ বজায় থাকে। বিশেষভাবে, একটি দৃশ্য যেখানে ‘ব্রাউন’ রঙের ব্যবহার করা হয়েছে, সেটি সম্পূর্ণভাবে মুছে ফেলা হয়েছে।
‘ব্রাউন’ দৃশ্যটি মূলত একটি কমেডি সিকোয়েন্সে ব্যবহৃত হয়েছিল, যেখানে চরিত্রের রঙিন পোশাকের মাধ্যমে হাস্যকর পরিস্থিতি তৈরি করা হয়। তবে সেন্ট্রাল বোর্ডের মতে, এই রঙের ব্যবহার কিছু দর্শকের জন্য আপত্তিকর হতে পারে, ফলে সেটি সম্পাদনা করে ছবিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।
চলচ্চিত্রের এই সার্টিফিকেশন সিদ্ধান্ত দর্শক ও শিল্প সমালোচকদের মধ্যে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। ‘এ’ রেটিং থাকা সত্ত্বেও গালিগালাজের পরিমাণ বেশী থাকায়, কিছু পরিবারিক দর্শককে সতর্ক করা হচ্ছে। তবে কমেডি শৈলীর স্বাভাবিকতা এবং গল্পের রসিকতা অনেকেরই আগ্রহ বাড়িয়ে তুলেছে।
চলচ্চিত্রটি দেশব্যাপী ৩৫০টি থিয়েটারে একসাথে মুক্তি পাবে এবং একই সঙ্গে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে স্ট্রিমিংয়ের জন্য প্রস্তুত। প্রি-অর্ডার টিকিট বিক্রি ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে, এবং প্রথম দিনেই পূর্ণ হাউসের সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে।
গত বছর থেকে এই ছবির রিলিজের খবর বিভিন্ন মিডিয়ায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়েছে, এবং ৩০ নভেম্বর ২০২৫-এ প্রথম ট্রেলার প্রকাশের পর থেকে অনলাইন অনুসন্ধান বৃদ্ধি পেয়েছে। পূর্বে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ছবির বাজেট এবং শুটিং শিডিউল যথাযথভাবে পরিচালিত হয়েছে।
‘এ’ রেটিংয়ের অধীনে ছবির বাণিজ্যিক সম্ভাবনা বিশ্লেষকরা ইতিবাচকভাবে মূল্যায়ন করছেন। যদিও গালিগালাজের পরিমাণ বেশি, তবে রেটিং বোর্ডের অনুমোদন মানে ছবিটি প্রধানধারার দর্শকদের জন্য উন্মুক্ত। তাই টিকিট বিক্রির পূর্বাভাসে ইতিবাচক প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।
প্রযোজক আমির খান চলচ্চিত্রের পোস্টার ও টিজার প্রকাশের সময় উল্লেখ করেছেন, এই প্রকল্পটি তার জন্য একটি নতুন চ্যালেঞ্জ এবং দর্শকদের জন্য একটি তাজা অভিজ্ঞতা হবে। তিনি বিশেষ উপস্থিতি দিয়ে ছবিতে অতিরিক্ত আকর্ষণ যোগ করার কথা বলেছেন।
দিরেক্টর বির দাসের মতে, হ্যাপি প্যাটেল খতরনাক জাসুসের স্ক্রিপ্টে সামাজিক বিষয়গুলোকে হালকা রসিকতার সঙ্গে মিশিয়ে উপস্থাপন করা হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেছেন, ছবির মূল লক্ষ্য হল দর্শকদের হাসি ও বিনোদন প্রদান করা, পাশাপাশি কিছু হালকা সামাজিক মন্তব্যও করা।
চলচ্চিত্রের সঙ্গীত ও পটভূমি স্কোরে আধুনিক ও ঐতিহ্যবাহী উপাদানের মিশ্রণ রয়েছে, যা গল্পের টোনকে সমর্থন করে। রেকর্ডেড গানগুলো ইতিমধ্যে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে স্ট্রিমিংয়ের জন্য উপলব্ধ, এবং সঙ্গীতপ্রেমীরা সেগুলোকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেছে।
সামগ্রিকভাবে, হ্যাপি প্যাটেল খতরনাক জাসুসের মুক্তি দর্শক ও শিল্পের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। CBFC এর অনুমোদন ও কাট লিস্টের পরিবর্তনগুলো ছবির রিলিজের আগে শেষ পর্যায়ে চূড়ান্ত হয়েছে, এবং এখন দর্শকরা এই নতুন কমেডি অ্যাডভেঞ্চার উপভোগের জন্য প্রস্তুত।



