জাপানে বৃহস্পতিবার দুইটি বৃহৎ বিরোধী দল সরকারবিরোধী জোট গঠন করে প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির শাসনকে চ্যালেঞ্জ জানাতে প্রস্তুত হয়েছে। এই জোটের লক্ষ্য সম্ভাব্য আকস্মিক নির্বাচনের আগে ভোটারদের সমর্থন একত্রিত করা এবং শাসন জোটের সংখ্যাগরিষ্ঠতা দুর্বল করা।
সানায়ে তাকাইচি, যিনি গত অক্টোবর মাসে দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন, সাম্প্রতিক জনমত জরিপে শাসন জোটের জন্য অল্প সংখ্যাগরিষ্ঠতা বাড়ানোর সুযোগ পেয়েছেন। তার নেতৃত্বে জোটের পার্টিগুলো সংসদের নিম্নকক্ষে শক্তিশালী অবস্থান বজায় রাখতে চায়।
বিরোধী দিকের প্রধান দল কনস্টিটিউশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টি অব জাপান (সিডিপি) এর নেতা ইয়োশিহিকো নোদা এই নতুন জোটের মাধ্যমে শাসন জোটের ক্ষমতা সীমিত হবে বলে আশাব্যক্তি প্রকাশ করেন। নোদা উল্লেখ করেন, “আমরা একসাথে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য একটি নতুন জোট গঠন করেছি।”
নোদা আরও জানান, মিডিয়ার রিপোর্ট অনুযায়ী আগামী মাসে নির্বাচনের সম্ভাবনা রয়েছে এবং সিডিপি শাসন জোটের সাবেক সহযোগী “কোমেইতো”কে সঙ্গে নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। তিনি যোগ করেন, বিরোধী দলগুলো তাকাইচির ডানপন্থী জোটের বিপরীতে একটি ‘মধ্যপন্থি’ জোট গঠন করতে সম্মত হয়েছে।
বিরোধী জোটের অংশ হিসেবে কনস্টিটিউশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টি এবং “কোমেইতো” ছাড়াও জাপান ইনোভেশন পার্টি (JIP) এর কর্মকর্তারা মিডিয়াকে জানিয়েছেন, সংসদের অধিবেশন শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ভোটের ডাক দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তটি শাসন জোটের জন্য চ্যালেঞ্জের ইঙ্গিত দেয়।
শাসন জোটের প্রধান দল লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) এবং তার সহযোগী জাপান ইনোভেশন পার্টি, দুজনেই এখনো এই বিরোধী জোটের প্রভাবকে মূল্যায়ন করছেন। তবে, শাসন জোটের সমর্থকরা বিশ্বাস করেন, বর্তমান জরিপে তাকাইচির জনপ্রিয়তা এখনও উচ্চমাত্রায় রয়েছে।
বিরোধী জোটের গঠনকে দেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা একটি কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন, যা শাসন জোটের অল্প সংখ্যাগরিষ্ঠতা ভেঙে নতুন রাজনৈতিক গতিপথ তৈরি করতে পারে। বিশেষত, যদি নির্বাচনের তারিখ শীঘ্রই নির্ধারিত হয়, তবে এই জোটের সমন্বিত প্রচারণা ভোটারদের মনোভাব পরিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
বিরোধী দলগুলো একত্রিত হয়ে ভোটারদের কাছে মধ্যম ও প্রগতিশীল নীতি তুলে ধরতে চায়, যা তাকাইচির জোটের রক্ষণশীল নীতির বিপরীতে দাঁড়াবে। তাদের লক্ষ্য হল অর্থনৈতিক সংস্কার, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং পরিবেশ সংরক্ষণে সমন্বিত পরিকল্পনা উপস্থাপন করা।
প্রধানমন্ত্রী তাকাইচি এবং তার শাসন জোটের প্রতিনিধিরা এখনো এই বিরোধী জোটের গঠন সম্পর্কে কোনো মন্তব্য করেননি। তবে, তারা সংসদে তাদের নীতি ও কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।
বিরোধী জোটের গঠন এবং সম্ভাব্য নির্বাচনের সময়সূচি সম্পর্কে সরকারী দপ্তর থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এখনো পাওয়া যায়নি। তবে, রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা অনুমান করছেন, শাসন জোটের নেতৃত্বে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে যাতে রাজনৈতিক অস্থিরতা কমে।
এই জোটের গঠন জাপানের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে নতুন গতিশীলতা আনবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিশেষত, মধ্যম ভোটারগোষ্ঠীর সমর্থন পেতে উভয় পক্ষই তাদের নীতি ও প্রচারণা পুনর্গঠন করতে পারে।
যদি শাসন জোটের অল্প সংখ্যাগরিষ্ঠতা দুর্বল হয়, তবে ভবিষ্যতে সরকার গঠন প্রক্রিয়ায় বিরোধী জোটের ভূমিকা বাড়তে পারে। অন্যদিকে, শাসন জোট যদি শক্তিশালী অবস্থান বজায় রাখে, তবে বিরোধী জোটের প্রভাব সীমিত থাকতে পারে।
সারসংক্ষেপে, জাপানে দুইটি প্রধান বিরোধী দল একত্রিত হয়ে শাসন জোটের বিরুদ্ধে একটি নতুন জোট গঠন করেছে, যা সম্ভাব্য নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক শক্তির ভারসাম্য পরিবর্তন করতে পারে। এই গঠন দেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎকে কীভাবে প্রভাবিত করবে তা সময়ই বলবে।



