বাংলাদেশের মেডিকেল শিক্ষা মান নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ মেডিকেল এডুকেশন অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিল (বিএমইএসি) সরকারী দুইটি মেডিকেল কলেজকে স্বীকৃতি প্রদান করেছে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের এমবিবিএস প্রোগ্রামগুলো এই প্রথম স্বীকৃতির আওতায় এসেছে।
বিএমইএসি জানিয়েছে যে, উভয় প্রতিষ্ঠানের স্বীকৃতি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর ১২ জানুয়ারি তাদেরকে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠানো হয়। স্বীকৃতি পত্র পাঁচ বছরের জন্য প্রদান করা হবে এবং শীঘ্রই স্বাক্ষরিত শংসাপত্র জারি করা হবে।
স্বীকৃতি প্রদানকারী মানদণ্ড বিশ্ব মেডিকেল এডুকেশন ফেডারেশন (ডব্লিউএফইএমই) নির্ধারিত আন্তর্জাতিক মানের উপর ভিত্তি করে তৈরি। এই মানদণ্ডের সঙ্গে স্থানীয় আইনগত বিধানগুলোকে সমন্বয় করে বিএমইএসি স্বীকৃতি প্রক্রিয়া পরিচালনা করে।
দেশে বর্তমানে একশেরও বেশি সরকারি ও বেসরকারি মেডিকেল কলেজ রয়েছে। তবে বহু প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক, অবকাঠামো, সরঞ্জাম ও ক্লিনিক্যাল সুবিধার ঘাটতির কারণে শিক্ষার মান নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। এসব সমস্যার প্রেক্ষিতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে সরকারী ও বেসরকারি কলেজে ৫৭২টি সিট কমিয়ে দিয়েছে।
সিট কমানোর কারণ হিসেবে অব্যাপ্ত অবকাঠামো, মানবসম্পদ, হাসপাতাল সুবিধা এবং অন্যান্য ত্রুটি উল্লেখ করা হয়েছে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন এবং শিক্ষার্থীদের জন্য উপযুক্ত প্রশিক্ষণ পরিবেশ নিশ্চিত করার লক্ষ্য রাখা হয়েছে।
বিএমইএসি ২০২৪ সালের এপ্রিল মাসে বাংলাদেশ মেডিকেল এডুকেশন অ্যাক্রেডিটেশন আইন ২০২৩ অনুযায়ী প্রতিষ্ঠিত হয়। একই বছর আগস্টে সরকার পরিবর্তনের পর কাউন্সিলের গঠন পুনর্নির্ধারিত হয় এবং অক্টোবর মাসে নতুন সদস্যদের সঙ্গে পুনর্গঠন সম্পন্ন হয়।
স্বীকৃতি প্রক্রিয়ার প্রথম ধাপে, প্রতিটি মেডিকেল কলেজকে স্ব-পর্যায়ন প্রতিবেদন জমা দিতে হয়। এই প্রতিবেদনটি ডব্লিউএফইএমই নির্ধারিত মানদণ্ড এবং দেশের সংশ্লিষ্ট আইনগত নীতিমালা অনুসারে তৈরি করা হয়।
প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর, বিএমইএসি একটি প্রযুক্তিগত দল পাঠায় যা কলেজের অবকাঠামো, শিক্ষাক্রম, শিক্ষকবৃন্দের যোগ্যতা এবং ক্লিনিক্যাল প্রশিক্ষণ সুবিধা পর্যালোচনা করে। দলটি现场 পরিদর্শন করে এবং প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করে।
পরিদর্শনের ফলাফল ও স্ব-পর্যায়ন প্রতিবেদন একত্রে বিশ্লেষণ করে, বিএমইএসি একটি সমন্বিত মূল্যায়ন প্রতিবেদন প্রস্তুত করে। এই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে স্বীকৃতি প্রদান বা প্রত্যাখ্যানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের ক্ষেত্রে, উভয়ই ডব্লিউএফইএমই মানদণ্ড পূরণ করেছে এবং স্ব-পর্যায়ন প্রতিবেদনেও প্রয়োজনীয় তথ্য সঠিকভাবে উপস্থাপন করেছে বলে স্বীকৃতি প্রদান করা হয়েছে।
স্বীকৃতি পত্রের মাধ্যমে, এই দুই কলেজকে পাঁচ বছরের জন্য মানসম্পন্ন শিক্ষা প্রদান নিশ্চিত করা হবে এবং পরবর্তী সময়ে পুনর্মূল্যায়নের মাধ্যমে মানদণ্ড বজায় রাখতে হবে।
শিক্ষার্থীদের জন্য এই স্বীকৃতি মানে হবে আরও স্বচ্ছ ও মানসম্মত প্রশিক্ষণ পরিবেশ, যা ভবিষ্যতে দেশের স্বাস্থ্যসেবা মান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বিএমইএসির এই উদ্যোগকে দেশের মেডিকেল শিক্ষার উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে এবং অন্যান্য কলেজগুলিকেও মানদণ্ড অনুসারে উন্নতি করতে উৎসাহিত করা হবে।
আপনার যদি মেডিকেল শিক্ষার মানদণ্ড বা স্বীকৃতি প্রক্রিয়া সম্পর্কে কোনো প্রশ্ন থাকে, তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ওয়েবসাইটে গিয়ে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করতে পারেন।



