22 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeখেলাধুলামেরা শিখরে ট্রেকিং অভিযান: ইমতিয়াজ ও শাহনাজের সঙ্গে হিমালয় পুনরায়

মেরা শিখরে ট্রেকিং অভিযান: ইমতিয়াজ ও শাহনাজের সঙ্গে হিমালয় পুনরায়

হিমালয়ের মেরা শিখর, ৬,৪৭৬ মিটার উচ্চতার সর্বোচ্চ ট্রেকিং শিখর, আজকের ট্রেকিং দলকে আকর্ষণ করেছে। ইমতিয়াজ এলাহী, শারীরিক দৃঢ়তা সম্পন্ন এক আইরনম্যান ও নর্সম্যান অ্যাথলিট, এবং ডেন্টাল সার্জন শাহনাজ, গাইড পাসাংয়ের সঙ্গে, কাতমান্ডু থেকে স্যাল্লেরি পর্যন্ত গাড়ি ভ্রমণের পর লুকলায় পৌঁছানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন। দলটি সন্ধ্যায় স্যাল্লেরিতে পৌঁছে, রাতের খাবার শেষে বিশ্রাম নেয়, পরের দিনের চ্যালেঞ্জের জন্য প্রস্তুত হয়।

প্রায় ছয় বছর আগে, একই ট্রেকার এভারেস্ট থ্রি পাসেস ট্রেক সম্পন্ন করে হিমালয়ের কঠোর পরিবেশে প্রথম পদচারণা রেখেছিলেন। সেই অভিজ্ঞতা তার শারীরিক ও মানসিক সীমা পরীক্ষা করে, মেরা শিখরে আরেকটি চ্যালেঞ্জের জন্য ভিত্তি স্থাপন করে। এখন তিনি আবার হিমালয়ের ডাক শোনেন, যেখানে মেরার শিখরকে অতিক্রম করা মানে বিশ্বের সর্বোচ্চ ট্রেকিং শিখর জয় করা।

মেরা শিখর, হিমালয়ের গন্ডার পর্বতমালার অংশ, তার শীতল হিমবাহ ও উঁচু আকাশের জন্য পরিচিত। ৬,৪৭৬ মিটার উচ্চতা এটিকে বিশ্বের সর্বোচ্চ ট্রেকিং শিখর করে তুলেছে, যা কোনো প্রযুক্তিগত ক্লাইম্বিং সরঞ্জাম ছাড়া অতিক্রম করা যায় না। শীর্ষে পৌঁছানোর পথে তীব্র শীতলতা, হাওয়া ও হিমবাহের গঠনমূলক বাধা থাকে, যা শারীরিক সহনশীলতা ও মানসিক দৃঢ়তা দাবি করে।

ইমতিয়াজ এলাহী, আইরনম্যান ৭০.৩ এবং নর্সম্যান রেসে অংশগ্রহণকারী, তার শৃঙ্খলা ও প্রশিক্ষণকে এই অভিযানে নিয়ে আসেন। তার কঠোর প্রশিক্ষণ শারীরিক সহনশীলতা বাড়ায় এবং উচ্চতার অভিযানে প্রয়োজনীয় মানসিক স্থিতিশীলতা প্রদান করে। দুজনের মধ্যে সমন্বয়, ধৈর্য ও পারস্পরিক সম্মান ট্রেকের গতি নির্ধারণ করে।

অভিযানের প্রস্তুতি হিমালয়ান মাউন্টেনিয়ারিং ইনস্টিটিউটে শুরু হয়। রুকস্যাকের সঠিক প্যাকিং পদ্ধতি শিখতে পুরো দিন ব্যয় করা হয়, তবে প্রস্থান দিনের আগে পুনরায় প্যাকিংয়ের প্রয়োজন হয়। এই পুনরাবৃত্তি প্যাকিং প্রক্রিয়া উচ্চতার অভিযানে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সঠিকভাবে সাজানোর গুরুত্বকে তুলে ধরে।

প্রাথমিকভাবে দুইজনের পরিকল্পনা ছিল, তবে ডেন্টাল সার্জন শাহনাজের যোগদানের ফলে দলটি তিনজন হয়ে যায়। শাহনাজের শান্ত স্বভাব ও দৃঢ় সংকল্প দলকে মানসিকভাবে সমর্থন করে। গাইড পাসাং, স্থানীয় জ্ঞানসম্পন্ন গাইড, দলের নিরাপত্তা ও পথনির্দেশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

দলটি কাতমান্ডু থেকে ভোরের আগে রওনা হয়ে, গাড়িতে স্যাল্লেরি পৌঁছায়। স্যাল্লেরি, ২,৩৬০ মিটার উচ্চতার একটি ছোট গ্রাম, ট্রেকের প্রথম ভিত্তি হিসেবে কাজ করে। ইমতিয়াজ সরাসরি লুকলায় উড়ে গিয়ে, শাহনাজ ও পাসাং গাড়িতে স্যাল্লেরি থেকে লুকলায় যাওয়ার পরিকল্পনা করেন। স্যাল্লেরিতে পৌঁছানোর সময় সন্ধ্যা হয়ে যায়, যা দলের জন্য প্রথম রাতের বিশ্রাম নিশ্চিত করে।

সাল্লেরিতে পৌঁছানোর পর, দলটি স্থানীয় বিদ্যালয়ের কাছাকাছি সংক্ষিপ্ত এক্সক্লিমেশন হাঁটা করে। হিমালয়ের সূর্যাস্তের রঙিন দৃশ্য, লালচে আকাশ ও পর্বতের ছায়া, প্রথমবারের মতো অনুভূতি জাগায়। প্রতিটি সূর্যাস্তকে প্রথমবারের মতো দেখার মতো অনুভব করা হয়, যা উচ্চতার অভিযানের মানসিক প্রশান্তি বাড়ায়।

সন্ধ্যায় দলের জন্য চিয়া (চা) ও মোমোসের স্বাদ বিশেষভাবে মনোমুগ্ধকর হয়। হিমালয়ের শীতল বাতাসে গরম চা ও স্টিমড ডাম্পলিংসের স্বাদ স্বাভাবিক খাবারের চেয়ে বেশি রুচিকর মনে হয়। রাতের খাবার সরল ও পুষ্টিকর ছিল, যা পরের দিনের শারীরিক চাহিদা পূরণে সহায়ক।

দলটি তাড়াতাড়ি শোয়ায় যায়, কারণ পরের দিন উচ্চতার অভিযানের জন্য কঠোর পথ অতিক্রম করতে হবে। শিবিরে বিশ্রাম নেওয়ার সময়, সবাই জানে যে হিমালয়ের শর্ত কখনোই সহজ নয়, এবং প্রতিটি পদক্ষেপে সতর্কতা প্রয়োজন।

মেরা শিখরে চূড়া অতিক্রমের লক্ষ্য নিয়ে, দলটি পরের দিন থেকে ধীরে ধীরে উচ্চতা বাড়িয়ে ট্রেক চালিয়ে যাবে। হিমালয়ের কঠোর পরিবেশ, শীতল বাতাস ও হিমবাহের উপস্থিতি তাদের জন্য চ্যালেঞ্জের মূল বিষয়। তবে প্রস্তুতি, দলগত সমন্বয় ও গাইডের অভিজ্ঞতা দিয়ে তারা শীর্ষে পৌঁছানোর সম্ভাবনা বাড়িয়ে তুলেছে।

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
ক্রীড়া প্রতিবেদক
ক্রীড়া প্রতিবেদক
AI-powered খেলাধুলা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments