শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারি, ভোর ৪টায় ঢাকা‑চট্টগ্রাম মহাসড়কের গজারিয়া, মুন্সীগঞ্জের কুমিল্লা দিকের অংশে প্রায় তেরো কিলোমিটার পথ জুড়ে গা‑বিকল গাড়ির কারণে গাঢ় যানজটের সৃষ্টি হয়। গাড়ি বিকল হওয়ায় গতি ধীর হয়ে যায় এবং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে গাড়ি গুলোর সংখ্যা বাড়তে থাকে, ফলে কর্মজীবী, শিক্ষার্থী ও দূরপাল্লার যাত্রীরা দীর্ঘ সময় রাস্তায় আটকে থাকে।
যানজটের প্রভাবের পরিসর ব্যাপক ছিল; বাস চালক স্বপন মিয়া জানান, তিনি ও তার যাত্রী প্রায় এক ঘণ্টা ধরে ভাটেরচর নতুন রাস্তায় থেমে ছিলেন। একই সময়ে ট্রাক চালক জাকি মিয়া উল্লেখ করেন, তিনি তেতৈতলা হাশপয়েন্ট থেকে এক ঘণ্টারও বেশি সময় জ্যামে আটকে ছিলেন। এই দুই মন্তব্যের মাধ্যমে দেখা যায়, গাড়ি চলাচলের ধীরগতি কেবল একাধিক গাড়ি নয়, বাণিজ্যিক ও যাত্রী পরিবহন সেবাকেও প্রভাবিত করেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও যাত্রীদের অভিযোগে স্পষ্ট যে, মহাসড়কে নিয়মিত যানজটের সমাধানে যথাযথ পদক্ষেপ না নেওয়ায় এমন পরিস্থিতি বারবার দেখা যায়। তারা দাবি করেন, প্রয়োজনীয় রক্ষণাবেক্ষণ ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা না থাকলে গা‑বিকল গাড়ির মতো অপ্রত্যাশিত ঘটনা দ্রুতই বিশাল জ্যাম তৈরি করতে পারে।
গজারিয়া থানার হাইওয়ে পুলিশ অফিসার শাহ কামাল আকন্দের মতে, দাউদকান্দি সেতুতে একটি গাড়ি বিকল হয়ে রাস্তায় আটকে যাওয়াই মূল কারণ। গাড়ি সরিয়ে নেওয়ার পর ধীরে ধীরে গতি পুনরুদ্ধার হয় এবং যান চলাচল স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে। পুলিশ কর্মকর্তার এই ব্যাখ্যা ঘটনাস্থলের প্রযুক্তিগত সমস্যাকে স্পষ্ট করে, তবে তিনি আরও জানিয়েছেন যে, ভবিষ্যতে অনুরূপ ঘটনা রোধে গাড়ি রক্ষণাবেক্ষণ ও জরুরি সেবা দ্রুততর করার পরিকল্পনা চলছে।
গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে, গা‑বিকল গাড়ির মালিকের বিরুদ্ধে কোনো অপরাধমূলক অভিযোগ এখনও ওঠেনি, তবে গাড়ি রাস্তায় বিকল অবস্থায় রেখে ট্রাফিক নিয়ম লঙ্ঘনের সম্ভাবনা নিয়ে পুলিশ তদন্ত চালিয়ে যাবে। গাজারিয়া হাইওয়ে পুলিশ বিভাগ জানিয়েছে, গাড়ি বিকল হওয়ার কারণ, রক্ষণাবেক্ষণ অবহেলা বা যান্ত্রিক ত্রুটি কী ছিল তা নির্ণয়ের জন্য প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণ করা হবে এবং প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এই ঘটনার পর, রাষ্ট্রীয় রোড ও হাইওয়ে বিভাগকে জরুরি রক্ষণাবেক্ষণ কর্মসূচি ত্বরান্বিত করতে বলা হয়েছে। বিশেষ করে, মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ সেতু ও গ্যাপ এলাকায় রিয়েল‑টাইম মনিটরিং সিস্টেম স্থাপন, গাড়ি বিকল হলে দ্রুত পরিষেবা প্রদান এবং ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের জন্য অতিরিক্ত কর্মী মোতায়েনের প্রস্তাব করা হয়েছে।
যানজটের ফলে প্রভাবিত কর্মী ও শিক্ষার্থীদের জন্য স্থানীয় সরকার ও ট্রান্সপোর্ট সংস্থা থেকে কোনো বিশেষ সহায়তা বা বিকল্প পরিবহন ব্যবস্থা সরবরাহের কোনো ঘোষণা এখনো পাওয়া যায়নি। তবে, ভবিষ্যতে এমন জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত বিকল্প রুট বা পাবলিক ট্রান্সপোর্টের ব্যবস্থা নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় বাড়ানোর আহ্বান করা হচ্ছে।
সামগ্রিকভাবে, গজারিয়ায় ঘটিত এই দীর্ঘ যানজটের মূল কারণ গা‑বিকল গাড়ি হলেও, এর ফলে সৃষ্ট সামাজিক ও অর্থনৈতিক ক্ষতি স্পষ্ট। ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ও রক্ষণাবেক্ষণ নীতির পুনর্বিবেচনা, দ্রুত জরুরি সেবা ও আইনি অনুসন্ধান এই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হবে।



