ভেনেজুয়েলায় সামরিক সংঘর্ষে নিহত ৩২ কিউবান সৈনিকের দেহের অবশিষ্টাংশ হাভানা বিমানবন্দর থেকে সশস্ত্র বাহিনীর মন্ত্রণালয়ের পথে নিয়ে যাওয়া শেষযাত্রায় হাজারো সৈন্য, সরকারী কর্মকর্তা ও নাগরিকদের সমাবেশে স্বাগত জানানো হয়।
হাভানা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে রাউল কাস্ত্রো ও প্রেসিডেন্ট মিগুয়েল দিয়াজ ক্যানেলসহ দেশের শীর্ষ নেতৃত্ব উপস্থিত ছিলেন, যেখানে কিউবান পতাকায় সজ্জিত কাঠের বাক্সে পুড়িয়ে নেওয়া ধ্বংসাবশেষ গ্রহণ করা হয়।
মন্ত্রণালয়ের প্রবেশদ্বারের হলের মধ্যে প্রতিটি বাক্সের পাশে সংশ্লিষ্ট সৈন্য বা গোয়েন্দা কর্মকর্তার ছবি ও “সম্মান ও গৌরব” শিরোনামযুক্ত লেবেল রাখা হয়, যা দেশের শোক ও গর্বের মিশ্র চিত্র উপস্থাপন করে।
এই শোকস্মরণী অনুষ্ঠান কিউবান বিপ্লবের জন্য এক কঠিন পরীক্ষা হিসেবে বিবেচিত, কারণ এটি ১৯৬১ সালের বে অফ পিগস আক্রমণের পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হস্তক্ষেপে কিউবান যোদ্ধাদের সবচেয়ে বড় ক্ষতি।
সেই সময়ের পর থেকে শীতল যুদ্ধ বা তার পরের সময়ে কিউবা ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সরাসরি যুদ্ধের ঘটনা বিরল, তাই এই ঘটনার গুরুত্ব আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিশেষ দৃষ্টি আকর্ষণ করে।
যুক্তরাষ্ট্রের ডেল্টা ফোর্সের বিশেষ প্রশিক্ষিত সৈন্যরা এই সংঘর্ষে প্রায় অক্ষত থেকে যায়, যা তাদের বিশ্ববিখ্যাত এলিট সুনামকে পুনরায় নিশ্চিত করে। তবে এই ফলাফল শোকাহত পরিবারের জন্য কোনো সান্ত্বনা দেয় না; তারা হাভানায় কাঠের বাক্সে হাত রাখার সময় কাঁদতে কাঁদতে শোক প্রকাশ করে।
ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হস্তক্ষেপ এবং নিকোলাস মাদুরোকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে নেওয়ার পর কিউবান সরকার দীর্ঘদিন অস্বীকার করা একটি বিষয় স্বীকার করে: ক্যারাকাসের ক্ষমতার কেন্দ্রে কিউবান গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের উপস্থিতি।
বছরের পর বছর ভেনেজুয়েলায় কিউবান গোয়েন্দা কর্মীদের ভূমিকা নিয়ে অনুমান থাকলেও এখন স্পষ্ট হয়ে গেছে যে তারা দেশের নিরাপত্তা কাঠামোর প্রতিটি স্তরে কাজ করে আসছে, এবং দ্বিপাক্ষিক গোয়েন্দা সহযোগিতা দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের মূল স্তম্ভ।
বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, এই প্রকাশ কিউবা-ভেনেজুয়েলা জোটের ভবিষ্যৎ কৌশলকে পুনর্গঠন করতে বাধ্য করতে পারে, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের আঞ্চলিক নীতি ও ল্যাটিন আমেরিকায় প্রভাব বজায় রাখার প্রচেষ্টার প্রেক্ষিতে।
একজন কিউবান কূটনীতিকের মতে, হাভানায় অনুষ্ঠিত শোকস্মরণী অনুষ্ঠান কেবল শোক প্রকাশের নয়, বরং আন্তর্জাতিক মঞ্চে কিউবার সমর্থন ও সংহতি প্রদর্শনের একটি সুযোগ। তিনি যোগ করেন, কিউবা এখন তার আঞ্চলিক মিত্রদের সঙ্গে নিরাপত্তা ও তথ্য শেয়ারিংয়ের নতুন কাঠামো গড়ে তোলার দিকে মনোযোগ দিচ্ছে।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও কূটনৈতিক দিক থেকে ভেনেজুয়েলায় হস্তক্ষেপের পরিণতি নিয়ে আলোচনা চলছে; কিছু বিশেষজ্ঞ অনুমান করেন, কিউবার গোয়েন্দা উপস্থিতি স্বীকার করা ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত নিষেধাজ্ঞা ও অর্থনৈতিক চাপ বাড়াতে পারে।
আঞ্চলিক সংস্থা ও আন্তর্জাতিক সংস্থা এই ঘটনাকে পর্যবেক্ষণ করছে, এবং কিউবা-ভেনেজুয়েলা সম্পর্কের স্বচ্ছতা ও দায়িত্বশীলতা নিশ্চিত করার জন্য পরবর্তী কূটনৈতিক আলোচনার সময়সূচি নির্ধারণের সম্ভাবনা রয়েছে।
সারসংক্ষেপে, ৩২ কিউবান সৈনিকের শোকস্মরণী অনুষ্ঠান কিউবার জন্য এক কঠিন মুহূর্ত, যা তার ঐতিহাসিক জোট, নিরাপত্তা নীতি এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার নতুন দিক উন্মোচন করে। ভবিষ্যতে কিউবা-ভেনেজুয়েলা জোটের কৌশলগত দিকনির্দেশনা, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিক্রিয়া এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ভূমিকা এই ঘটনার পরবর্তী বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।



