22 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeখেলাধুলাবিসিবি ও কোয়াব গুলশানে সমঝোতা, সমর্থকদের ক্ষমা ও টিকিট রিফান্ডের ঘোষণা

বিসিবি ও কোয়াব গুলশানে সমঝোতা, সমর্থকদের ক্ষমা ও টিকিট রিফান্ডের ঘোষণা

গুলশানে অনুষ্ঠিত বৈঠকের পর বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) ও ক্রিকেটারদের সংস্থা কোয়াব একত্রে সমর্থকদের প্রতি ক্ষমা প্রকাশ করে এবং টিকিট রিফান্ডের ব্যবস্থা জানায়; ফলে শুক্রবার থেকে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) পুনরায় শুরু হবে।

বিসিবি পরিচালক এম. নাজমুল ইসলামের বিতর্কিত মন্তব্যের পর কোয়াবের সভাপতি মিঠুনের নেতৃত্বে সংস্থা একটি কঠোর শর্ত আরোপ করে: প্রথম ম্যাচের আগে যদি পরিচালক পদত্যাগ না করেন, তবে সব ধরনের ক্রিকেট কার্যক্রম স্থগিত করা হবে। এই দাবি বুধবার রাতে প্রকাশ পায় এবং তৎক্ষণাৎ ক্রীড়া জগতে আলোড়ন সৃষ্টি করে।

বিসিবি এই চ্যালেঞ্জের মুখে ম্যাচের প্রস্তুতি চালিয়ে যায়। স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে অপেক্ষা করা ভক্তদের সংখ্যা বেশী ছিল, তবে মাঠে কোনো খেলা না হওয়ায় তাদের উত্তেজনা দ্রুত নিঃশেষ হয়ে যায়। কিছু ভক্ত গেট থেকে ফিরে যান, আবার কিছুজন গ্যালারিতে বসে রইলেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তারা ক্রিকেটের স্বাদ পাননি। একই সময়ে, ক্রিকেটাররা টিম হোটেল থেকে বেরোয়েনি, ফলে ম্যাচের সূচনা অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়।

বিকালবেলা গুলশানে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বিসিবি পরিচালক ও বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের সদস্য সচিব ইফতেখার রহমান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন। তিনি জানান, অপ্রত্যাশিত ঘটনার ফলে তারা সীমিত বিকল্পের মুখে পড়েছেন এবং সরাসরি সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন না। “আমি একা সিদ্ধান্ত নিতে পারি না, মিঠুন কোয়াবের সভাপতি হলেও একা কিছু বলতে পারবেন না,” ইফতেখার বলেন, এবং উল্লেখ করেন যে তিনি ও মিঠুন উভয়েই বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে পরামর্শ করে সমঝোতা করেছেন।

ইফতেখার রহমান সমর্থকদের প্রতি গভীর দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, “সমর্থকদের জন্যই ক্রিকেটের উন্নতি সম্ভব, তাদের অনুপস্থিতিতে খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্সও প্রভাবিত হয়।” তিনি তৎক্ষণাৎ টিকিটের রিফান্ডের ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান এবং যোগ করেন, “যেসব টিকিট ইতিমধ্যে বিক্রি হয়েছে, সেগুলোর রিফান্ড করা হয়েছে; অবশিষ্ট টিকিটের ক্ষেত্রে ফেরত না পাওয়া সম্ভব নয়, তবে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, “এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সবার জন্যই প্রথম, তাই শুধুমাত্র ‘সরি’ বলাই যথেষ্ট।”

কোয়াবের সভাপতি মিঠুনও সমর্থকদের কাছে ক্ষমা চেয়ে বলেন, “এই ঘটনা আমাদের কোনো ইচ্ছা না, সম্পূর্ণ অনাকাঙ্ক্ষিত। ক্রিকেটারদের পক্ষ থেকে আমরা সকল দর্শকের কাছে দুঃখ প্রকাশ করছি, কারণ আপনারা ছাড়া ক্রিকেট চালিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। আপনারা ক্রিকেটের প্রাণ, তাই আমরা আপনার সমর্থন পুনরায় চাই।” তিনি সংস্থার পক্ষ থেকে সকল ক্রিকেটারদের সম্মিলিত ক্ষমা প্রার্থনা করেন এবং ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি না ঘটার জন্য প্রতিশ্রুতি জানান।

বৈঠকের পর দু’দিনের মধ্যে বিসিবি ও কোয়াবের মধ্যে সমঝোতা চূড়ান্ত হয়। উভয় পক্ষই একমত হয় যে শুক্রবার থেকে বিপিএলের ম্যাচগুলো পুনরায় শুরু হবে এবং ভক্তদের নিরাপদে স্টেডিয়ামে স্বাগত জানাতে সব প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এই সিদ্ধান্তের ফলে গ্যালারিতে অপেক্ষা করা ভক্তদের জন্য শেষমেশ ক্রিকেটের স্বাদ ফিরে আসবে।

বিসিবি পরিচালক এম. নাজমুল ইসলামের পদত্যাগের বিষয়টি এখনও চূড়ান্ত হয়নি, তবে কোয়াবের দাবি পূরণে তিনি তৎকালীন পদত্যাগের ইঙ্গিত দেন। উভয় সংস্থা এই বিষয়টি নিয়ে পরবর্তী আলোচনায় সমন্বয় বজায় রাখবে বলে জানিয়েছে।

বিপিএলের পরবর্তী সূচি অনুযায়ী, শুক্রবারের ম্যাচে স্থানীয় দলগুলো আবার ময়দান দখল করবে এবং ভক্তদের জন্য পূর্ণ স্টেডিয়াম পরিবেশ নিশ্চিত করা হবে। সংগঠনগুলো নিরাপত্তা, টিকিট বিক্রয় ও রিফান্ড প্রক্রিয়া, এবং মিডিয়া কভারেজের সব দিক থেকে পূর্বের সমস্যাগুলো সমাধান করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এভাবে ক্রিকেটের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে ভক্তদের আস্থা পুনরুদ্ধার করা হবে।

৮৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডিনিউজ২৪
ক্রীড়া প্রতিবেদক
ক্রীড়া প্রতিবেদক
AI-powered খেলাধুলা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments