বগুড়া জেলার শেরপুর উপজেলায় বৃহস্পতিবার ভোরের প্রায় পাঁচটায় তেঁতুলতলা এলাকায় গাছের গুঁড়ি রাস্তার ওপর ফেলে গতি বাধা দিয়ে এক চালকের হাত-পা বেঁধে তার ইজিবাইক চুরি করা হয়েছে। ঘটনাটি শেরপুর থানার ওসি ইব্রাহীম আলীর মতে ঘটেছে।
ভুক্তভোগী মো. দুলাল হোসেন, ৫০ বছর বয়সী, তেঁতুলতলা উপজেলার আটাইল গ্রামের মৃত তফের আলীর পুত্র। তিনি স্থানীয় নাবিল হাইওয়ে হোটেলের কর্মচারীদের কর্মস্থলে পৌঁছে দেওয়ার কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন।
দুলাল প্রতিদিন ভোরে হোটেলের কর্মচারীদের জন্য খাবার ও সামগ্রী পৌঁছে দিতেন। এ সময়ই পাঁচজনের একটি দল গাছের গুঁড়ি রাস্তার ওপর ফেলে তার ইজিবাইক থামিয়ে নেয়।
দলটি ধারালো অস্ত্র ব্যবহার করে দুলালকে ঘিরে তার হাত-পা বেঁধে রাস্তায় ফেলে রাখে। এরপর তারা ইজিবাইক, চালকের হাতে থাকা ৭৫০ টাকা এবং একটি মোবাইল ফোন নিয়ে পালিয়ে যায়।
দুলাল হোসেনের মতে, গাছের গুঁড়ি দেখেই তিনি থামলেন, তখনই অপরাধীরা তাকে ঘিরে ধরল এবং তাদের হাতে ধারালো অস্ত্র ছিল। তিনি জানান, গাড়িটি তার পরিবারের একমাত্র আয়ের মাধ্যম।
ঘটনার পর দুলাল শেরপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। তিনি জানান, তার জীবিকা হারিয়ে যাওয়ার ভয় রয়েছে এবং দ্রুত ব্যবস্থা চেয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, তেঁতুলতলা এলাকার এই সড়কটি বেশ নিঃশব্দ এবং পূর্বে বহুবার ছিনতাইয়ের শিকার হয়েছে। তারা পুলিশকে বহুবার বিষয়টি জানিয়েও যথাযথ পদক্ষেপ না নেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন।
ওসি ইব্রাহীম আলী অভিযোগের নথি গ্রহণের কথা নিশ্চিত করেন এবং তদন্তের সূচনা হয়েছে বলে জানান। তিনি জোর দিয়ে বলেন, সংশ্লিষ্টদের সনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।
পুলিশের মতে, গাছের গুঁড়ি ব্যবহার করে গতি বাধা দেওয়া এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে ভুক্তভোগীকে জিম্মি করা একটি পরিকল্পিত চুরি। তদন্তে গাছের গুঁড়ি এবং অপরাধীদের ব্যবহার করা অস্ত্রের সন্ধান করা হবে।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, চোরদের দলটি স্থানীয়ই হতে পারে এবং তারা পূর্বে একই পদ্ধতিতে চুরি করেছে। পুলিশ দলটি এলাকার নিরাপত্তা বাড়াতে অতিরিক্ত প্যাডল এবং গশ্বর স্থাপন করার পরিকল্পনা করছে।
অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং দুলাল হোসেনের ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করার জন্য যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে ওসি ইব্রাহীম আলী আশ্বাস দিয়েছেন। বিষয়টি সমাধান না হওয়া পর্যন্ত স্থানীয় জনগণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করবে।



