22 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
HomeখেলাধুলাAFCON-এ ফ্রান্সে জন্ম নেওয়া খেলোয়াড় সংখ্যা সর্বোচ্চ, মরক্কোর দল বহুমুখী

AFCON-এ ফ্রান্সে জন্ম নেওয়া খেলোয়াড় সংখ্যা সর্বোচ্চ, মরক্কোর দল বহুমুখী

মরক্কোতে অনুষ্ঠিত আফ্রিকা কাপ অব নেশনস (AFCON) টুর্নামেন্টে একটি অপ্রত্যাশিত পরিসংখ্যান প্রকাশ পেয়েছে। ফ্রান্সের ফুটবল বিশ্লেষণ সাইট ফুট মেরকাতো ২৪টি অংশগ্রহণকারী দলের মোট ৬৫৮ জন খেলোয়াড়ের জন্মস্থান নিয়ে গবেষণা করে দেখেছে, যে টুর্নামেন্টে ফ্রান্সে জন্ম নেওয়া খেলোয়াড়ের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি।

ফুট মেরকাতোর তথ্য অনুযায়ী, এই এডিশনের AFCON-এ মোট ১০৭ জন খেলোয়াড়ের জন্মস্থান ফ্রান্স। এই সংখ্যা অন্য কোনো দেশের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি, ফলে ইউরোপ মহাদেশে জন্ম নেওয়া খেলোয়াড় টুর্নামেন্টের এক-চতুর্থাংশেরও বেশি প্রতিনিধিত্ব করে।

দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে আইভরি কোস্ট, যেখানে ২৯ জন খেলোয়াড়ের জন্মস্থান দেশীয়। তৃতীয় স্থানে দক্ষিণ আফ্রিকা (২৮ জন), এরপর মিশর (২৫ জন) এবং নাইজেরিয়া (২৪ জন) রয়েছে। এই পাঁচটি দেশের খেলোয়াড় মিলিয়ে মোট ১৮৬ জন, যা টুর্নামেন্টের মোট অংশগ্রহণকারীর প্রায় ২৮%।

অবশিষ্ট ৩১ জন খেলোয়াড়ের জন্মস্থান নির্ধারণ করা যায়নি, ফলে পুরো তালিকায় কিছু ফাঁক রয়ে গেছে। তবে জানা যায়, ফ্রান্সের পরিমাণে অন্য কোনো দেশ কাছাকাছি পৌঁছাতে পারেনি।

মরক্কোর জাতীয় দলে দেখা যায় সবচেয়ে বৈচিত্র্যময় জন্মস্থান। ২৮ জন খেলোয়াড়ের মধ্যে অর্ধেকের বেশি, অর্থাৎ ১৪ জন, মরক্কোতে জন্মগ্রহণ করেছে। বাকি ১৪ জনের জন্মস্থান বিদেশে, যেখানে স্পেন (৫ জন), ফ্রান্স (৩ জন), নেদারল্যান্ডস (৩ জন), বেলজিয়াম (২ জন) এবং কানাডা (১ জন) অন্তর্ভুক্ত। এই বৈচিত্র্য মরক্কোর বৈশ্বিক জনসংখ্যার বিস্তারকে প্রতিফলিত করে।

ইতিহাসের দৃষ্টিকোণ থেকে এই প্রবণতাকে ব্যাখ্যা করা যায়। উদাহরণস্বরূপ, কমোরোসের খেলোয়াড়দের ক্ষেত্রে দেখা যায়, তাদের বেশিরভাগই ফ্রান্সের মার্সেই, ডাঙ্কার্ক বা বোর্দো মতো বন্দর নগরে জন্মগ্রহণ করেছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর কমোরীয় শ্রমিকরা মেসাজরি মারিতিম নামের জাহাজ কোম্পানির মাধ্যমে ফ্রান্সে গিয়েছিলেন, সেখানে স্থায়ী হয়ে নিজেদের পরিবারকে নিয়ে আসেন। ফলে পরবর্তী প্রজন্মের খেলোয়াড়রা ফ্রান্সে জন্ম নেয়।

অন্য একটি উদাহরণ হল ইকুয়েটোরিয়াল গিনি। এই দেশের নির্বাচিত ২৮ জন খেলোয়াড়ের মধ্যে ১৯ জনের জন্ম স্পেনে। ১৯৬৮ সালে স্বাধীনতা অর্জনের আগে ইকুয়েটোরিয়াল গিনি স্পেনের একটি প্রদেশ ছিল, ফলে স্থানীয় বাসিন্দারা স্বয়ংক্রিয়ভাবে স্প্যানিশ নাগরিকত্ব পেতেন। স্বাধীনতার পরও স্পেনে অভিবাসন সহজ ছিল, যা আজকের খেলোয়াড়দের জন্মস্থানকে প্রভাবিত করেছে।

এই গবেষণার ফলাফল টুর্নামেন্টের সময়সূচি ও ম্যাচের গতি-প্রবাহের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত নয়, তবে খেলোয়াড়দের পটভূমি সম্পর্কে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি প্রদান করে। AFCON-এ অংশগ্রহণকারী দলগুলো এখনো গ্রুপ পর্যায়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে, এবং পরবর্তী রাউন্ডে কোন দলগুলো অগ্রসর হবে তা এখনও অনিশ্চিত।

টুর্নামেন্টের পরবর্তী ম্যাচগুলোতে মরক্কো দল তাদের বৈচিত্র্যময় দলে গর্ব করে, যদিও মাঠে তাদের পারফরম্যান্স এখনও নির্ধারিত হবে। ফ্রান্সে জন্ম নেওয়া খেলোয়াড়দের সংখ্যা বেশি হওয়া সত্ত্বেও, তাদের পারফরম্যান্সের গুণগত দিক এখনও বিশ্লেষণের বিষয়।

ফুট মেরকাতোর গবেষণা দেখায়, আফ্রিকান ফুটবলে ইউরোপীয় জন্মস্থান এখনো একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। এই প্রবণতা ভবিষ্যতে আফ্রিকান জাতীয় দলে বিদেশে জন্ম নেওয়া খেলোয়াড়দের ভূমিকা বাড়াতে পারে।

সামগ্রিকভাবে, AFCON 2024 (২০২৪) টুর্নামেন্টে জন্মস্থান বৈচিত্র্য একটি নতুন আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। খেলোয়াড়দের পটভূমি, ঐতিহাসিক মাইগ্রেশন ও উপনিবেশিক সম্পর্কের প্রভাব এখনো ফুটবল বিশ্লেষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

টুর্নামেন্টের শেষ পর্যায়ে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গে, এই পরিসংখ্যানগুলো ভক্ত ও বিশ্লেষকদের জন্য অতিরিক্ত তথ্য সরবরাহ করবে, যা ম্যাচের ফলাফল ও দলের গঠনকে নতুন দৃষ্টিকোণ থেকে দেখতে সাহায্য করবে।

৯২/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: প্রথম আলো
ক্রীড়া প্রতিবেদক
ক্রীড়া প্রতিবেদক
AI-powered খেলাধুলা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments