হোয়াটসঅ্যাপের “লাস্ট উইক টুনাইট” শোয়ের হোস্ট জন অলিভার মিডিয়া সংযুক্তি নিয়ে তার মতামত প্রকাশ করেছেন। তিনি সম্প্রতি একটি পডকাস্টে উল্লেখ করেন, বর্তমান সময়ে বড় বড় মিডিয়া কোম্পানির অধিগ্রহণগুলো আইনগতভাবে ন্যায়সঙ্গত করা কঠিন, তবু হোয়াটসঅ্যাপের কৌশল বদলাবে না।
জনের মতে, মার্জারগুলো সাধারণত ক্ষতিকর এবং সর্বোত্তম বিকল্প খুঁজে পাওয়া কঠিন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, হোয়াটসঅ্যাপের দলকে আত্মবিশ্বাসী ও আক্রমণাত্মকভাবে কাজ করতে হবে, যেন কোনো পরিবর্তন না ঘটলেও তারা প্রস্তুত থাকে। এই দৃষ্টিভঙ্গি তাদের দীর্ঘদিনের কাজের পদ্ধতির ধারাবাহিকতা বজায় রাখবে।
হোয়াটসঅ্যাপের মালিকানা গত কয়েক বছরে দুবার বদলেছে। প্রথমবার ছিল টাইম ওয়ার্নারের বিক্রয় এ.টি.&টি-তে, আর পরেরবার ওয়ার্নারমিডিয়া থেকে ওয়ার্নার ব্রাদার্স ডিসকভারি-তে রূপান্তর। এই পরিবর্তনগুলো সঙ্গে সঙ্গে কিছু কাটছাঁটের কথা নিয়ে আসে, যা জন অলিভারও স্বীকার করেন।
মার্জার নিয়ে তার সন্দেহের পেছনে মিডিয়া শিল্পের সামগ্রিক অবস্থা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, সব ডিলই কি সত্যিই প্রয়োজনীয়, নাকি কেবল বড় কোম্পানির স্বার্থে চালু হচ্ছে? এই প্রশ্নের উত্তর না পেলে ভবিষ্যতে আরও জটিলতা দেখা দিতে পারে।
বর্তমানে নেটফ্লিক্স ওয়ার্নার ব্রাদার্সের সঙ্গে একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে, যা শিল্পে বড় আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। অন্যদিকে প্যারামাউন্ট একটি শত্রুতাপূর্ণ বিডের ইঙ্গিত দিয়েছে, যা অধিগ্রহণের প্রতিযোগিতা বাড়িয়ে তুলেছে। উভয় পক্ষই যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপে কঠোর নিয়ন্ত্রক পর্যালোচনার মুখোমুখি হতে পারে।
প্যারামাউন্টের দাবি অনুযায়ী, তাদের পথটি নিয়ন্ত্রক দৃষ্টিকোণ থেকে সহজ হতে পারে। তবে নেটফ্লিক্সের চুক্তি ইতিমধ্যে স্বাক্ষরিত হওয়ায়, এই দুই দিকের মধ্যে তীব্র প্রতিযোগিতা অবশ্যম্ভাবী। নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো কীভাবে এই ডিলগুলোকে মূল্যায়ন করবে, তা এখনও অনিশ্চিত।
জন অলিভার এই আলোচনার সময় উল্লেখ করেন, হোয়াটসঅ্যাপের বর্তমান কৌশল পরিবর্তন না করার কারণ হল তারা দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা ও সাফল্যের ওপর নির্ভরশীল। তিনি বলেন, “যদি আমরা এখনই পরিবর্তন না করি, তবে ভবিষ্যতে বড় ঝুঁকি নিতে হতে পারে।” এই দৃষ্টিভঙ্গি হোয়াটসঅ্যাপের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার মূল ভিত্তি।
পডকাস্টে তিনি আরও যোগ করেন, হোয়াটসঅ্যাপের দলকে এমনভাবে কাজ করতে হবে যেন কোনো বড় পরিবর্তন না ঘটলেও তারা প্রস্তুত থাকে। এই মানসিকতা তাদের দীর্ঘমেয়াদী স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করবে। তিনি বলেন, “আমরা এমন অবস্থায় আছি যেখানে যুক্তি দিয়ে দলকে পরিবর্তন করা কঠিন।”
হোয়াটসঅ্যাপের অধিগ্রহণের ইতিহাস ও বর্তমান ডিলের প্রেক্ষাপটে, জনের মন্তব্য মিডিয়া শিল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত দেয়। তিনি জোর দিয়ে বলেন, সব ডিলই আইনগতভাবে ন্যায়সঙ্গত করা সহজ নয়, তবে তা সম্ভব না হওয়ার প্রশ্নই না।
এই পরিস্থিতিতে দর্শকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হল, মিডিয়া কন্টেন্টের গুণমান ও স্বাধীনতা বজায় রাখা। মার্জারগুলো যদি সৃজনশীলতা ও বৈচিত্র্যকে ক্ষুন্ন করে, তবে দর্শকরা তা অনুভব করবে। তাই হোয়াটসঅ্যাপের মতো প্ল্যাটফর্মের দায়িত্ব হল, ব্যবসায়িক সিদ্ধান্তের পাশাপাশি কন্টেন্টের মান রক্ষা করা।
জন অলিভার শেষ পর্যন্ত বলেন, হোয়াটসঅ্যাপের দলকে আত্মবিশ্বাসী ও দৃঢ়ভাবে কাজ করতে হবে, যাতে কোনো বড় পরিবর্তন ঘটলেও তারা প্রস্তুত থাকে। এই দৃষ্টিভঙ্গি হোয়াটসঅ্যাপের ভবিষ্যৎ কৌশলকে নির্দেশ করে এবং মিডিয়া শিল্পের সামগ্রিক দিকনির্দেশনা নির্ধারণে সহায়তা করবে।
পাঠকগণকে পরামর্শ: মিডিয়া সংযুক্তি ও বড় ডিলের খবর শুনে অবিলম্বে সিদ্ধান্তে না গিয়ে, কন্টেন্টের গুণমান ও স্বাধীনতা কীভাবে প্রভাবিত হয় তা পর্যবেক্ষণ করুন। আপনার পছন্দের শো ও সিরিজের মান বজায় রাখতে, বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে সমানভাবে নজর রাখুন এবং প্রয়োজন হলে বিকল্প কন্টেন্ট অনুসন্ধান করুন।



