যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ঘোষণা করেছে যে তাইওয়ান থেকে আমদানি করা পণ্যের শুল্ক ১৫ শতাংশে কমানো হবে, শর্ত হিসেবে তাইওয়ানিজ সেমিকন্ডাক্টর ও প্রযুক্তি সংস্থাগুলি যুক্তরাষ্ট্রে সরাসরি কমপক্ষে ২৫০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, তাইওয়ানিজ কোম্পানিগুলি নতুন সরাসরি বিনিয়োগের মাধ্যমে এই পরিমাণ অর্থ নিশ্চিত করেছে এবং তাইওয়ান সরকারও একই পরিমাণের আর্থিক সহায়তা প্রদান করবে। এই অর্থায়ন মূলত সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদন বাড়ানোর লক্ষ্যে ব্যবহৃত হবে।
চুক্তিতে তাইওয়ানিজ সেমিকন্ডাক্টর প্রতিষ্ঠানগুলির জন্য যুক্তরাষ্ট্রে বিনিয়োগের সময় শুল্কে বিশেষ ছাড়ের বিধান রয়েছে। ফলে এই সংস্থাগুলি যখন যুক্তরাষ্ট্রে ফ্যাক্টরি বা উৎপাদন লাইন স্থাপন করবে, তখন তারা শুল্কের অতিরিক্ত বোঝা থেকে মুক্ত থাকবে।
কোভিড-১৯ মহামারীর সময় চিপের ঘাটতি বিশ্বব্যাপী সরবরাহ শৃঙ্খলে ঝুঁকি প্রকাশ করে, ফলে যুক্তরাষ্ট্রের স্বদেশে চিপ উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ ত্বরান্বিত হয়েছে। গত কয়েক বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্র সরকার সেমিকন্ডাক্টর শিল্পে শত শত বিলিয়ন ডলার অনুদান প্রদান করে, যা তাইওয়ানিজ টিএসএমসি (TSMC) সহ বড় বড় কোম্পানির বিনিয়োগকে উৎসাহিত করেছে।
টিএসএমসি ২০২৪ সালে আরিজোনায় একটি ফ্যাব্রিকেশন প্ল্যান্ট চালু করেছে, যেখানে নভিডিয়া, অ্যাপল, এএমডি ইত্যাদি প্রধান আমেরিকান প্রযুক্তি কোম্পানির জন্য চিপ উৎপাদন হয়। এই কারখানা যুক্তরাষ্ট্রের বায়ডেন প্রশাসনের সময় অনুমোদিত ৪০ বিলিয়ন ডলার সরকারি অনুদানের মাধ্যমে নির্মিত হয়েছে এবং এখন কোম্পানি যুক্তরাষ্ট্রে তার বিনিয়োগ ত্বরান্বিত করার পরিকল্পনা জানিয়েছে।
নতুন বাণিজ্য চুক্তি টিএসএমসির মতো বড় খেলোয়াড়দের পাশাপাশি ছোট ও মাঝারি আকারের সেমিকন্ডাক্টর ফার্মগুলিকেও যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদন কেন্দ্র স্থাপনে উৎসাহিত করবে বলে আশা করা হচ্ছে। ফলে সরবরাহ শৃঙ্খলের স্বনির্ভরতা বাড়বে এবং স্থানীয় কর্মসংস্থানও বৃদ্ধি পাবে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের প্রধান কর্মকর্তা উল্লেখ করেছেন যে এই চুক্তি যুক্তরাষ্ট্রকে চিপ উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ করার পথে অগ্রসর করবে। শুল্ক হ্রাস এবং বিনিয়োগের প্রণোদনা একসাথে কাজ করে দেশীয় উৎপাদন ক্ষমতা বাড়াবে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান শক্তিশালী করবে।
তাইওয়ান, যদিও চীন দ্বারা দাবি করা স্বশাসিত দ্বীপ, পূর্বে ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে শুল্কের হার ২০ শতাংশে স্থির করার বিষয়ে আলোচনায় যুক্ত ছিল। নতুন শুল্ক হ্রাসের মাধ্যমে দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হয়েছে এবং তাইওয়ানিজ শিল্পের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের বাধা কমেছে।
বাজার বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন যে এই চুক্তি যুক্তরাষ্ট্রের সেমিকন্ডাক্টর শিল্পে মূলধনের প্রবাহ বাড়াবে, শেয়ার মূল্যে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে এবং দীর্ঘমেয়াদে প্রযুক্তি উদ্ভাবনের গতি ত্বরান্বিত করবে। তবে অতিরিক্ত উৎপাদন ক্ষমতা এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য নীতির পরিবর্তন থেকে উদ্ভূত ঝুঁকি নিয়েও সতর্কতা প্রকাশ করা হয়েছে।
ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রে নতুন ফ্যাব্রিকেশন প্ল্যান্টের সংখ্যা বাড়বে, উন্নত নোডে চিপ উৎপাদনের সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে এবং তাইওয়ানিজ কোম্পানিগুলি স্থানীয় সরবরাহ শৃঙ্খলে আরও গভীরভাবে যুক্ত হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে, শুল্ক নীতির পরিবর্তন ও ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা চিপ বাজারের অস্থিরতা বাড়াতে পারে, যা বিনিয়োগকারীদের জন্য ঝুঁকি ও সুযোগ উভয়ই তৈরি করবে।



