সেনেট বৃহস্পতিবার একটি সমন্বিত বাজেট আইন পাস করে, যার মাধ্যমে নাসা, ন্যাশনাল সায়েন্স ফাউন্ডেশন এবং অন্যান্য ফেডারেল সংস্থার জন্য ২০২৬ সালের কার্যকরী তহবিল নিশ্চিত হয়েছে। এই আইনটি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ২৪ শতাংশের বড় কাটছাঁটকে প্রত্যাখ্যান করে, এবং নাসার মোট অপারেটিং বাজেটকে মাত্র ১.৬ শতাংশ কমিয়ে ২৪.৪ বিলিয়ন ডলারে স্থির করেছে।
ট্রাম্পের প্রশাসন পূর্বে নাসার সায়েন্স মিশন ডিরেক্টরেটের তহবিলকে প্রায় অর্ধেক কমিয়ে, ৫৫টি চলমান ও পরিকল্পিত মিশন বাতিলের হুমকি দিয়েছিল। এতে OSIRIS‑APEX সহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মহাকাশ মিশন অন্তর্ভুক্ত ছিল, যা বিজ্ঞানী ও শিল্পক্ষেত্রের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগ সৃষ্টি করেছিল। তবে সেনেটের নতুন অনুমোদন এই পরিকল্পনাকে রদ করে, ফলে নাসা তার বৈজ্ঞানিক কার্যক্রম চালিয়ে যেতে পারবে।
বাজেটের বিশদে দেখা যায়, নাসার সায়েন্স বাজেট ২০২৪ সালের তুলনায় ১.১ শতাংশ কমে ৭.২৫ বিলিয়ন ডলারে নির্ধারিত হয়েছে। যদিও সামগ্রিক সায়েন্স তহবিল হ্রাস পেয়েছে, তবে কিছু ক্ষেত্রের জন্য অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছে। হেলিওফিজিক্স বিভাগে ৮৭৪ মিলিয়ন ডলার (৮.৭ শতাংশ বৃদ্ধি) বরাদ্দ করা হয়েছে, যা সৌরবাতাস ও চৌম্বকীয় ক্ষেত্রের গবেষণায় নতুন প্রকল্পকে সমর্থন করবে। অন্যদিকে, গ্রহীয় বিজ্ঞান বিভাগ, যা নিউ হরাইজন্সের মতো মিশনের তত্ত্বাবধান করে, তার বাজেট ২.৫ বিলিয়ন ডলারে (৬.৫ শতাংশ হ্রাস) নির্ধারিত হয়েছে।
প্রেসিডেন্টের প্রস্তাবিত স্টেম (STEM) সম্পৃক্ততা অফিসের বাজেটও অক্ষত রাখা হয়েছে; এই বিভাগটি শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের মধ্যে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিতের প্রতি আগ্রহ জাগাতে কাজ করে এবং বাজেটের সমতা বজায় রাখার মাধ্যমে তার কার্যক্রম চালিয়ে যাবে।
প্ল্যানেটারি সোসাইটি’র নীতি প্রধান ক্যাসি ড্রায়ার এই ফলাফলকে ইতিবাচকভাবে মূল্যায়ন করে, উল্লেখ করেন যে কংগ্রেসের স্পষ্ট ভাষা ও নির্দিষ্ট তহবিলের বরাদ্দ নাসার বৈজ্ঞানিক প্রকল্পগুলোর ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করেছে। তিনি বলেন, এই সিদ্ধান্তটি নাসার বিজ্ঞানকে সমর্থন করার দীর্ঘমেয়াদী প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করে এবং কংগ্রেসের ইচ্ছা স্পষ্টভাবে প্রকাশ করে।
বাজেট অনুমোদনের পাশাপাশি, আইনটি ট্রাম্পের স্পেস লঞ্চ সিস্টেম (SLS) প্রকল্পকে বন্ধ করার প্রচেষ্টাকেও প্রত্যাখ্যান করেছে। ফলে SLS, যা মানববাহী মহাকাশযানের ভবিষ্যৎ মিশনের ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত, তার তহবিল বজায় থাকবে এবং পরিকল্পনা অনুযায়ী অগ্রসর হবে।
এই বাজেটের মাধ্যমে নাসা ২০২৬ সালে তার বৈজ্ঞানিক মিশন চালিয়ে যাবে, যদিও কিছু বিভাগে সামান্য হ্রাস দেখা যাবে। তবু হেলিওফিজিক্স ও স্টেম শিক্ষার মতো ক্ষেত্রের বৃদ্ধি নাসার গবেষণার বৈচিত্র্য ও ভবিষ্যৎ দৃষ্টিভঙ্গি সমর্থন করবে।
বৈজ্ঞানিক সম্প্রদায়ের জন্য এই সিদ্ধান্তের দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব কী হবে, এবং নাসা কীভাবে সীমিত বাজেটের মধ্যে অগ্রাধিকার নির্ধারণ করবে, তা পর্যবেক্ষণ করা গুরুত্বপূর্ণ। ভবিষ্যতে নাসার মিশন ও গবেষণা পরিকল্পনা কীভাবে গড়ে উঠবে, তা নিয়ে পাঠকদের মতামত জানার অপেক্ষা রয়ে গেছে।



