প্রাইম ভিডিওতে ‘ফলআউট’ সিরিজের দ্বিতীয় সিজনের প্রথম সপ্তাহে মোট ৭৯৪ মিলিয়ন মিনিটের বেশি দেখা হয়েছে, যা ডিসেম্বর ১৫‑২১ তারিখের মধ্যে রেকর্ড করা হয়েছে। এই সিজনটি ১৬ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয় এবং নিলসেনের স্ট্রিমিং ডেটা অনুযায়ী এই সময়ে দর্শকের আগ্রহ স্পষ্টভাবে মাপা যায়।
প্রথম সিজনের উদ্বোধনী সপ্তাহে, যা এপ্রিল ২০২৪-এ প্রকাশিত হয়, মোট দেখার সময় ২.৯ বিলিয়ন মিনিটে পৌঁছায়, যা অ্যামাজন-সংশ্লিষ্ট প্ল্যাটফর্মে সর্বোচ্চ প্রিমিয়ার রেকর্ড হিসেবে স্বীকৃত। তুলনায়, দ্বিতীয় সিজনের প্রথম সপ্তাহের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কম, যদিও এখনও শত কোটি মিনিটের উপরে।
দুই সিজনের পার্থক্যের মূল কারণ প্রকাশের পদ্ধতিতে দেখা যায়। প্রথম সিজন সম্পূর্ণভাবে একসাথে (বিঞ্জ) মুক্তি পেয়েছিল, ফলে দর্শকরা একসাথে সব এপিসোড দেখতে পারত। তবে দ্বিতীয় সিজনে প্রাইম ভিডিও সপ্তাহিক রিলিজ পদ্ধতি গ্রহণ করে, এবং প্রথম দিনে মাত্র একটিই এপিসোড প্রকাশিত হয়, যা অন্যান্য সিরিজের তুলনায় কম।
নিলসেনের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, দ্বিতীয় সিজনের প্রিমিয়ার মোট দেখার সময়ের ৫৪ শতাংশ, অর্থাৎ প্রায় ৪২৯ মিলিয়ন মিনিট, সরাসরি এই নতুন এপিসোড থেকে এসেছে। বাকি অংশ প্রথম সিজনের চলমান দেখার সময় হিসেবে গণনা করা হয়েছে, কারণ নিলসেন সব সিজনের ডেটা একত্রে বিবেচনা করে।
অন্যান্য জনপ্রিয় শোও এই সপ্তাহে শীর্ষে রয়ে গেছে। ‘স্ট্রেঞ্জার থিংস’ মোট ২.৩৮ বিলিয়ন মিনিটের দেখার সময় নিয়ে প্রথম স্থানে অবস্থান বজায় রেখেছে, যদিও আগের সপ্তাহের তুলনায় ২১ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। এই সিরিজের শেষ সিজনের প্রথম অর্ধেকই এই সময়ে উপলব্ধ ছিল, দ্বিতীয় অংশ ক্রিসমাসে এবং চূড়ান্ত পর্ব নববর্ষের আগের রাতে প্রকাশিত হয়।
‘ল্যান্ডম্যান’ সিরিজের পারফরম্যান্সও শক্তিশালী রয়ে গেছে; পারামাউন্ট+ প্ল্যাটফর্মে পাঁচমাস ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পেয়ে এই সপ্তাহে ১.৬১ বিলিয়ন মিনিটের দেখার সময় রেকর্ড করেছে। এই ধারাবাহিক বৃদ্ধি নির্দেশ করে যে দর্শকরা ধারাবাহিকভাবে নতুন কন্টেন্টের জন্য প্ল্যাটফর্মে ফিরে আসছে।
‘এমিলি ইন প্যারিস’ সিরিজের পঞ্চম সিজনের উদ্বোধনেও উল্লেখযোগ্য দর্শকসংখ্যা দেখা গেছে। নিলসেনের তথ্য অনুযায়ী, এই সিজনের প্রথম সপ্তাহে ৮৩১ মিলিয়ন মিনিটের বেশি দেখা হয়েছে, যা পূর্বের চতুর্থ সিজনের তুলনায় সামান্য বৃদ্ধি নির্দেশ করে। চতুর্থ সিজনটি দুই ভাগে ভাগ করে প্রকাশিত হওয়ায় এই তুলনা বিশেষভাবে আকর্ষণীয়।
চলচ্চিত্র বিভাগে ‘ওয়েক আপ ডেড ম্যান: এ নাইভস আউট মিস্ট্রি’ দুই সপ্তাহ ধারাবাহিকভাবে শীর্ষে রয়েছে, এই সপ্তাহে ১.১ বিলিয়ন মিনিটের দেখার সময় রেকর্ড করেছে। যদিও উদ্বোধন সপ্তাহের তুলনায় ১৬ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে, তবু এই সংখ্যা নির্দেশ করে যে চলচ্চিত্রটি এখনও ব্যাপকভাবে গ্রহণযোগ্য।
সারসংক্ষেপে, প্রাইম ভিডিওতে ‘ফলআউট’ সিজন ২ এর প্রিমিয়ার সংখ্যা প্রথম সিজনের তুলনায় কম হলেও, স্ট্রিমিং বাজারে সামগ্রিকভাবে উচ্চ দেখার সময় বজায় রয়েছে। সপ্তাহিক রিলিজ পদ্ধতি এবং একক এপিসোডের প্রকাশ দর্শকের মনোযোগকে ধীরগতিতে ভাগ করে নিতে পারে, তবে অন্যান্য শো এবং চলচ্চিত্রের শক্তিশালী পারফরম্যান্স পুরো স্ট্রিমিং ইকোসিস্টেমকে সমর্থন করে চলেছে। দর্শকরা বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে নতুন কন্টেন্টের জন্য সক্রিয়ভাবে অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছে, যা ভবিষ্যতে রিলিজ কৌশল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



