সুইডেনের সঙ্গীত শিল্প সংস্থা সম্প্রতি জানিয়েছে যে, এআই (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা) দ্বারা নির্মিত একটি গানের তালিকাভুক্তি দেশীয় সঙ্গীত চার্টে অনুমোদিত হবে না। গানের শিরোনাম “I know, You’re Not Mine – Jag vet, du är inte min” এবং এটি স্বল্প সময়ের মধ্যে স্পটিফাইতে পাঁচ মিলিয়নেরও বেশি স্ট্রিম পেয়ে দেশের শীর্ষ ৫০ তালিকায় প্রথম স্থানে পৌঁছেছে। তবে গায়কের পরিচয় ডিজিটাল সত্তা হওয়ায়, চার্টের নিয়ম অনুসারে ট্র্যাকটি তালিকাভুক্তি থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।
গানটি ফোক‑পপ শৈলীতে রচিত এবং হারিয়ে যাওয়া প্রেমের বিষাদময় গল্প তুলে ধরে। সূক্ষ্মভাবে বাছাই করা একোস্টিক গিটারের সুরের সঙ্গে গায়কের ভয়ানক স্বর মিলে রাতের অন্ধকারে হৃদয়ভঙ্গের অনুভূতি প্রকাশ করে। গানের লিরিক্সে রাতের পদক্ষেপের শব্দ, বৃষ্টিতে গৃহের গেটের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা মুহূর্ত এবং অবশেষে স্বীকারোক্তি যে “তুমি আর আমার নয়” এমন বিষয়বস্তু রয়েছে।
প্রকাশের কয়েক সপ্তাহের মধ্যে গানের স্ট্রিম সংখ্যা দ্রুত বাড়ে এবং ২০২৬ সালের শুরুর দিকে সুইডেনের সর্বাধিক শোনা ট্র্যাক হিসেবে স্বীকৃত হয়। স্পটিফাইয়ের সুইডিশ টপ ৫০ তালিকায় শীর্ষে অবস্থান করার পরেও, গায়কের কোনো সামাজিক মিডিয়া প্রোফাইল, মিডিয়া সাক্ষাৎকার বা কনসার্টের তথ্য পাওয়া যায়নি। এই অস্বাভাবিক পরিস্থিতি সঙ্গীত সাংবাদিকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।
একজন তদন্তমূলক সাংবাদিক গানের রেজিস্ট্রেশন তথ্য বিশ্লেষণ করে জানতে পারেন যে, ট্র্যাকটি ডেনমার্কের কিউবিক সঙ্গীত প্রকাশনা ও মার্কেটিং প্রতিষ্ঠান Stellar Music-এ যুক্ত একদল নির্বাহীর নামে নিবন্ধিত। Stellar Music-এর এআই বিভাগে কাজ করা দুইজন কর্মী এই প্রকল্পে অংশগ্রহণের কথা প্রকাশ করেন। গানের স্রষ্টা দল নিজেকে “Team Jacub” নামে পরিচিত করে এবং গানের মালিকানা ও সৃষ্টিকর্তা হিসেবে নিজেদের পরিচয় দেয়।
Team Jacub গানের সৃষ্টিক্রিয়া নিয়ে একটি বিশদ ইমেইল প্রকাশ করে, যেখানে তারা দাবি করে যে তাদের কাজকে শুধুমাত্র স্বয়ংক্রিয় বাটন চাপার ফলাফল হিসেবে বিবেচনা করা ভুল। তারা বলেন, এই প্রকল্পে অভিজ্ঞ সঙ্গীত নির্মাতা, গীতিকার এবং প্রযোজকরা সময়, মনোযোগ, আবেগ এবং আর্থিক সম্পদ বিনিয়োগ করেছেন। এআইকে তারা একটি সহায়ক উপকরণ হিসেবে ব্যবহার করেছেন, যা মানবিক সৃজনশীল নিয়ন্ত্রণের অধীনে কাজ করেছে।
সঙ্গীত শিল্প সংস্থা গানের এআই-সৃষ্ট প্রকৃতি এবং মানবিক অংশগ্রহণের মাত্রা নিয়ে আলোচনা করে, শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত নেয় যে, এআই-নির্মিত গানের তালিকাভুক্তি বর্তমান চার্টের নীতিমালার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তাই গানের নামকে চার্টের তালিকা থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। সংস্থা উল্লেখ করে, ভবিষ্যতে এআই-সৃষ্ট সঙ্গীতের জন্য আলাদা নিয়মাবলী প্রণয়ন করা হতে পারে, তবে তা স্পষ্টভাবে মানবিক সৃষ্টিকর্তার অংশগ্রহণের মাত্রা নির্ধারণের ওপর নির্ভর করবে।
এই ঘটনা সুইডেনের সঙ্গীত বাজারে এআই প্রযুক্তির ব্যবহার ও নৈতিক সীমারেখা নিয়ে নতুন আলোচনার সূচনা করে। শিল্পের বিভিন্ন পক্ষ এখন এআই-সহায়িত সৃষ্টিকর্মের স্বীকৃতি, বাণিজ্যিক মূল্যায়ন এবং সাংস্কৃতিক প্রভাব সম্পর্কে পুনর্বিবেচনা করছে। একই সঙ্গে, স্রষ্টা দলও তাদের সৃজনশীল পদ্ধতি নিয়ে আরও স্বচ্ছতা প্রদানের প্রতিশ্রুতি জানিয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে এধরনের বিতর্ক এড়ানো যায়।
সারসংক্ষেপে, এআই-সৃষ্ট গানের বিশাল জনপ্রিয়তা সত্ত্বেও, সুইডেনের সঙ্গীত চার্টে তার তালিকাভুক্তি নিষিদ্ধ করা হয়েছে, যা সঙ্গীত শিল্পে প্রযুক্তি ও মানবিক সৃজনশীলতার সমন্বয় নিয়ে চলমান বিতর্কের একটি নতুন মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হবে।



