বৃহস্পতিবার, ভেনেজুয়েলার বিরোধী নেতা মারিয়া করিনা মাচাদো হোয়াইট হাউসে গোপনীয় একটি সাক্ষাতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে নোবেল শান্তি পুরস্কারের মেডেল উপস্থাপন করেন। এই সাক্ষাৎ দুজনের প্রথম সরাসরি সাক্ষাৎ এবং আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন মোড়ের ইঙ্গিত দেয়।
মাচাদো সাক্ষাতের পর প্রকাশ্যে বললেন, আজকের দিনটি ভেনেজুয়েলার জন্য ঐতিহাসিক গুরুত্বের। তিনি যুক্তি দেন, নোবেল মেডেল উপস্থাপন করা ভেনেজুয়েলীয় জনগণের স্বাধিনতার প্রতি ট্রাম্পের বিশেষ প্রতিশ্রুতির স্বীকৃতি।
ট্রাম্পের মেডেল গ্রহণের স্পষ্ট উত্তর না থাকলেও, তিনি কখনো নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। মাচাদোকে পুরস্কার দেওয়ার সময় ট্রাম্পের অসন্তোষের কথা পূর্বে জানানো হয়েছিল, ফলে এই উপস্থাপনায় দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের নতুন দিক দেখা যায়।
সাক্ষাতের পর মাচাদো হোয়াইট হাউসের গেটের বাইরে সমাবেশে উপস্থিত সমর্থকদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি স্প্যানিশে বললেন, “আমরা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের উপর নির্ভর করতে পারি,” এবং ইংরেজিতে যোগ করেন, তিনি মেডেলটি “তার স্বাধিনতার প্রতি অনন্য প্রতিশ্রুতির স্বীকৃতি” হিসেবে উপস্থাপন করেছেন।
মাচাদোর মতে, ট্রাম্পের এই স্বীকৃতি ভেনেজুয়েলার ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পরিবর্তনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নীতি নির্ধারকদের জানাতে চেয়েছিলেন যে, বর্তমান অস্থায়ী সরকার, ডেলসি রদ্রিগেজের নেতৃত্বে, দেশের স্বাধিনতার জন্য উপযুক্ত নয়।
মাচাদো পূর্বে জানিয়েছিলেন, তিনি মেডেলটি ট্রাম্পের সঙ্গে ভাগ করবেন, তবে নোবেল কমিটি পরে স্পষ্ট করে জানায় যে পুরস্কারটি হস্তান্তরযোগ্য নয়। এই তথ্যের পরেও তিনি মেডেলটি ট্রাম্পের কাছে উপস্থাপন করার সিদ্ধান্ত নেন, যা তার রাজনৈতিক কৌশলের অংশ হিসেবে দেখা যায়।
সাক্ষাতের সময় মাচাদো যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসেও গিয়ে সেনেটরদের সঙ্গে আলোচনা করেন। কংগ্রেসের সামনে সমাবেশে তার সমর্থকরা “মারিয়া, প্রেসিডেন্ট” চিৎকার করে ভেনেজুয়েলীয় পতাকা নাড়িয়ে উল্লাস করেন, যা তার আন্তর্জাতিক সমর্থনের দৃঢ়তা প্রকাশ করে।
মাচাদোর লক্ষ্য ছিল ট্রাম্পকে বোঝানো যে, রদ্রিগেজের অস্থায়ী সরকারকে সমর্থন করা ভুল এবং তার নিজস্ব বিরোধী জোটই দেশের রূপান্তরের নেতৃত্ব দেওয়া উচিত। তিনি আশা করেন, ট্রাম্পের এই স্বীকৃতি ভেনেজুয়েলার গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করবে।
হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট সাক্ষাতের সময় মাচাদোকে “বহু ভেনেজুয়েলীয় মানুষের জন্য অসাধারণ ও সাহসী কণ্ঠস্বর” হিসেবে বর্ণনা করেন। এই মন্তব্য মাচাদোর আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির আরেকটি সূচক।
এই ঘটনাটি ভেনেজুয়েলা-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের ভবিষ্যৎ দিক নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন। ট্রাম্পের যদি মাচাদোর প্রস্তাব গ্রহণ করেন, তবে তা ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক পরিবর্তনে যুক্তরাষ্ট্রের সক্রিয় অংশগ্রহণের ইঙ্গিত হতে পারে।
অন্যদিকে, রদ্রিগেজের সরকার এই পদক্ষেপকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছ থেকে সমর্থন বজায় রাখতে চেষ্টা করবে। মাচাদোর এই পদক্ষেপের ফলে ভেনেজুয়েলার অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক গতি দ্রুত পরিবর্তিত হতে পারে।
পরবর্তী সপ্তাহে মাচাদো এবং তার দল যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে আরও আলোচনার পরিকল্পনা করেছে। ট্রাম্পের অফিসের কাছ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি, তবে ভবিষ্যতে এই বিষয়টি দু’দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের মূল আলোচনার বিষয় হবে।
সারসংক্ষেপে, মারিয়া করিনা মাচাদো হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পকে নোবেল শান্তি পুরস্কার মেডেল উপস্থাপন করে ভেনেজুয়েলার স্বাধিনতার জন্য আন্তর্জাতিক সমর্থন জোরদার করার চেষ্টা করেছেন। এই উদ্যোগের ফলাফল এবং ট্রাম্পের প্রতিক্রিয়া ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক পরিবর্তনের পথে কী প্রভাব ফেলবে, তা সময়ই প্রকাশ করবে।



