ব্রাজিলের ইলহেউস শহরে অবস্থিত স্টেট ইউনিভার্সিটি অফ সান্তা ক্রুজের ল্যাবরেটরি অফ অ্যাপ্লাইড ইথোলজি-তে ১৭টি সাদা-ঠোঁটের পেকারি, যাদের সবই বন্দী অবস্থায় জন্ম ও বড় হয়েছে, তাদের ব্যক্তিত্বের বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ করে পুনঃপ্রবর্তনের সম্ভাবনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এই গবেষণার মূল লক্ষ্য হল নির্ধারণ করা যে প্রতিটি প্রাণীর স্বভাব—যেমন সাহসিকতা, সামাজিকতা ও অনুসন্ধানী প্রবণতা—বন্যে মুক্তির পর তাদের টিকে থাকার সম্ভাবনাকে কতটা প্রভাবিত করে।
সাদা-ঠোঁটের পেকারি আন্তর্জাতিক সংরক্ষণ সংস্থা (IUCN) দ্বারা ‘ভুলনেবল’ (ঝুঁকিপূর্ণ) হিসেবে তালিকাভুক্ত, যা প্রজাতির ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা সম্পর্কে উদ্বেগের ইঙ্গিত দেয়।
ব্রাজিলের ঐতিহাসিক বাসস্থান ২০২০ সালের মধ্যে প্রায় ষাট শতাংশ হ্রাস পেয়েছে, ফলে প্রজাতির জনসংখ্যা নাটকীয়ভাবে কমে গেছে। পূর্বে করা পুনঃপ্রবর্তন প্রচেষ্টা সীমিত সাফল্য অর্জন করতে পেরেছে, যা নতুন পদ্ধতির প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে।
এই নতুন গবেষণায় ল্যাবের কর্মীরা ১৭টি পেকারির দৈনন্দিন ক্রিয়াকলাপকে ভিডিও রেকর্ড করে মোট ১৭ ঘণ্টার পর্যবেক্ষণ ডেটা সংগ্রহ করেন। রেকর্ডিংয়ের সময় প্রাণীদের আক্রমণাত্মক আচরণ, স্নেহপূর্ণ স্পর্শ এবং নতুন পরিবেশ অনুসন্ধানের মুহূর্তগুলোকে আলাদা করে নোট করা হয়।
প্রতিটি পেকারির আচরণকে নির্দিষ্ট মানদণ্ডে গুনে তাদের সাহসিকতা, সামাজিকতা এবং অনুসন্ধানী প্রবণতার ভিত্তিতে র্যাঙ্ক করা হয়। এই র্যাঙ্কিং সিস্টেমের মাধ্যমে গবেষকরা ব্যক্তিগত বৈশিষ্ট্যকে পরিমাণগতভাবে মাপতে সক্ষম হন।
গোষ্ঠীর মধ্যে সবচেয়ে আলাদা ছিল নারুটো নামের এক তরুণ পুরুষ পেকারি, যার নাম জনপ্রিয় জাপানি অ্যানিমে ‘নারুটো’ থেকে নেওয়া হয়েছে। নারুটো গোষ্ঠীর অন্যান্য সদস্যের তুলনায় কম সামাজিক এবং অধিক একাকী স্বভাবের অধিকারী, যা তাকে গবেষণার বিশেষ দৃষ্টিতে রাখে।
এই পেকারিগুলোকে ব্রাজিলের এস্তাসাও ভেরাসেল প্রাইভেট ন্যাচারাল হেরিটেজ রিজার্ভ এবং পাউ-ব্রাসিল ইকোলজিক্যাল স্টেশনসহ দুইটি সংরক্ষিত এলাকায় পুনঃপ্রবর্তনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। মুক্তির পূর্বে তাদের ব্যক্তিত্বের প্রোফাইল তৈরি করা হলে, কোন প্রাণী কোন পরিবেশে বেশি সফল হবে তা পূর্বাভাস দেওয়া সহজ হয়।
বিশ্বব্যাপী সংরক্ষণবিদরা এখন ধীরে ধীরে স্বীকার করছেন যে পুনঃপ্রবর্তিত প্রাণীর স্বভাব তার বেঁচে থাকা ও প্রজনন ক্ষমতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। ব্যক্তিত্ব বিশ্লেষণকে সংরক্ষণ কৌশলে অন্তর্ভুক্ত করা নতুন গবেষণার প্রবণতা, যদিও সব ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা সম্ভব নয়।
তবে, সীমিত বাজেট ও সময়ের মধ্যে ব্যক্তিত্বের মৌলিক সূচকগুলো সনাক্ত করা সম্ভব হলে, পুনঃপ্রবর্তনের সাফল্যের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে। এই দৃষ্টিকোণ থেকে, ভবিষ্যতে আরও বেশি সংরক্ষণ প্রকল্পে আচরণগত মূল্যায়নকে বাধ্যতামূলক ধাপ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা যুক্তিযুক্ত।
পাঠকরা কি মনে করেন, প্রাণীর স্বভাবের ভিত্তিতে পুনঃপ্রবর্তন পরিকল্পনা করা সংরক্ষণে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে? আপনার মতামত শেয়ার করুন।



