যুক্তরাষ্ট্রের সরকার ভেনেজুয়েলার তেল প্রথমবার বিক্রি করেছে, যা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নির্দেশে সম্পন্ন হয়েছে এবং এফপি-কে বৃহস্পতিবার একটি সরকারি সূত্র জানিয়েছেন। এই চুক্তি যুক্তরাষ্ট্রের তেল বাজারে প্রায় পাঁচশো মিলিয়ন ডলারের মূল্যমানের তেল প্রবেশ করাবে। বিক্রয়ের নির্দিষ্ট ক্রেতা প্রকাশ না করলেও, সরকার ভবিষ্যতে অতিরিক্ত লেনদেনের সম্ভাবনা উল্লেখ করেছে।
ভেনেজুয়েলা তেল শিল্পে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণের পটভূমি হল প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে অপসারণের পর সেক্টরটি দখল করা। এই পদক্ষেপের পর থেকে মার্কিন প্রশাসন দেশীয় তেল সম্পদে সরাসরি হস্তক্ষেপের পথ খুলে দিয়েছে।
হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র টেলর রজার্সের মতে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ভেনেজুয়েলার সঙ্গে একটি ঐতিহাসিক জ্বালানি চুক্তি সম্পন্ন করেছেন, যা উভয় দেশের জনগণের জন্য উপকারী হবে। তিনি উল্লেখ করেন যে এই চুক্তি তেল রপ্তানি ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নিজস্ব সামাজিক মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ তিনি জানিয়েছেন যে ভেনেজুয়েলার অস্থায়ী কর্তৃপক্ষ ৩০ থেকে ৫০ মিলিয়ন ব্যারেল উচ্চমানের, নিষেধাজ্ঞা মুক্ত তেল যুক্তরাষ্ট্রে সরবরাহ করবে। তেলটি বাজার মূল্যে বিক্রি হবে এবং বিক্রয় থেকে প্রাপ্ত অর্থ তার সরাসরি নিয়ন্ত্রণে থাকবে।
ট্রাম্প তেল শিল্পের বড় কোম্পানিগুলিকে ভেনেজুয়েলার বিশাল তেলভান্ডারে বিনিয়োগের জন্য তাগিদ দিয়েছেন এবং কমপক্ষে একশো বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের লক্ষ্য প্রকাশ করেছেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে এই বিনিয়োগ দেশের অর্থনৈতিক পুনর্গঠনে সহায়ক হবে।
হোয়াইট হাউসের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ক্যারাকাসের সরকার তার নিজস্ব ভূগর্ভস্থ সম্পদের ব্যবহার বা শোষণ নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারবে না। অর্থাৎ তেল উৎপাদন ও রপ্তানির সব দিক সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে থাকবে।
একই সময়ে ট্রাম্প তেল শিল্পের নির্বাহীদের সঙ্গে কথা বলার সময় উল্লেখ করেন যে তারা সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কাজ করবে, ভেনেজুয়েলার সঙ্গে নয়। তিনি স্পষ্ট করে বলেন যে কোনো তেল চুক্তি ভেনেজুয়েলার অনুমোদন ছাড়া হবে।
প্রেসিডেন্টের নির্দেশে জরুরি আদেশ জারি করে যুক্তরাষ্ট্রে থাকা ভেনেজুয়েলা সম্পদ, বিশেষত তেল আয়, আদালত বা ঋণদাতার কাছ থেকে জব্দ থেকে রক্ষা করা হয়েছে। এই পদক্ষেপটি তেল রাজস্বের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছে।
রজার্স আবার উল্লেখ করেন যে এই নীতি পশ্চিম গোলার্ধকে মাদক ব্যবসা, সন্ত্রাসী গোষ্ঠী এবং বিদেশি শত্রুদের শোষণ থেকে রক্ষা করবে। তিনি যুক্তি দেন যে তেল সম্পদে নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে এই হুমকিগুলি কমে যাবে।
বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন যে এই প্রথম বিক্রয় যুক্তরাষ্ট্রের ভেনেজুয়েলা নীতি আরও দৃঢ় করবে এবং অঞ্চলের জ্বালানি গতিবিদ্যায় নতুন ভারসাম্য তৈরি করবে। তেল রপ্তানি ও বিনিয়োগের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
সরকারের সূত্র অনুযায়ী, বিক্রয়ের পরবর্তী ধাপে অতিরিক্ত তেল লেনদেনের পরিকল্পনা রয়েছে, যা কয়েক দিন বা সপ্তাহের মধ্যে বাস্তবায়িত হতে পারে। এই ধাপগুলোতে ক্রেতা ও পরিমাণের বিস্তারিত এখনও প্রকাশিত হয়নি।
সারসংক্ষেপে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম ভেনেজুয়েলান তেল বিক্রয় একটি বড় আর্থিক লেনদেনের সূচনা চিহ্নিত করেছে, যা উভয় দেশের অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিক উন্মোচন করবে। ভবিষ্যতে আরও বিক্রয় ও বিনিয়োগের মাধ্যমে এই সম্পর্কের গভীরতা বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।



