অস্কার জয়ী অভিনেত্রী কেট ব্ল্যাঙ্কেট ইউনিভার্সাল পিকচার্সের ‘হাউ টু ট্রেন ইউর ড্রাগন ২’ লাইভ‑অ্যাকশন রিমেক‑এ ভ্যালকা চরিত্রে পুনরায় উপস্থিত হচ্ছেন। এই প্রকল্পের পরিচালক, লেখক ও এক্সিকিউটিভ প্রোডিউসার হলেন ডিন ডি‑ব্লোয়েস, যিনি প্রথম লাইভ‑অ্যাকশন সংস্করণে ২০২৫ সালের জুনে মুক্তি পেয়ে বিশ্বব্যাপী ৬৩৬ মিলিয়ন ডলার আয় করেন। চলচ্চিত্রটি ২০২৭ সালের ১১ জুন থিয়েটারে আসার নির্ধারিত, যা ভক্তদের জন্য দীর্ঘদিনের অপেক্ষার শেষ চিহ্ন।
ব্ল্যাঙ্কেট পূর্বে অ্যানিমেটেড সিরিজে ভ্যালকা চরিত্রের কণ্ঠস্বর প্রদান করেছেন এবং এখন তিনি প্রথমবারের মতো বাস্তব রূপে এই ভূমিকায় ফিরে আসছেন। গেরার্ড বাটলার, যিনি অ্যানিমেশনে স্টোইক চরিত্রে কণ্ঠ দিয়েছিলেন, তার পর তিনি দ্বিতীয় অভিনেতা যিনি অ্যানিমেশন থেকে লাইভ‑অ্যাকশনে রূপান্তরিত হচ্ছেন। এই রূপান্তরটি ফ্র্যাঞ্চাইজির জন্য নতুন দৃষ্টিকোণ এনে দেবে বলে আশা করা হচ্ছে।
‘হাউ টু ট্রেন ইউর ড্রাগন’ সিরিজটি ক্রেসিডা কোয়েলের বেস্ট‑সেলিং উপন্যাসের উপর ভিত্তি করে তৈরি এবং বিশ্বব্যাপী বিশাল জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। দ্বিতীয় অংশটি ২০১৪ সালে প্রকাশিত একই শিরোনামের বইকে ভিত্তি করে, যেখানে হিকপ (মাসন থেমস) এবং তার ড্রাগন বন্ধুদের নতুন অভিযাত্রা বর্ণিত হয়েছে। হিকপের মা ভ্যালকা এবং তার পিতা স্টোইক দ্য ভাস্টের গল্প এই রিমেক‑এ আরও গভীরভাবে উপস্থাপিত হবে।
চিত্রগ্রহণে মাসন থেমস, নিকো পার্কার, জুলিয়ান ডেনিসন, গ্যাব্রিয়েল হাওয়েল, ব্রনউইন জেমস এবং হ্যারি ট্রেভালডউইনসহ বহু তরুণ প্রতিভা অংশ নেবে। গেরার্ড বাটলারও স্টোইক চরিত্রে পুনরায় উপস্থিত হয়ে ভ্যালকার সঙ্গে স্ক্রিনে মিথস্ক্রিয়া করবেন। এই কাস্টের সমন্বয় ফ্যানদের জন্য এক নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে।
ডিন ডি‑ব্লোয়েসের নেতৃত্বে চলচ্চিত্রের স্ক্রিপ্ট ও দিকনির্দেশনা পূর্বের অ্যানিমেটেড সংস্করণের মূল সত্তা বজায় রেখে আধুনিক সিনেমাটিক উপাদান যুক্ত করেছে। তিনি নিজেই প্রথম লাইভ‑অ্যাকশন সংস্করণের লেখক, পরিচালক এবং এক্সিকিউটিভ প্রোডিউসার ছিলেন, যা তার ধারাবাহিকতা ও গুণগত মান নিশ্চিত করে। তার দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী হিকপের চরিত্রের বিকাশ এবং ড্রাগনদের সঙ্গে মানবজাতির সহাবস্থানের থিমকে নতুনভাবে উপস্থাপন করা হবে।
প্রোডাকশন কাজটি মার্ক প্ল্যাটের প্রোডাকশন হাউস এবং অ্যাডাম সিগেল, মার্ক প্ল্যাট প্রোডাকশনসের প্রেসিডেন্টের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হচ্ছে। ইউনিভার্সাল পিকচার্সের সিনিয়র ভিপি অফ প্রোডাকশন লেক্সি বার্তা পুরো প্রকল্পের তত্ত্বাবধান করছেন, যা সময়সূচি ও বাজেটের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করে। এই দলটির অভিজ্ঞতা ও সমন্বয় চলচ্চিত্রের গুণগত মানকে আরও উঁচুতে নিয়ে যাবে।
ব্ল্যাঙ্কেটের সাম্প্রতিক কাজের মধ্যে রয়েছে স্টিভেন সোডারবার্গের ‘ব্ল্যাক ব্যাগ’, একটি রোমান্টিক স্পাই থ্রিলার, যেখানে তিনি মাইকেল ফ্যাসব্যান্ডার, মারিসা আবেলা এবং নাওমি হ্যারিসের সঙ্গে কাজ করেছেন। এছাড়াও তিনি জিম জারমুশের ‘ফাদার মাদার সিস্টার ব্রাদার’ চলচ্চিত্রের কাস্টের অংশ ছিলেন, যা তার বহুমুখী অভিনয় দক্ষতা প্রদর্শন করে। এই অভিজ্ঞতা তাকে ‘হাউ টু ট্রেন ইউর ড্রাগন ২’ তে নতুন চ্যালেঞ্জের জন্য প্রস্তুত করেছে।
ফ্র্যাঞ্চাইজির প্রথম লাইভ‑অ্যাকশন সংস্করণ ২০২৫ সালে মুক্তি পেয়ে বিশ্বব্যাপী বিশাল সাফল্য অর্জন করেছিল, যা মোট ৬৩৬ মিলিয়ন ডলার আয় করে। এই সাফল্যই ইউনিভার্সালকে সিক্যুয়েল তৈরির সিদ্ধান্তে প্রভাবিত করেছে। নতুন চলচ্চিত্রের বাজেট, ভিজ্যুয়াল ইফেক্ট এবং স্টান্টের মানকে আরও উন্নত করা হয়েছে, যাতে দর্শকরা ড্রাগন ও ভিকিংদের জগতে পূর্ণ ডুবে যেতে পারে।
‘হাউ টু ট্রেন ইউর ড্রাগন ২’ এর গল্পে হিকপের নেতৃত্বে গ্রামবাসীরা ড্রাগনদের সঙ্গে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান গড়ে তোলার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবে। তবে ভ্যালকা চরিত্রের উপস্থিতি পরিবারিক দ্বন্দ্ব ও অতীতের গোপনীয়তা উন্মোচনের নতুন স্তর যোগ করবে বলে অনুমান করা হচ্ছে। এই দিকটি দর্শকদের জন্য আবেগময় ও নাটকীয় মুহূর্ত তৈরি করবে।
চিত্রনাট্যটি মূলত হিকপের বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তার দায়িত্ববোধ ও নেতৃত্বের পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে। ড্রাগনদের সঙ্গে বন্ধুত্বের মাধ্যমে তিনি যে নৈতিক শিক্ষা পেয়েছেন, তা নতুন প্রজন্মের জন্য উদাহরণস্বরূপ উপস্থাপিত হবে। ভ্যালকা ও স্টোইকের অতীতের গল্পও সমান্তরালভাবে বিকশিত হবে, যা পুরো সিরিজের ঐতিহাসিক পটভূমি সমৃদ্ধ করবে।
প্রকাশনা সংস্থা অনুযায়ী, চলচ্চিত্রের পোস্টার ও টিজার ইতিমধ্যে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে ভ্যালকা চরিত্রের নতুন রূপ দর্শকদের মনোযোগ আকর্ষণ করেছে। ভক্তরা বিশেষ করে ব্ল্যাঙ্কেটের অভিনয়শৈলী ও ভিকিং জগতে তার উপস্থিতি নিয়ে উচ্ছ্বসিত। এই উত্তেজনা চলচ্চিত্রের বক্স অফিসে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সামগ্রিকভাবে, ‘হাউ টু ট্রেন ইউর ড্রাগন ২’ লাইভ‑অ্যাকশন রিমেকটি ভিকিং ও ড্রাগন প্রেমিকদের জন্য এক নতুন অভিজ্ঞতা প্রদান করবে। কেট ব্ল্যাঙ্কেটের পুনরায় ভ্যালকা চরিত্রে ফিরে আসা, ডিন ডি‑ব্লোয়েসের সৃজনশীল দিকনির্দেশনা এবং শক্তিশালী কাস্টের সমন্বয় চলচ্চিত্রকে সমালোচক ও দর্শক উভয়ের কাছেই প্রশংসিত করতে পারে। মুক্তির তারিখের কাছাকাছি আরও তথ্য প্রকাশিত হবে।
এই প্রকল্পের সাফল্য ইউনিভার্সাল পিকচার্সকে ভবিষ্যতে আরও ফ্যান্টাসি সিরিজের লাইভ‑অ্যাকশন রূপান্তরে উৎসাহিত করতে পারে। ভিকিং ও ড্রাগন জগতের সমন্বয়, আধুনিক ভিজ্যুয়াল প্রযুক্তি এবং অভিজ্ঞ অভিনেতাদের সমন্বয়ই এই চলচ্চিত্রকে আলাদা করে তুলবে। দর্শকরা ২০২৭ সালের জুনে বড় পর্দায় এই মহাকাব্যিক যাত্রা উপভোগের জন্য অপেক্ষা করতে পারেন।



